বৈদিক পঞ্জিকা অনুযায়ী, একটি চান্দ্র দিনকে তিথি বলে। চাঁদ ও সূর্যের মধ্যে ১২ ডিগ্রি দ্রাঘিমাকোণ বৃদ্ধির সময়কে একটি তিথির সময়কাল ধরা হয়। তিথির সূচনার সময় দিন অনুযায়ী বদল হয় এবং তিথির মোট সময়কাল অনেকক্ষণ ধরে ব্যাপ্ত থাকে।

প্রতিপদ বা প্রথমা হল পক্ষের প্রথম তিথি। শুক্লপক্ষের প্রতিপদ শুক্লা প্রতিপদ এবং কৃষ্ণপক্ষের প্রতিপদ কৃষ্ণা প্রতিপদ নামে পরিচিত। কার্তিক মাসের শুক্লা প্রতিপদ তিথিতে উত্তর গোবর্ধন পূজা ও অন্নকূট উৎসব হয়। অন্ন+কূট শব্দের অর্থ অন্নকূট অর্থাৎ অন্নের পাহাড়।

যা আসল পুরাণ শ্রীমদ্ভগবতে বিধৃত লীলাদির প্রভূত রস আস্বাদন করেছেন বৈষ্ণব আচার্যগণ। লীলাপুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভৌম লীলায় অনেক চমকপ্রদ লীলা প্রদর্শন করেন।

শ্রীল জীব গোস্বামী তার গোপাল চম্পু গ্রন্থে নন্দ মহারাজের বক্তব্য হচ্ছে,  “বৈশ্য গোপ জাতি। কৃষি এবং গো-পালন আমাদের জীবিকা। গো-পালনের জন্য আমাদের ঘাসের প্রয়োজন। চাষের জন্য বৃষ্টি চাই।”

শিশু কৃষ্ণ ও গিরিরাজ গোবর্ধনঃ

শ্রীচৈতন্যচরিতামৃতে বলা হয়েছে যে, দৃঢ বিশ্বাসের সঙ্গে কৃষ্ণভক্ত জানেন যে, ভক্তিসহকারে শ্রীকৃষ্ণের সেবা করা হলে আর কোন কিছুই করণীয় থাকে না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুদ্ধ ভক্তকে কোন রকম বৈদিক শাস্ত্র নির্দেশ অনুসারে কোন আচার-অনুষ্ঠান করতে হয় না।

অথবা কোন দেব-দেবীর পূজা করতে হয় না। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হওয়ার ফলে তিনি সব রকমের বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান ইতিমধ্যেই সম্পন্ন করেছেন এবং তাঁর সমস্ত দেব-দেবীর পূজা করা হয়ে গেছে।

বৈদিক শাস্ত্রনির্দেশ অনুসারে বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান করে অথবা দেব-দেবীর পূজা করে শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তিলাভ হয় না, কিন্তু কেউ যখন সম্পূর্ণভাবে শ্রীকৃষ্ণের সেবায় যুক্ত হন, তখন সমস্ত বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান আপনা থেকেই সম্পাদিত হয়ে যায়।

এ কথার আলোকে শরতের ঠিক মাঝামাঝি কার্তিক মাস, এ সময় ব্রজবাসীরা এক বিশেষ অনুষ্ঠানের অয়োজন করে। যা গোবর্দ্ধন পূজা ও অন্নকূট মহোৎসব নামে খ্যাত। আজ গোবর্দ্ধন পূজা অন্নকুট মহোৎসব।

অন্নকূট প্রধানত বৈষ্ণবদের উৎসব হলেও অনেক শাক্ত পরিবারে ও মন্দিরে এর চল আছে। শ্রীমদ্ভগবত গীতার দশম স্কন্ধের নবম ও দশম অধ্যায়ে লীলা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত বশ্যতা স্বীকার স্বরূপ দাস বন্ধন লীলা বর্ণিত হয়েছে। এ পুজোর পিছনে রয়েছে এক পৌরাণিক কাহিনি।

বৃন্দাবনবাসীরা ৫৬ রকম পদের ভোগ দিয়ে বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্রের পুজো করত। বৈদিক যজ্ঞ অনুষ্ঠান-পরায়ণ ব্রাহ্মণপত্নীদের কৃপা করার পর, কৃষ্ণ ও বলরাম একদিন দেখলেন যে, গোপেরা দেবরাজ ইন্দ্রের সন্তুষ্টিবিধানের জন্য সেই রকমই এক যজ্ঞের আয়োজন করছেন।

শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ভক্তদের এই ধরনের সমস্ত কার্যকলাপ বন্ধ করতে আদেশ দিলেন, কেননা তিনি বৃন্দাবনে প্রকটকালে অত্যন্ত দৃঢতার সঙ্গে তাঁর প্রতি অনন্য ভক্তি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

গোপেরা যে ইন্দ্রযজ্ঞের আয়োজন করেছিল, তা শ্রীকৃষ্ণ তা জানতে পেরেছিলেন, কেননা তিনি হচ্ছেন সর্বদ্রষ্টা। কিন্তু সৌজন্যতার বশে তিনি শ্রদ্ধা সহকারে এবং বিনম্রভাবে মহারাজ নন্দ এবং অন্যান্য বয়স্ক গোপদের জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন যে, কিসের আয়োজন করা হচ্ছে।

সোর্সঃ ইন্টারনেট এর বিভিন্ন মাধ্যম