সূর্যগ্রহণ

ভারতীয় সময় ৬ ই আষাঢ়, বাংলাদেশ সময় ৭ ই আষাঢ়, ইংরেজী ২১ শে জুন রবিবার চূড়ামণিযোগে এই গ্রহণ পরিলিক্ষিত হবে।

কমবেশি আমাদের অনেকের কাছেই ২০২০ সাল এখন পর্যন্ত অনেক টা ‘বিষ’ এর মত বিষাক্ত মনে হচ্ছে। মহামারী করোনা ভাইরাস এর আতংক যেমন চতুর্দিক থেকে গ্রাস করে খাচ্ছে , তেমনি তার সাথে খাদ্য- শস্যের বিনাশকারী পঙ্গপাল এর আক্রমন যেন মড়ার উপরে খড়ার ঘাঁ হয়ে এসেছে এই বছর আমাদের জীবনে।

সারা পৃথিবীর মানুষ আজ এই মহামারী ভাইরাসের কারনে অনেকটাই অস্বাভাবিক জীবন যাপন করছে। লকডাউনের কারনে অনেকটা গৃহবন্দী সময় পার করছে মানব জাতি। তবে প্রকৃ্তি যে তার আপনরুপ ফিরে পেয়েছে তা নিয়ে কারো কোন সন্দেহ আছে বলে মনে হয় না।

বছরের পর বছরের এই প্রকৃ্তির উপরে চালিয়ে যাওয়া অত্যাচার বোধহয় ঠিক এভাবেই ফিরিয়ে দিচ্ছে প্রকৃ্তি তার নিজের হাতে। ঠিক তেমনি এই মহাজগৎ এর প্রত্যেকটা গ্রহ নক্ষত্র ও তার আপন মনে তার কাজ ঠিক ই করে চলছে। প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ঘটনা ঘটছে আমাদের এই মহাবিশ্বে।

এইত সেদিন জুনের ৫ তারিখে দেখা গেলো উপচ্ছায়া চন্দ্রগ্রহণ। এই পৃথিবীতে কি ঘটছে বা না ঘটছে সেই দিকে ভ্রূক্ষেপ করার কোন প্রয়োজন নেই মহাশূন্যের বাসিন্দা তথা গ্রহ , নক্ষত্র, নীহারিকা, ছায়াপথ, উল্কাপিণ্ড বা গ্যালাক্সি ইত্যাদি কারোর ই। কালের বিবর্তনে তারা চলছে তাদের আপন গতিতে।

পূর্ণগ্রহণ

ঠিক সেই নিয়মেই  এবার ঘটতে চলছে সূর্যগ্রহণ।  ২১ জুন ২০২০ দেখা যাবে এই সূর্যগ্রহণ।

এই গ্রহণ নিয়ে অনেক মিথ প্রচলিত রয়েছে বিভিন্ন ধর্মে। তবে আপাতত সেই দিকে না গিয়ে আমরা বরং বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা তে যাই। চাঁদ যখন ঘূর্ণায়মান অবস্থায় পৃথিবী এবং সূ্র্যের মাঝখানে চলে আসে তখন চাঁদের ছায়া সূ্র্যের উপরে পরে। যার ফলে সূর্যকে আমরা কিছুক্ষনের জন্য দেখতে পাই না। আর একেই বলা হয়ে থাকে সূ্র্যগ্রহণ।

সূর্যগ্রহণ সাধারাণত দুই প্রকার। পূর্ণগ্রাস এবং বলয়গ্রাস।

বলয় ও পূর্ণগ্রাস

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ কি ?

সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের ছায়া যদি সম্পূর্ন সূর্যকে ঢেকে ফেলে তাহলে তখন তাকে আমরা পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলে থাকি। এই সময়ে সৌরমুকুট এর মত মহাজাগতিক বিরল ঘটনা দেখা যায় কেননা চাঁদ এই সমইয়ে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে।

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ কি ?

বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ সাধারনত চাঁদের কৌনিক ব্যাসের কারনে ঘটে। গ্রহণের সময় চাঁদের কৌনিক ব্যাস যদি আকারে ছোট হয়ে থাকে সূর্যের চেয়ে তখন তাকে বলা হয় বলয়গ্রাস সূর্যগ্রহণ।

সূর্যগ্রহণ সাধারণত অমাবস্যার পরে যখন নতুন চাঁদ উঠে ঠিক তখন সংঘটিত হয়। বছরে সাধারনত সর্বোচ্চ পাঁচ টি গ্রহণ ঘটে থাকে। এর মধ্যে যেকোন দুটি সূর্যগ্রহণ পূর্ণগ্রাস ।

সর্বশেষ সূর্যগ্রহণ হয়েছিলো ২৬ ডিসেম্বর ২০১৯। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ এ রিং অব ফায়ার দেখা গিয়েছিলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর থেকে।

রিং অফ ফায়ার

রিং অব ফায়ার

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সময় চাঁদের ছায়া সূর্যের উপর ঠিক এমন ভাবে পরে যেন সূর্যকে একটা রিং এর মত লাগে। মানে চাঁদের ছাঁয়াতে সূর্যের মাঝখানের অংশ ঢাকা পরলেও এর একদম সীমানার আলোর রেখা দেখা যায়। যা অনেকটা হাতে পরবার আংটির মত দেখতে লাগে। আর একেই আমরা রিং অব ফায়ার বলে থাকি।

এবার জেনে নেয়া যাক এই গ্রহণ কখন , কোথায় দেখা যাবে।

ভারতীয় সময় ৬ ই আষাঢ়, বাংলাদেশ সময় ৭ ই আষাঢ় , ইংরেজী ২১ শে জুন রবিবার চূড়ামণিযোগে এই গ্রহণ পরিলিক্ষিত হবে।

গ্রহণ শুরু হবে ভারতীয় সময় সকাল ৯ টা  ১৬ মিনিট এবং বাংলাদেশ সময় ৯ টা ৪৬ মিনিট এ।

বলয় গ্রাস শুরু হবে ১০ টা  ১৭ মিনিট ভারতীয় সময় এবং ১০ টা ৪৯ মিনিট বাংলাদেশ সময়ে। বলয় গ্রাস শেষ হবে ভারতীয় সময় দুপুর ২ টা ২ মিনিট এ এবং বাংলাদেশ সময় দুপুর ২ টা ৩২ মিনিট।

গ্রহণ সমাপ্তি হবে বিকেল ৩ টা ৪ মিনিট ভারতীয় সময় এবং বাংলাদেশ সময় ৩ টা ৩৪ মিনিট ।

গ্রহণের স্থায়ীত্ব হবে ৫ ঘন্টা ৪৮ মিনিট।

সকলের কাছে অনুরোধ থাকবে আপনারা কেউ খালি চোখে সূ্র্যগ্রহণ দেখবেন না। এটি চোখের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

গ্রহণের দৃশ্যঃ 

ঢাকাসহ বাংলাদেশ ও ভারতের সমস্ত অঞ্চলে এই গ্রহণ পরিলিক্ষিত হবে। অর্থাৎ সমগ্র ভারতবর্ষে এই গ্রহণ দৃশ্যমান।

গ্রহণের শুভ – অশুভ ফলাফলঃ 

মেষ, বৃষ, মিথুন, সিংহ, কন্যা, তুলা, মকর এবং কুম্ভ রাশির জন্য এটি ভাল সময়। এই রাশির জাতক জাতিকারা অর্থ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায় সুবিধা পেতে পারেন। এগুলি ছাড়াও কর্কট, বৃশ্চিক, ধনু এবং মীন এই চার রাশির জাতক জাতিকাদের চাকরী ও ব্যবসায় সতর্ক থাকতে হবে। কঠোর পরিশ্রম হবে এবং কোনও সুবিধাও পাবেন না। মানসিক চাপ, ক্ষতি এবং বিতর্ক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছবি – ইন্টারনেট