রাধাষ্টমী ব্রত বাংলা হিন্দু সমাজের মেয়েলি ব্রত গুলির অন্তর্গত একটি ব্রত। বাঙালি হিন্দু ঘরের মহিলারা সংসারের সুখ শান্তি ও মঙ্গল কামনায় এই ব্রত পালন করেন। এটি ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে শ্রীরাধিকার পূজার অংশ হিসেবে পালন করা হয়।

রাধাষ্টমী ব্রত পালনের প্রথম পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উপকরণ অর্থাত্‍ ফুল, আতপ চাল, সিদ্ধ চাল এবং নৈবেদ্য হিসাবে আট রকমের ফল সংগ্রহ করতে হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ের সারাদিন উপবাসী থেকে উপকরণগুলো দিয়ে রাধা ও অষ্টসখীর পূজা এবং পৃথকভাবে বৃষভানু ও নন্দরাজার পূজা করতে হয়। ব্রতের পরেরদিন ব্রাম্ভন ও বৈষ্ণবদের ভোজন করিয়ে ব্রত সমাপন করা হয়।

  • শ্রীমতি রাধারানী ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে মধ্যাহ্ন কালে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সেইজন্য ভক্তবৃন্দ প্রতিবছর ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে এই দিনটিকে রাধাষ্টমী হিসেবে পালন করেন। কেউ যদি একবার রাধাষ্টমী ব্রত পালন করেন তাহলে তার জন্মজন্মান্তরের যে অর্জিত পাপরাশি আছে তা বিনষ্ট হবে।
  • শাস্ত্রে বলা হয়েছে এক রাধাষ্টমী ব্রত হচ্ছে লক্ষাধিক একাদশী ব্রতের সমান।
  • শাস্ত্রে আরো বলা হয়েছে একবার রাধাষ্টমী পালন করলে, সমস্ত নদীতে স্নান করলে যে পূন্য পাওয়া যায় তার সমান পূন্য লাভ করবেন।
  • এক পর্বতসমান স্বর্ণ দান করলে যে ফল লাভ হতে পারে রাধাষ্টমী ব্রত পালন করলে আপনি সেই পরিমাণ ফল লাভ করবেন।
  • রাধা হলেন কৃষ্ণের পরম প্রেয়সী। শ্রীকৃষ্ণ রাধারানীর দ্বারা আকর্ষিত হন। রাধারানীর আরেক নাম মদনমোহন মোহিনী। রাধার দেহ নির্গত ঘ্রাণ দ্বারা শ্রীকৃষ্ণ আকৃষ্ট হয়েছেন। শাস্ত্রে আছে কেউ যদি কৃষ্ণের পরম প্রেম লাভ করতে চান, তো অবশ্যই রাধারাণী কে সন্তুষ্ট করতে হবে।
  • রাধারানীর জন্ম যেহেতু মধ্যাহ্নে। তাই এই ব্রতটি বারোটা পর্যন্ত হয়ে থাকে। বারোটা পর্যন্ত উপবাস করে তারপরে ভোগ নিবেদন করতে হয়।
  • এর পরে রাধারানীর উপরে শ্লোক ভজন গান গেয়ে রাধারাণী কে সন্তুষ্ট করবেন। প্রসাদ হিসাবে দুধের উপাদান দিলে ভালো হয়। প্রসাদ দেওয়ার পরে প্রসাদ এর উপরে অবশ্যই তুলসীপাতা রাখবেন।

এ দিন হিন্দু বাঙ্গালীদের ঘরে ঘরে এবং মায়াপুরের ইসকন মন্দির সেজে উঠে রাধাষ্টমী পূজা পালনে। ভজন গান এবং রাধাকৃষ্ণের পুজোয় ভরে উঠবে পুরো ইসকন মন্দির।জন্মাষ্টমী যেরকম ভাবে পালিত হয় রাধাষ্টমী অনুরূপভাবেই পালন করা হয়। পুরুষ-নারী তিলক কেটে ঢোল বাজিয়ে তারা সংকীর্তন করেন।

ডেইলিহান্ট