বলা হয়, এই দেশের বারোটি তীর্থে দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ রূপে সাক্ষাৎ অবস্থান করেন ভগবান শিব। তাঁকে প্রসন্ন করার জন্য বছরে সর্বাধিক পুণ্যময় তিথিটি হল মহাশিবরাত্রি। তবে, এই দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ বারোটি রাশিকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই জন্মদিন মিলিয়ে রাশি অনুযায়ী কার কোন জ্যোতির্লিঙ্গের আরাধনা করা প্রশস্ত, কোন মন্ত্রেই বা স্মরণ করা কর্তব্য দেবাদিদেবকে, দেখে নেওয়া যাক এক এক করে!

মেষ (Aries): এই রাশির অধিপতি গুজরাতের সোমনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের সোমনাথকে স্মরণ করে হ্রীং ওম নমঃ শিবায় হ্রীং মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে গঙ্গাজলে অভিষেক করাতে হবে।

বৃষ (Taurus): এই রাশির অধিপতি অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীশৈলমের মল্লিকার্জুন জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের মল্লিকার্জুনকে স্মরণ করে ওম নমঃ শিবায় মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে গঙ্গাজলে অভিষেক করাতে হবে।

মিথুন (Gemini): এই রাশির অধিপতি মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীর মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের মহাকালেশ্বরকে স্মরণ করে ওম নমঃ ভগবতে রুদ্রায় মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে গঙ্গাজলে অভিষেক করাতে হবে।

কর্কট (Cancer): এই রাশির অধিপতি মধ্যপ্রদেশের খান্ডওয়ার ওঙ্কারেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের ওঙ্কারেশ্বরকে স্মরণ করে ওম হুং জুং স্বাঃ মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে পঞ্চামৃত অর্থাৎ দুধ, দই, ঘি, মধু এবং চন্দনে অভিষেক করাতে হবে।

সিংহ (Leo): এই রাশির অধিপতি ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের বৈদ্যনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের বৈদ্যনাথকে স্মরণ করে মহা মৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র (ওঁ ত্র্যম্বকম যজামহে সুগন্ধিম পুষ্টিবর্ধনম্। উর্বারুকমিব বন্ধনান্ মৃত্যৌর্মুক্ষীয় মামৃতাত্।।) পাঠ করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে গঙ্গাজলে অভিষেক করাতে হবে। পূজা করতে হবে সাদা ফুল দিয়ে।

কন্যা (Virgo): এই রাশির অধিপতি মহারাষ্ট্রের পুণের ভীমাশঙ্কর জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের ভীমাশঙ্করকে স্মরণ করে ওম নমঃ ভগবতে রুদ্রায় মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে দুধ এবং ঘি দিয়ে অভিষেক করাতে হবে। পূজা করতে হবে সাদা ফুল দিয়ে।

তুলা (Libra): এই রাশির অধিপতি তামিলনাড়ুর রামেশ্বরমের রামেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের রামেশ্বরকে স্মরণ করে ওম নমঃ শিবায় মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে সাদা বাতাসা মিশ্রিত দুধ দিয়ে অভিষেক করাতে হবে। পূজা করতে হবে আখ নৈবেদ্য দিয়ে।

বৃশ্চিক (Scorpio): এই রাশির অধিপতি গুজরাতের দ্বারকার নাগার্জুন রামেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের নাগার্জুনকে স্মরণ করে হ্রীং ওম শিবায় হ্রীং মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে দুধ দিয়ে অভিষেক করাতে হবে। পূজা করতে হবে চাল, বেল পাতা, গাঁদা ফুল দিয়ে।

ধনু (Sagittarius): এই রাশির অধিপতি বারাণসীর কাশী বিশ্বনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের কাশী বিশ্বনাথকে স্মরণ করে শিবগায়ত্রী মন্ত্রে (তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি। তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।) উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে কেশর মিশ্রিত গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করাতে হবে।

মকর (Capricorn): এই রাশির অধিপতি মহারাষ্ট্রের নাসিকের ত্র্যম্বকেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের ত্র্যম্বকেশ্বরকে স্মরণ করে ওম নমঃ শিবায় মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে গুড় মিশ্রিত গঙ্গাজল দিয়ে অভিষেক করাতে হবে। পূজা করতে হবে নীল ফুল, ধুতুরা ফুল দিয়ে।

কুম্ভ (Aquarius): এই রাশির অধিপতি উত্তরাখণ্ডের কেদারনাথ জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের কেদারনাথকে স্মরণ করে ওম নমঃ শিবায় মন্ত্রে উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে পঞ্চামৃত দিয়ে অভিষেক করাতে হবে। পূজা করতে হবে পদ্ম ফুল দিয়ে।

মীন (Pisces): এই রাশির অধিপতি মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদের ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ। তাই যাঁরা তীর্থে যেতে পারছেন না, তাঁদের ঘৃষ্ণেশ্বরকে স্মরণ করে শিবগায়ত্রী মন্ত্রে (তৎপুরুষায় বিদ্মহে মহাদেবায় ধীমহি। তন্নো রুদ্রঃ প্রচোদয়াৎ।) উপাসনা করা উচিৎ। পাশাপাশি, শিবলিঙ্গকে কেশর মিশ্রিত দুধ দিয়ে অভিষেক করাতে হবে। পূজা করতে হবে সাদা ফুল এবং বেল পাতা দিয়ে।

newa18 হতে সংগৃহিত