আমরা জানি আমাদের এই সূর্যসিদ্ধান্ত মতে বছরে ৩৬৫ দিন। যখন মানুষ মারা যায় তখন সেটাকে সপিন্ড অশৌচ বলা হয়। আবার এই অশৌচ শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ আদ্যশ্রাদ্ধ শেষ হওয়ার পরও পরবর্তী ১ বছরে কোন ধর্মীয় কাজ করা যায় না।

এ অশৌচকে কাল অশৌচ বলা হয়। কাল অশৌচ শুধুমাত্র মৃতব্যক্তির সন্তান পালন করে থাকে। মানব জন্মের পর আমরা সবাই বিভিন্ন ভাবে ঋণগ্রস্ত হয়ে থাকি সেটা আর্থিক হোক বা সেটা অন্যকিছুর জন্য।

যদি কোন পারমার্থিক কিছুর জন্য ঋণগ্রস্ত হই তাহলে সেটাও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা এটার ঋণমুক্ত হতে পারি। কিন্তু এ জগৎ সংসারে এমন কিছু বিষয় আছে যা কখনোই শোধ করা যাবে না।

তারমধ্যে প্রধান হল মাতার সুচাগ্র স্তন্যদুগ্ধ পান ও পিতার সূচাগ্র ঘর্মের ঋন। এই দুই ঋণ মোচন করা স্বয়ং ত্রিদেবেরও অসাধ্য। ৩৬৫ ঋন শোধ হয়। এই ঋন শোধ না হলে সেই সন্তানেরা পূজা অর্চনা আদি বৈদিক কাজের যোগ্য হয় না।

