পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যখন বৃন্দাবনের গোপেদের উপদেশ দিলেন ইন্দ্রযজ্ঞ বন্ধ করে গোর্বধন পূজা শুরু করতে তখন স্বর্গের রাজা দেবতা ইন্দ্র রেগে গেলেন। এবং বৃন্দাবনের উপরে মুষলধারে বর্ষণ করেন। তখন সবাই শ্রীকৃষ্ণ কে দোষারোপ করা শুরু করলেন। কেন যে এই ছোট বয়সের এক ছেলের কথা তাঁরা শুনলেন এবং দেবরাজ ইন্দ্রের ক্ষোভের সম্মুখীন হলেন!!!

শ্রীকৃষ্ণের বয়স ছিল ন্যুনধিক তিন বছর চার মাস। প্রবল বর্ষণের ফলে সম্পূর্ণ বৃন্দাবন পানির নিচে তলিয়ে যায়। তখন শ্রী কৃষ্ণ গিরিরাজ গোবর্ধন কে প্রণাম করে সহায়তা চাইলেন। এবং বৃন্দাবনবাসীদের ওই বিপদ থেকে রক্ষার জন্য কৃষ্ণ গোবর্ধন পর্বতকে বৃন্দাবনের উপরে ছাতার মতো করে ধরে থাকেন।

তখন ইন্দ্র ও শ্রী কৃষ্ণের মধ্যে যুদ্ধারম্ভ হল। যুদ্ধে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নিকট দেবরাজ ইন্দ্র পরাজিত হন। অহংকারী ইন্দ্ররাজ লজ্জিত হয়ে শ্রীকৃষ্ণ পদে আত্মনিবেদন করলেন। তার পর থেকে কৃষ্ণের নির্দেশে বৃন্দাবনবাসী কার্তিক মাসে অমাবস্যার পরদিন ‘গিরি গোবর্ধন’-এর পুজো আরম্ভ করে। সেই পুজোই অন্নকূট উৎসব।

ইতিহাসঃ

কলকাতার অনেক মন্দির ও পরিবারে অন্নকূট উৎসব হয়। সেগুলির মধ্যে সব থেকে বড় উৎসব হয় বাগবাজারের মদনমোহন মন্দিরে। বাগবাজার-কুমোরটুলি এলাকার মদনমোহনতলা অঞ্চলে মদনমোহন ঠাকুরবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা গোকুলচন্দ্র মিত্র।

১৭৬১তে গোকুলচন্দ্র তাঁর এক বিঘারও বেশি জায়গা নিয়ে তৈরি বাড়ির দোতলায় কুলদেবতা ‘মদনমোহন’-এর জন্য ‘দরবার কক্ষ’ (মন্দির) তৈরি করলেন। একতলায় তৈরি হল ঠাকুরদালান ও নাটমন্দির।

কার্তিক মাসের শুক্লা-প্রতিপদ তিথিতে নাটমন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় অন্নকূট উৎসব। প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম চালের ভাত-সহ ১৫৭ রকম পদ তৈরি হয়। পুজো শেষে ভক্তদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয় ওই অন্নভোগ।

সোনারপুর খড়িগাছি অঞ্চলের ঊনপঞ্চাশ বছরের প্রাচীন কালী শিবগুরু মঠেও অনুষ্ঠিত হয় অন্নকূট উৎসব। উৎসবের দিন পিতলের পরাতে প্রায় আড়াই মণ চালের ভাত দেওয়া হয় ভোগ হিসেবে। চুড়ো করে সাজানো ভাতের গায়ে সব্জি দিয়ে কালীর মুখ আঁকা হয়।

সঙ্গে থাকে ১৫৫ রকম নিরামিষ পদ। প্রায় পঁচিশ বছর আগে শ্যামপুকুরের বলরাম ঘোষ স্ট্রিটের বাড়িতে অন্নপূর্ণা মূর্তি ও শ্রীধর (শালগ্রাম শিলা) স্থাপন করেন ভূপতি ভট্টাচার্য। অন্নকূট উৎসবে ১১৫ রকম রান্না করা পদ ও ১২০ রকম মিষ্টান্ন দেওয়া হয়।

এখানে মোচা, থোড়, কুমড়ো ইত্যাদি সব্জি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন পদের পাশাপাশি ভোগ হিসেবে ফুচকা, আইসক্রিম, কোল্ড-ড্রিংকসও দেওয়া হয়। ভট্টাচার্যবাড়ির অন্নকূটে জাতিভেদ মানা হয় না, যে কোনও বর্ণের মানুষ এসে রান্না করতে পারেন।

রানি রাসমণির কন্যা জগদম্বাদেবী ১৮৭৫-এ ব্যারাকপুর তালপুকুরের অন্নপূর্ণা মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। ওই মন্দিরে অন্নকূট উৎসব হয় অন্নপূর্ণাপুজোর দিনে। ওই দিন সকালে মূল পুজো, কুমারীপুজো ও হোমের পরে হয় অন্নকূট। একুশ কিলোগ্রাম চালের ভাত-সহ ৫১ রকম পদ দেওয়া হয় ভোগ হিসেবে।

সোর্সঃ ইন্টারনেটের বিভিন্ন সূত্র হতে সংগ্রহিত