আগের পর্ব গুলুতে আমরা দেখেছিলাম ২৭০ টি ঋণ। চলুন এ পর্বে দেখে নিই বাকি ঋণগুলো যা সন্তান মোচন করে অশৌচ পালনের মাধ্যমে-

২৭১) নাতি নাতনীর সাথে খেলা।
২৭২) নাতি নাতনীর সময় কাটানো,
২৭৩) উভয়কে যত্ন নেওয়া,
২৭৪) উভয়ের মনোরঞ্জন করা,
২৭৫) উভয়কে নানা খেলনা এনে দেওয়া,
২৭৬) নাতি নাতনীর জন্য মঙ্গল চিন্তা,
২৭৭) নাতি নাতনীর জন্য নানা দ্রব্য আনয়ন ও রন্ধন,
২৭৮) নানা দুশ্চিন্তা করা,
২৭৯) নানা চিন্তায় রাত্রি জাগরণ,
২৮০) নানা চিন্তায় খারাপ স্বপ্নে ভয় পাওয়া,
২৮১) অলীক কল্পনায় ভীত হওয়া,
২৮২) নানা ভাবে আনন্দ দেওয়া,
২৮৩) সময় কাটানো,
২৮৬) রূপকথা শোনানো,
২৮৭) যত্ন করা,
২৮৮) উত্তম ভেষজ তেল সংগ্রহ,
২৮৯) কবিরাজকে দক্ষিণা ও তেল মর্দন,
২৯০) উত্তম গো দুধের আয়োজন,
২৯১) উত্তম গোমাতা আনয়ন ও সেবা,
২৯২) উত্তম গো দুগ্ধের জন্য গোমাতার সেবা,
২৯৩) গো মাতার দুধ দোয়ানো,
২৯৪) নাতি নাতনী মুখে ভাত অনুষ্ঠান করা/ হাজির থাকা,
২৯৫) নাতি নাতনীর সুখ্যাতি করা,
২৯৬) নাতি নাতনীকে নিয়ে পাড়া বেড়ানো,
২৯৭) বৌমা/ জামাতার প্রশংসা,
২৯৮) বৌমা/ জামাতার বংশের সুখ্যাতি,
২৯৯) উভয়ের কুল নিয়ে গর্ব,
৩০০) উভয়ের কর্মের প্রশংসা ।

