সরস্বতী পূজা হিন্দু বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু উৎসব। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা আয়োজিত হয়। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। উত্তর ভারত, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা, নেপাল ও বাংলাদেশে সরস্বতী পূজা উপলক্ষে বিশেষ উৎসাহ উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। শ্রীপঞ্চমীর দিন অতি প্রত্যুষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ছাত্রছাত্রীদের গৃহ ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। ধর্মপ্রাণ হিন্দু পরিবারে এই দিন শিশুদের হাতেখড়ি, ব্রাহ্মণভোজন ও পিতৃতর্পণের প্রথাও প্রচলিত। পূজার দিন সন্ধ্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপগুলিতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও আয়োজিত হয়। পূজার পরের দিনটি শীতলষষ্ঠী নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গে কোনো কোনো হিন্দু পরিবারে সরস্বতী পূজার পরদিন অরন্ধন পালনের প্রথা রয়েছে।

সরস্বতী মূলত বৈদিক দেবী। বেদে সরস্বতী প্রধানত নদীর অধিষ্ঠাত্রী দেবী। সরস শব্দের অর্থ জল। সরস্বতী=সরস (জল)+মতুন (অন্ত্যর্থে)+ঙীন (স্ত্রী)। অতএব সরস্বতী শব্দের আদি অর্থ হল জলবতী অর্থাৎ নদী। পণ্ডিতরা অনেকেই মনে করেন, সরস্বতী প্রথমে ছিলেন নদী, পরে হলেন দেবী। রমেশচন্দ্র দত্ত লিখেছেন- ‘আর্যাবর্তে সরস্বতী নামে যে নদী আছে, তাই প্রথমে দেবী বলে পূজিত হয়েছিলেন। বর্তমানে গঙ্গা যেমন হিন্দুর উপাস্যদেবী হিসেবে পূজা পেয়ে থাকেন; এবং ক্রমান্বয়ে সরস্বতী হলেন জ্ঞানের দেবী।’ পুরাণে ও পুরাণোত্তর আধুনিককালে দেবী সরস্বতী বাক্য বা শব্দের অধিষ্ঠাত্রী বাগদেবীরূপে প্রসিদ্ধা। বৈদিক দেবী সরস্বতীর অন্য পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় তিনি কেবল বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবীরূপেই সুপ্রতিষ্ঠাতা হয়েছেন। বৈদিক সরস্বতী বাগাধিষ্ঠাত্রী বা বাগদেবীরূপেও বর্ণিতা হয়েছেন। অথর্ববেদে এবং ব্রাহ্মণে সরস্বতী বাগদেবী। বৃহস্পতি হচ্ছেন জ্ঞানের দেবতা। তিনি বাক্পতিও। ইন্দ্রও বাক্পতি। বৃহস্পতি-পত্নী সরস্বতীও জ্ঞানের দেবী। সব জ্ঞানের ভাণ্ডার তো ব্রহ্মা-বিষ্ণু আর মহেশ্বরের। তাদেরই শক্তিতে সরস্বতী জ্ঞানের দেবী। সরস্বতী নদীর তীরে যজ্ঞের আগুন জ্বেলে সেখানেই ঋষি লাভ করেছিলেন বেদ, ঋগমন্ত্র। সুতরাং সরস্বতী জ্ঞানের দেবী হিসেবেই পরিচিত হয়েছিলেন। দিনে দিনে সরস্বতী তার অন্যান্য বৈশিষ্ট্য হারিয়ে কেবল বিদ্যাদেবী অর্থাৎ জ্ঞানের দেবীতে পরিণত হলেন।