চলুন দেখে নিই এই ৩৬৫ ঋনগুলো কি কি-

১) জন্মদান,
২) মাতার গর্ভে ধারন/ পিতার বীজ স্থাপন,
৩) গর্ভকালীন কষ্ট/ পিতার গর্ভকালীন মাতাকে দেখাশোনা,
৪) গর্ভকালীন চিন্তা,
৫) শিশুর মঙ্গলের জন্য ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা,
৬) আগলে রাখা,
৭) শিশুর মঙ্গলের জন্য ব্রত করা,
৮) শিশুর কল্যাণে সাধু সেবা,
৯) শিশুর কল্যাণে মন্দির যাত্রা,
১০) উত্তম শিশু লাভের জন্য তীর্থ যাত্রা,
১১) শিশুর কল্যাণে দান করা,
১২) নিজের সুখ সুবিধা বর্জন করা,
১৩) গর্ভস্থ শিশুর সঞ্চালন সহ্য করা / পিতার ক্ষেত্রে রাত্র জাগরণ করত মাতাকে সান্ত্বনা দেওয়া,
১৪) শিশুর জন্য অমঙ্গলের আশায় ভীত হওয়া,
১৫) দাই আনা বর্তমানে চিকিৎসক হাসপাতাল,
১৬) অসহ্য গর্ভ যন্ত্রনা / পিতার ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা,
১৭) নাড়ীচ্ছেদনের কষ্ট / পিতার ক্ষেত্রে কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিক নিয়ন্ত্রন রাখা,
১৮) দাইয়ের খরচ বর্তমানে হাসপাতালের খরচ,
১৯) শিশুকে স্তন্য পান / পিতার ক্ষেত্রে উত্তম স্তন্যদুগ্ধের জন্য মাতাকে উত্তম ভোজন প্রদান,
২০) আতুর ঘর নির্মাণ / মাতার ক্ষেত্রে আতুর ঘরে কাঁথা বিছানো,
২১) আতুর ঘর নির্মাতা ঘরামি কে অর্থ প্রদান / মাতার ক্ষেত্রে উত্তম আতুর ঘর নির্মাণ কিনা পরীক্ষা করা,
২২) আতুর ঘরে রাত জেগে প্রহরা,
২৩) শৃগাল- কুকুর- মশক- মক্ষী বিতরণ,
২৪) পিতার পুত্রের মুখ দেখার ব্যাকুলতা, মাতার ক্ষেত্রে পুত্রকে প্রহরা একপাশে থেকে পীঠ ব্যাথা উপেক্ষা করে,
২৫) পিতার দোলনা নির্মাণে খরচ / মাতার দোলনা তে দোলা তে দেওয়া,
২৬) মাতা পিতার আদর,
২৭) মাতার ঘুমপাড়ানি সঙ্গীত / পিতার বাৎসল্য বশতঃ “খোকা-খুকী” বলে সম্বোধন,
২৮) মাতার স্তন্যে শিশুর কামড় দেওয়ার যন্ত্রনা সহ্য / পিতার ক্ষেত্রে ক্রোড়ে মল মূত্র ত্যাগ করা সহ্য করা,
২৯) সন্তানকে বড় করা / পিতার সংসার চালানো,
৩০) সন্তানের সজ্জা করা / পিতার খরচ,
৩১) দুজনের চোখের মণি হয়ে থাকা,
৩২) সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা,
৩৩) ক্রীড়াচ্ছলে আঘাতপ্রাপ্ত হলে মাতা- পিতার চিন্তা,
৩৪) আঘাতের পর মাতা পিতার দুঃখ,
৩৫) মাতার উৎকণ্ঠা পিতার চিকিৎসক খরচা,
৩৬) উভয়ে মিলে যত্ন করা,
৩৭) ষষ্ঠী আদি মঙ্গল ব্রতে মায়ের উপোবাস ও পিতার পূজার দ্রব্যের আয়োজন করা,
৩৮) অন্নপ্রাশনে উভয়ের দায়িত্ব ও ব্রাহ্মণকে দক্ষিণা দানে সন্তুষ্ট করা,
৩৯) দশবিধ সংস্কারে উভয়ের দায়িত্ব,
৪০) হাতে খড়িতে উভয়ের ভূমিকা,
৪১) পিতার, সরস্বতী পূজার আয়োজন – মাতার সেই পূজায় জোগারযন্ত্র যেমন নৈবদ্য- আল্পনা- পূজা দ্রব্য সাজানো,
৪২) মাতা পিতাই প্রথম বিদ্যা দেন,
৪৩) মাতার বিদ্যা বিষয়ে উৎকণ্ঠা ও পিতার উপযুক্ত গুরু পাঠশালা বর্তমানে স্কুল ও শিক্ষক অন্বেষণ,
৪৪) উপযুক্ত স্কুলে ভর্তি হবার উৎকণ্ঠা,
৪৫) বিদ্যা বিষয়ে পিতার খরচা ও মাতার যত্ন,