এবার দেখা যাক পিতা মাতার বংশে কিছু ঋন থাকে।

৩০১) পিতা/ মাতার বংশ ভূমিকা,
৩০২) উত্তম সন্তান সন্ততি জন্মের সুকৃতি,
৩০৩) উভয়ের বংশে গুরুদেবের ভূমিকা,
৩০৪) উভয়ের ঈশ্বর ভক্তি,
৩০৫) মাতার ক্ষেত্রে কুমারী কালে পুণ্যিপুকুর ব্রত,শিবরাত্রি, গোসেঁজুতি ব্রত, তুষ তুষালী ব্রত, সন্ধ্যামণির ব্রত করা/ পিতার ক্ষেত্রে ঈশ্বর ভক্তি,
৩০৬) উভয়ের ঈশ্বর ভক্তি। কারণ ঈশ্বর ভক্তি না থাকলে সুসন্তান সন্ততির জনক জননী হওয়া সম্ভব না,
৩০৭) উভয়ে গুরু কুলের ঋন,
৩০৮) পরম গুরুর ঋন,
৩০৯) পরমেষ্ঠী গুরুর ঋন,
৩১০) পরাপর গুরুর ঋন,
৩১১) গুরু পরম্পরার ঋন,
৩১২) গুরু সম্প্রদায়ের ঋন,
৩১৩) গুরুকূলের ঋন,
৩১৪) উত্তম শাস্ত্র শ্রবণে উত্তম হওয়ার ঋন,
৩১৫) উভয়ের কুলদেবতা/ কুলদেবীর ঋন,
৩১৬) উভয়ের গ্রাম দেবতা/ দেবীর ঋন,
৩১৭) উভয়ের বাস্তুপুরুষের ঋন,
৩১৮) উভয়ের ইষ্ট দেব/ দেবীর ঋন,
৩১৯) উভয়ের তীর্থ যাত্রার ঋন,
৩২০) উভয়ের সাধু সেবার ঋন,
৩২১) উভয়ের সাধুকে দানের ঋন,
৩২২) উভয়ের ভিক্ষুক ঋন,
৩২৩) উভয়ের পিতৃপুরুষের ঋন,
৩২৪) উভয়ের বাড়ীর অন্ন শস্য- যা গ্রহণে তারা নিজেদের সন্তানের জন্মের উপযুক্ত করেছেন তার ঋন,
৩২৫) উভয়ের দেহে অবস্থিত শক্তির ঋন,
৩২৬) উভয়ের বৃদ্ধির ঋন,
৩২৭) উভয়ের বিবাহ ঋন,
৩২৮) উভয়ের বিবাহের সম্বন্ধ ঘটকের ঋন,
৩২৯) উভয়ের বিবাহে ব্রাহ্মণের ঋন,
৩৩০) উভয়ের পোষ্য জীবজন্তু যেমন কুকুর বিড়াল গোমাতার ঋন,
৩৩১) পোষ্যদের আহার দেওয়ার ঋন,
৩৩৩) পোষ্যদের জল দেওয়ার ঋন,
৩৩৪) অভুক্তকে আহার দেওয়ার ঋন,
৩৩৫) তৃষ্ণার্ত কে জল দেওয়ার ঋন,
৩৩৬) পুকুর ঘাটে স্নানে বরুণ দেবতার ঋন,
৩৩৭) গঙ্গা স্নানে পুণ্যফল নেওয়ার ঋন,
৩৩৮) অগ্নির ঋন,
৩৩৯) শ্বাস গ্রহণে পবন দেবতার ঋন,
৩৪০) ভাগ্যচক্রে উভয়ের নবগ্রহের ঋন,
৩৪১) শাস্ত্র শ্রবনে নিজেদের উন্নতির ঋন,
৩৪২) তীর্থে দেবদর্শনে সুসন্তান পাওয়ার ঋন,
৩৪৩) বিভিন্ন পূজার ঋন,
৩৪৪) সন্তান ধারণের জন্য দেহ গঠনের ঋন,
৩৪৪) বিবাহ করা,
৩৪৫) দাদুদিদা বা ঠাকুরদা/ ঠাকুমার ঋন,
৩৪৬) তাহাদের যাবতীয় কর্মের ঋন,
৩৪৭) পূর্বপুরুষদের কৃৎ কর্মের ঋন,
৩৪৮) সূর্য দেবতার ঋন,
৩৪৯) মা ষষ্ঠীর ঋন,
৩৫০) মা অন্নপূর্ণার ঋন,
৩৫১) পিতার মধ্যে অবস্থিত জগতপিতা মহাদেবের ঋন,
৩৫২) মাতার মধ্যে অবস্থিত জগতজননী মা পার্বতীর ঋন,
৩৫৩) উভয়ের বাৎসল্যের ঋন,
৩৫৪) নতুন সংসারের ঋন,
৩৫৪) সোনাবলী দেবীর ঋন,
৩৫৫) সন্তান জন্মের ক্ষমতার ঋন,
৩৫৬) সন্তানকে হাটা চলা শেখানো,
৩৫৭) তুলসী দেবীর ঋন,
৩৫৮) দুই পক্ষের ঋন শুক্ল ও কৃষ্ণ পক্ষ,
৩৫৯) পুত্র হলে গোপালের ঋন/ কন্যা জন্মে মা লক্ষ্মীর ঋন,
৩৬০) পিতামাতার মধ্যে অবস্থিত খাদ্যরূপী ব্রহ্মের ঋন,
৩৬১) শ্মশান ঋন,
৩৬২) পঞ্চভূতের ঋন,
৩৬৩) শ্মশান ভৈরবের ঋন,
৩৬৪) শ্মশান অবস্থিত দেবীর ঋন,
৩৬৫) মুক্তির জন্য শাস্ত্র বিহিত কর্মের ঋন।

এই ৩৬৫ ঋণের জন্যই কোন ম্যক্তিমারা গেলে তার সন্তান সন্ততিরা ১ বছর অশৌচ বা কাল অশৌচ পালন করে। এক বছর পর শুদ্ধ হয়ে বৈদিক কার্যের জন্য সুযোগ প্রাপ্ত হয়।

তথ্যসূত্র:- বিধিবিধান ও সংস্কার – শ্রী ব্রজেশ্বর চক্রবর্তী
পোষ্ট কৃতজ্ঞতাঃ সনাতনভাবনা