সরস্বতী বৈদিক দেবী হলেও সরস্বতী পূজা বর্তমান রূপটি আধুনিক কালে প্রচলিত হয়েছে। তবে প্রাচীন কালে তান্ত্রিক সাধকেরা সরস্বতী-সদৃশ দেবী বাগেশ্বরীর পূজা করতেন বলে জানা যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে পাঠশালায় প্রতি মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে ধোয়া চৌকির উপর তালপাতার তাড়ি ও দোয়াতকলম রেখে পূজা করার প্রথা ছিল। শ্রীপঞ্চমী তিথিতে ছাত্রেরা বাড়িতে বাংলা বা সংস্কৃত গ্রন্থ, শ্লেট, দোয়াত ও কলমে সরস্বতী পূজা করত। আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার প্রচলন হয় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। গ্রামাঞ্চলে এই প্রথা বিংশ শতাব্দীতেও প্রচলিত ছিল। শহরে ধনাঢ্য ব্যক্তিরাই সরস্বতীর প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করতেন। বর্ধমান মহারাজার পূজায় বিশেষ সমারোহের আয়োজন করা হয়। দূর দুরান্ত থেকে মানুষ এই পূজার বিসর্জন দেখতে আসত। পূজা উপলক্ষে দুই ঘণ্টা আতসবাজিও পোড়ানো হত। আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার প্রচলন হয় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে।

বর্তমানে সরস্বতী প্রায় সব জায়গায়ই দ্বিভুজা। তার হাতে বীণা অপরিহার্য। বীণা অবশ্যই সঙ্গীত ও অন্যান্য কলাবিদ্যার প্রতীক। অক্ষরমালা বা জপমালাও আধ্যাত্মবিদ্যার প্রতীক। শুকপাখিও বিদ্যা বা বাক্যের প্রতীক হিসেবেই সরস্বতীর হাতে শোভা বাড়াচ্ছে। সরস্বতী পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠেয় একটি অন্যতম প্রধান হিন্দু ধর্মীয় উৎসব। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লাপঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা আয়োজিত হয়। তিথিটি শ্রীপঞ্চমী বা বসন্ত পঞ্চমী নামেও পরিচিত। শ্রীপঞ্চমীর দিন খুব সকালে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ছাত্রছাত্রীদের ঘরে এবং সর্বজনীন পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর পূজা করা হয়। ধর্মপ্রাণ হিন্দু পরিবারে এদিন শিশুদের হাতেখড়ি, ব্রাহ্মণভোজন ও পিতৃতর্পণের প্রথাও প্রচলিত। পূজার দিন সন্ধ্যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সর্বজনীন পূজামণ্ডপগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে, শ্রীপঞ্চমীর দিন সকালেই সরস্বতী পূজা সম্পন্ন করা যায়। সরস্বতীর পূজা সাধারণ পূজার নিয়মানুসারেই হয়। তবে এই পূজায় কয়েকটি বিশেষ উপাচার বা সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। যথা: অভ্র-আবীর, আমের মুকুল, দোয়াত-কলম ও যবের শিষ। পূজার জন্য বাসন্তী রঙের গাঁদা ফুলও প্রয়োজন হয়। লোকাঁচার অনুসারে, ছাত্রছাত্রীরা পূজার পূর্বে কুল ভক্ষণ করেন না। পূজার দিন কিছু লেখাও নিষিদ্ধ। যথাবিহিত পূজার পর লক্ষ্মী, নারায়ণ, লেখনী-মস্যাধার (দোয়াত-কলম), পুস্তক ও বাদ্যযন্ত্রেরও পূজা করার প্রথা প্রচলিত আছে। এই দিন ছোটোদের হাতেখড়ি দিয়ে পাঠ্যজীবন শুরু হয়।পূজান্তে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার প্রথাটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের দল বেঁধে অঞ্জলি দিতে দেখা যায়। পূজার পরদিন পুনরায় পূজার পর চিড়ে ও দই মিশ্রিত করে দধিকরম্ব বা দধিকর্মা নিবেদন করা হয়। এরপর পূজা সমাপ্ত হয়। সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।

বিদ্যাদেবী শ্রীশ্রীসরস্বতী পূজার তাৎপর্য কি ?

মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথি। শ্রীশ্রী সরস্বতী মায়ের পূজার দিন। সরস্বতী শব্দটির বুৎপত্তিগত অর্থে ‘সরস্+বতু’ স্ত্রী লিঙ্গে ‘ঈ’ প্রত্যয় যুক্ত যোগে ‘সরস্বতী’। ‘সতত রসে সমৃদ্ধা’। তিনি শুক্লবর্ণা, শুভ্র হংস বাহনা, ‘বীণা-রঞ্জিত পুস্তক হস্তে’ অর্থাৎ এক হাতে বীণা ও অন্য হাতে পুস্তক। সেগুলোর গূঢ় রহস্য তথা যথার্থ তাৎপর্য হৃদয়ে ধারণ করে মাকে পূজার্চনা করা উচিত। নয়তো পূজার আড়ম্বরতা যতই হোক না কেন তা অর্থহীন। শিক্ষার্থীরা দেবী সরস্বতীর পূজা বেশি করে। কেন ? কারণ তিনি জ্ঞানদায়িনী বিদ্যার দেবী সরস্বতী। বিদ্যা দান করেন তিনি। মানুষ জ্ঞান পিপাসু। সর্বদা জ্ঞানের সন্ধান করে। ‘শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানং তৎপরঃ সংযতেন্দ্রিয়'(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-৪/৩৯) অর্থাৎ শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি জ্ঞান লাভ করে থাকেন।

শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত হয় কী ভাবে ? শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলার জন্য পারিবারিক শিক্ষা অতীব গুরুত্বপূর্ণ। বাল্যকাল থেকেই ধর্মীয় আচার-আচরণের শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন। সনাতন ধর্মাবলম্বী ছোটদেরকে ধর্মীয় চেতনা দান করার জন্য শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজা অন্যতম একটি উৎসব। পূজার আগের দিন সংযম পালন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের গভীর শিক্ষা দেয়। ছোটবেলায় শ্রীশ্রী সরস্বতী পূজায় সংযমের দিন মাছ-মাংস পরিহার, নিরামিষ আহার, আতপ চালের ভাত খাওয়া, উপোস থাকা সম্ভব হবে কি-না এসব নিয়ে এবং পূজার দিন উপবাস থাকা, পুষ্পাঞ্জলি অর্পণে হয় আনন্দঘন এক আয়োজন!!! আর এ সময়ই একজন সনাতন ধর্মাবলম্বী তথা কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ধর্মীয় চেতনা পেয়ে থাকে।

শিক্ষার্থীসহ পূজিত সবাই যেন তার তাৎপর্য ও পূজার মূল আচরণে পূজিত হন সে কথা বিচার্য রেখে তার বর্ণনায় লক্ষ্য করা যাক:

দেবী শুক্লবর্ণা: শুক্লবর্ণ মানে সাদা রং। সত্ত্বগুণের প্রতীক ও হলো সাদা। পবিত্র গীতার চতুর্দশ অধ্যায়ের ৬নং শ্লোকে আছে ‘তত্র সত্ত্বং নির্মলত্বাৎ’ অর্থাৎ সত্ত্ব, রজঃ ও তমোগুণের মধ্যে সত্ত্বগুণ অতি পবিত্র গুণ, স্বচ্ছতার প্রতীক, নির্মলতার প্রতীক। আবার ওই অধ্যায়েরই ১৭নং শ্লোকে আছে, ‘সত্ত্বাৎ সংজায়তে জ্ঞানং’ অর্থাৎ সত্ত্বগুণে জ্ঞান লাভ হয়। তাই জ্ঞানময়ী সর্বশুক্লা দেবী শ্রীশ্রী সরস্বতী জ্ঞানে গুণান্বিত বলে তার গায়ের রং শুক্লবর্ণা অর্থাৎ দোষহীনা ও পবিত্রতার মূর্তি। আর জ্ঞানদান করেন বলে তিনি জ্ঞানদায়িনী। ‘নহি জ্ঞানেন সদৃশং পবিত্রমিহ বিদ্যতে'(শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা-৪/৩৯) অর্থাৎ ‘জ্ঞানের মতো পবিত্র আর কিছু নেই’। আমরা ও যেন সে গুণের অধিকারী হতে পারি এ আমাদের প্রার্থনা।