৪৬) শিক্ষার মান নিয়ে উভয়ের দুশ্চিন্তা,
৪৭) পরীক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা,
৪৮) বিদ্যার্থীর খারাপ ফলে প্রতিবেশীদিগের গঞ্জনা খোঁটা সহ্য করা,
৪৯) পুত্রের মঙ্গল নিমিত্ত শাসন,
৫০) পুত্রকে সঠিক দিশা দেখানো।
৫১) অসৎ সঙ্গ থেকে চিন্তা,
৫২) অসৎ সঙ্গ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য উভয়ের শাসন,
৫৩) উভয়ের সঠিক দিশা দেখানো,
৫৪) সন্তানের অসুখে দুশ্চিন্তা,
৫৫) মাতার উৎকণ্ঠা ও পিতার চিকিৎসক পথ্যের খরচ,
৫৬) উভয়ের রাত্রি জাগরণ করত নিদ্রা বিসর্জন,
৫৭) উভয়ের বার ব্রত ঈশ্বরের কৃপার জন্য কৃচ্ছতা গ্রহণ,
৫৮) মাতার পথ্য রন্ধন/ পিতার সেগুলির জোগার,
৫৯) সন্তানের বমন- পূরীষ পরিষ্কার / পিতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের বিধান মাতাকে শেখানো,
৬০) সন্তানকে আশ্বাস দেওয়া,
৬১) অসুখ অন্তে সন্তানকে শাসন ও যত্নে রাখা,
৬২) পুনঃ অসুখের আশাঙ্কায় চিন্তিত হওয়া,
৬৩) উচ্চ শিক্ষার জন্য উচ্চতর টোলে / বর্তমানে আরোও বড় শিক্ষালয়ে প্রেরন,
৬৪) তত প্রেরনের জন্য নানা দুশ্চিন্তা,
৬৫) পিতার উৎকণ্ঠা ও মায়ের উৎকণ্ঠা,
৬৬) মাতার উপদেশ ও পিতার সেই সংক্রান্ত খরচা,
৬৪) উচ্চ শিক্ষালয়ে সহপাঠী হতে খতির আশাঙ্কা,
৬৫) কষ্ট মনে চেপে শিক্ষালয়ে প্রেরণ,
৬৬) সন্তানের জন্য বুকে কম্পন,
৬৭) সন্তানের জন্য বিবিধ রান্না / পিতার ক্ষেত্রে সেগুলো ক্রয় করা,
৬৮) মাতার খাদ্য পরিবেশন / পিতার ক্ষেত্রে সন্তানকে উত্তম দ্রব্য প্রদানের জন্য মাতাকে অনুরোধ।
৬৯) পুত্রকে বাতাস দেওয়া / পিতার ক্ষেত্রে পুত্রকে উত্তম দ্রব্য বেশী পরিমাণে গ্রহণের জন্য অনুরোধ,
৭০) দুজনের নিকট গল্প আখ্যান শোনা,
৭১) পিতামাতার সাথে বেড়ানো,
৭২) ভ্রমণকালে পিতামাতার যত্ন পাওয়া,
৭৩) ভ্রমণে পিতার খরচ ও মাতার ক্ষেত্রে পরিপাটি করে সন্তানকে সাজানো,
৭৪) পিতা মাতার ক্রোড়ে চড়ে পরিভ্রমণ,
৭৫) খুব কষ্টে পিতামাতা হাসিমুখে সন্তানকে ক্রোড়ে নিয়ে যাত্রা করা যেমন প্রবল গরমে,
৭৬) পিতার ক্ষেত্রে সন্তানের মাথায় ছত্র ধরা, মাতার ক্ষেত্রে আঁচল ।
৭৭) মাতার ক্ষেত্রে সন্তানকে স্নান – শৌচাদি করানো / পিতার ততবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া ।
৭৮) দোকান হতে উত্তম আহার্য ক্রয় করা / মাতার ক্ষেত্রে শিশুর মুখে তুলে দেওয়া ।
৭৯) পিতার সাথে মেলা ভ্রমণ / মাতার কেশ বিন্যাস ও বস্ত্র বিন্যাস করা ।
৮০) নিজের কথা ভুলে সন্তানের হাত ধরে চলা,
৮১) কঠিন জায়গায় ক্রোড়ে লয়ে চলা,
৮২) কঠিন জায়গা চলার সময় চরণে কাঁদা, গরম ভাব, কণ্টক বিদ্ধ হবার কষ্ট গ্রহণ করা,
৮৩) অভাবেও সন্তানকে আহার দেওয়া,
৮৪) অভাব বুঝতে না দেওয়া,
৮৫) নিজেদের অভাব শর্তেও উত্তম খাদ্য দেওয়া,
৮৬) অভাবে সন্তানের যত্ন নেওয়া,
৮৭) কেশ বিন্যাস ও বস্ত্রের জোগান অভাবেও করা,
৮৮) অভাব বুকে চেপে রাখার বেদনা,
৮৯) নিজেরা ক্ষুধায় থাকে,
৯০) নিজেদের নতুন বস্ত্রের কথা ভুলে যাওয়া,