হংসঃ জ্ঞানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতীর বাহন শ্বেতহংস। হাঁস অসারকে ফেলে সার গ্রহণ করে। দুধ ও জল মিশ্রণ করে দিলে হাঁস জল ফেলে শুধু দুধটুকু গ্রহণ করে নেয়। কিংবা কাঁদায় মিশ্রিত স্থান থেকে ও তার খাদ্য খুঁজে নিতে পারে। মায়ের সঙ্গে পূজিত হয়ে শিক্ষা দিচ্ছে- সবাই যেন সবার অসার বা ভেজাল/অকল্যাণকর পরিহার করে সার বা ভালো কিছু অর্থাৎ নিত্য পরমাত্মাকে গ্রহণ করেন এবং পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করে সুন্দর পথে চলতে পারি।

বীণাঃ ‘জীবন ছন্দময়’। বীণার ঝংকারে উঠে আসে ধ্বনি বা নাদ। বিদ্যাদেবী সরস্বতীর ভক্তরা সাধনার দ্বারা সিদ্ধি লাভ করলে বীণার ধ্বনি শুনতে পান। বীণার সুর মধুর। পূজার্থী বা বিদ্যার্থীর মুখ নিঃসৃত বাক্য ও যেন মধুর হয় এবং জীবন ও মধুর সংগীতময় হয় এ কারণেই মায়ের হাতে বীণা। হাতে বীণা ধারণ করেছেন বলেই তার অপর নাম বীণাপাণি।

পুস্তকঃ বিদ্যার্থীর লক্ষ্য জ্ঞান অন্বেষণ। আর সে জ্ঞান ও বিদ্যা অন্বেষণের জন্য জ্ঞানের ভাণ্ডার ‘বেদ’ তার হাতে রয়েছে। ‘বেদই বিদ্যা’। তিনি আমাদের আশীর্বাদ করছেন- ‘জীবনকে শুভ্র ও পবিত্র রাখ। সত্যকে আঁকড়ে রাখ। মূল গ্রন্থের বাণী পালন কর। জীবন ছন্দময় কর। স্বচ্ছন্দে থাক।’

উল্লেখ্য, প্রতিটি দেব-দেবীর প্রণাম-মন্ত্র ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান মন্ত্র আমাদের সবার জানা উচিত। আর তাই নিম্নোক্ত মন্ত্রগুলি বিদ্যার্থীদের অবশ্যই জানা উচিত।

 

সরস্বতী দেবীর প্রণাম ও পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্রঃ
ওঁ সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে।
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহী নমোহস্তুতে।।
ওঁ ভদ্রকাল্যৈ নমো নিত্যং সরস্বত্যৈই নমো নমঃ।
বেদ বেদান্ত বেদাঙ্গ বিদ্যাস্থানভ্যঃ এব চ
এষ সচন্দন পুষ্প বিল্বপত্রাঞ্জলি ওঁ ঐং সরস্বত্যৈ নমঃ।।

 

জ্ঞানদায়িনী সরস্বতী মায়ের পূজাতে ফাঁকি না দিয়ে আমরা সবাই সঠিকভাবে তার পূজা করি। তার পূজার শিক্ষায় আমরা সর্বদা সবাই শুদ্ধ জ্ঞানচর্চায় যেন রত থাকি এবং প্রার্থনা করি-

সরস্বতী পুজোর দিন ভুলেও এই কাজগুলো করবেন না, বিদ্যাহীন-ছন্নছাড়া হবে গোটা বংশ

‘শ্বেতপদ্মাসনা দেবী শ্বেতপুষ্পোপশোভিতা। শ্বেতাম্ভরধরা নিত্যা শ্বেতাগন্ধানুলেপনা ॥’’ আজ শ্বেতপদ্মে আসীন দেবী সরস্বতীর পুজো ৷ বাগদেবীর পুজোয় মাতেছে গোটা বাংলা ৷

দেবী সরস্বতীর অপর নাম সারদা, কেন জানেন?

সরস্বতী পুজো মানেই বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে৷ মায়ের পাটভাঙা নতুন শাড়ি পরে ছেলেদের প্রেমে ফেলতে একেবারে অনবদ্য দিন সরস্বতী পুজো৷ এদিন অবাঙালিদের মধ্যেও শাড়ি পরে বাঙালী হয়ে ওঠার জন্যই চলে পুরোদস্তুর লড়াই৷ পাশাপাশি সরস্বতী ঠাকুর বিদ্যার প্রতীক৷ শুধু বিদ্যাই নয়৷ সংগীত, শিল্পকলা, বুদ্ধির দেবী সরস্বতী৷ বিদ্যার দেবী সরস্বতী আরও অনেক ভাবেই সম্বোধন করা হয়৷ যেগুলির মধ্যে রয়েছে-
১) সারদা- যিনি ছয় শাস্ত্র অধ্যয়নকে সমর্থন করেন, অথবা এক কথায় জ্ঞানের সমর্থক বা দেবী৷
২) বাগদেবী
৩) বাণী
৪) ভারতী
৫) বীণাপানি
৬) জ্ঞানদায়িণী
৭) স্বরদায়িণী

বিদ্যা দেবি “মা” সরস্বতীর “১০৮” নাম

ওঁ সরস্বতৌ নমঃ, ওঁ মহাভাদ্রায়ৈ নমঃ, ওঁ মহমায়ায়ৈ নমঃ, ওঁ বরপ্রদায়ৈ নমঃ,ওঁ শ্রীপ্রদায়ৈ নমঃ, ওঁ পদ্মনিলয়ায়ৈ নমঃ, ওঁ পদ্মাক্ষ্যৈ নমঃ, ওঁ পদ্মবক্এায়ৈ নমঃ, ওঁ শিবানুজায়ৈ নমঃ, ওঁ পুস্তকভৃতে নমঃ, ওঁ জ্ঞানমুদ্রায়ৈ নমঃ, ওঁ রমায়ৈ নমঃ, ওঁ পরায়ৈ নমঃ, ওঁ কামরূপায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাবিদ্যায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাপাতক নাশিন্যৈ নমঃ, ওঁ মহাশ্রয়ায়ৈ নমঃ, ওঁ মালিন্যৈ নমঃ, ওঁ মহাভোগায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাভুজায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাভাগায়ৈ নমঃ, ওঁ মহোত্সাহায়ৈ নমঃ, ওঁ দিভৃয়ামৈ্গৃয় নমঃ, ওঁ সুরবন্দিতায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাকাল্যৈ নমঃ, ওঁ মহাপাশায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাকারায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাস্কুশায়ৈ নমঃ, ওঁ পীতায়ৈ নমঃ, ওঁ বিমলায়ৈ নমঃ, ওঁ বিশ্ববায়ৈ নমঃ, ও বিদ্যুম্মলায়ৈ নমঃ, ওঁ বৈষ্ণব্যৈ নমঃ, ওঁ চন্দ্রিকায়ৈ নমঃ, ওঁ চন্দ্রবদনায়ৈ নমঃ, ওঁ চন্দলোকবিভূষিতায়ৈ নমঃ, ওঁ সাবিএ্যৈ নমঃ, ওঁ সুরসায়ৈ নমঃ, ওঁ দেব্যৈ নমঃ, ওঁ দিব্যালস্কারভূষিতায়ৈ নমঃ, ওঁ বাগ্দব্যৈ নমঃ, ওঁ বসুধায়ৈ নমঃ, ওঁ তীব্রায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাভদ্রায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাবলায়ৈ নমঃ, ওঁ ভোগদায়ৈ নমঃ, ওঁ ভারত্যৈ নমঃ, ওঁ ভামায়ৈ নমঃ, ওঁ গোবিন্দায়ৈ নমঃ, ওঁ গোমত্যৈ নমঃ, ওঁ শিবায়ৈ নমঃ, ওঁ জটিলায়ৈ নমঃ, ওঁ বিন্দ্যাবাসায়ৈ নমঃ, ওঁ বিন্দ্যাচলবিরাজিতায়ৈ নমঃ, ওঁ চণ্ডিকায়ৈ নমঃ, ওঁ বৈষ্ণব্যৈ নমঃ, ওঁ ব্রাম্ময়ৈ নমঃ, ওঁ ব্রম্মজ্ঞানৈকসাধনায়ৈ নমঃ, ওঁ সৌদামিন্যৈ নমঃ, ওঁ সুধামূর্ত্যৈ নমঃ, ওঁ সুভাদ্রায়ৈ নমঃ, ওঁ সুরপূজিতায়ৈ নমঃ, ওঁ সুবাসিন্যৈ নমঃ, ওঁ সুনাসায়ৈ নমঃ, ওঁ বিনিদ্রায়ৈ নমঃ, ওঁ পদ্মলোচনায়ৈ নমঃ, ওঁ বিদ্যারুপায়ৈ নমঃ, ওঁ বিশালাক্ষ্যৈ নমঃ, ওঁ ব্রম্মজায়ায়ৈ নমঃ, ওঁ মহাফলায়ৈ নমঃ, ওঁ এয়ীমূত্যৈ নমঃ, ওঁ এিকালজ্ঞায়ৈ নমঃ, ওঁ এিগুণায়ৈ নমঃ, ওঁ শাস্এরুপিণ্যৈ নমঃ, ওঁ শুম্ভাসুরপ্রমথিন্যৈ নমঃ, ওঁ শুভদায়ৈ নমঃ, ওঁ সভ্ভাত্নিকায়ৈ নমঃ, ওঁ রকতবীজনিহহৈএ্য নমঃ, ওঁ চামুণ্ডায়ৈ নমঃ, ওঁ অম্বিকায়ৈ নমঃ, ওঁ মুণ্ডকায়প্রহরণায়ৈ নমঃ, ওঁ ধূম্রলোচনমর্দনায়ৈ নমঃ, ওঁ সর্বদেবস্ততায়ৈ নমঃ, ওঁ সৌম্যায়ৈ নমঃ, ওঁ সুরাসুর নমস্কৃতায়ৈ নমঃ, ওঁ কালরাএৌ নমঃ, ওঁ কলাধারায়ৈ নমঃ, ওঁ রুপসৌভাগ্যদায়িন্যৈ নমঃ, ওঁ বাগ্দেব্যৈ নমঃ, ওঁ বরারোহায়ৈ নমঃ, ওঁ বারাহ্যৈ নমঃ, ওঁ বারিজাসনায়ৈ নমঃ, ওঁ চিএাম্বরায়ৈ নমঃ, ওঁ চিএগন্ধায়ৈ নমঃ, ওঁ চিএমাল্যবিভূষিতায়ৈ নমঃ, ওঁ কান্তায়ৈ নমঃ, ওঁ কামপ্রদায়ৈ নমঃ, ওঁ বন্দ্যায়ৈ নমঃ, ও বিদ্যাধরসুপূজিতায়ৈ নমঃ, ওঁ শ্বেতাননায়ৈ নমঃ, ওঁ নীলভূজায়ৈ নমঃ, ওঁ চতুর্বর্গফলপ্রদায়ৈ নমঃ, ওঁ চতুরানন সাম্রাজ্যায়ৈ নমঃ, ওঁ রকতমধ্যায়ৈ নমঃ, ওঁ নিরঞ্জনায়ৈ নমঃ, ওঁ হংসাসনায়ৈ নমঃ, ওঁ নীলজঙ্ধায়ৈ নমঃ, ওঁ ব্রম্মাবিষ্ণুশিঃ

জেনে নিন কেন সরস্বতীর বাহন রাজহাঁস

দেবী সরস্বতী হলেন বিদ্যার প্রতীক। আর দেবী মূর্তি বা ছবিতে তাঁর সঙ্গে বাহন হিসেবে দেখা যায় রাজহাঁসকে। ফলে মা সরস্বতীর সঙ্গে ভক্তের দলের কাছে পূজিত হয়ে থাকে ওই বাহনরূপী রাজহংস৷ এটা ঘটনা বাস্তবে একটা রাজহাঁসের যা দৈহিক গঠন তাতে কোনও একজন মানুষের ভার বহন করা সম্ভব নয়৷ ফলে স্বাভাবিক ভাবে প্রশ্ন ওঠে রাজহাঁসইকেই কেন সরস্বতীর বাহন রূপে দেখা যায়?

আসলে হাঁস এমন একটি প্রাণী যা জলে এবং স্থলে দু’জায়গায় চলাচল করতে পারে, আবার উড়তেও সক্ষম হওয়ায় অন্তরীক্ষেও বিরাজমান৷ অর্থাৎ জ্ঞানের ভাণ্ডার যেমন ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্রই তেমনই রাজহংসও সর্বত্র থাকতে সক্ষম৷ তাছাড়া হাঁস কাঁদায় মিশে থাকা স্থান থেকেও তার খাদ্য খুঁজে নিতে সক্ষম বলে দেখা যায়। শুধু তাই নয় প্রবাদ আছে হংস খুবই বুদ্ধিমান ফলে জল ও দুধের পার্থক্য করতে সক্ষম এই প্রাণীটি। জল ও দুধ মিশিয়ে দিলেও হাঁস শুধু সারবস্তু দুধটুকুই গ্রহণ করে এবং বাকী জলটুকু পাত্রে পড়ে থাকে। জ্ঞান সাধনার ক্ষেত্রেও হংসের এ স্বভাব তাৎপর্য বহন করে।হাঁস অসারকে ফেলে শুধুমাত্র সারবস্তুই গ্রহণ করে।

সংসারে নিত্য ও অনিত্য দুটি বস্তুই বিদ্যমান। বিবেক বিচার দ্বারা নিত্য বস্তুর বিদ্যমানতা স্বীকার করে তা গ্রহণ করা শ্রেয়, অসার বা অনিত্য বস্তু সর্বতোভাবে পরিত্যাজ্য। হাঁস বেশির ভাগ সময়ই জলে বিচরণ করলেও দেখা যায় তার দেহে জল লাগে না। তাছাড়া মহাবিদ্যা প্রতিটি জীবের মধ্যে থেকেও জীবদেহের কোন কিছুতে তাঁর আসক্তি নেই, তিনি নির্লিপ্তা। এই সব কারণেই মা সরস্বতীর সঙ্গে পূজিত হয়ে শিক্ষা দিচ্ছে-সবাই যেন সমস্ত অসার বা ভেজাল অথবা অকল্যাণকর পরিহার করে সারবাস্তু, ভালো কিছু অর্থাৎ নিত্যপরমাত্মাকে গ্রহণ করেন এবং পারমার্থিক জ্ঞান অর্জন করে সুন্দর পথে চলতে পারি।এমন যে প্রাণীর বৈশিষ্ট্য সেই রাজহাঁসই পারে দেবী সরস্বতী অথবা বিদ্যাকে বহন করতে ৷

শিশুর হাতেখড়ি দিতে, কী করবেন, কী করবেন না

এ বছর যারা সন্তানদের হাতেখড়ি বা বিদ্যা আরম্ভের জন্য মনস্থির করেছেন, তারা জেনে নিন কী করবেন, কী করবেন না।
১। প্রথমত জেনে নেওয়া উচিত, যে শিশুটির হাতেখড়ি হবে, তার রাশিচক্র অনুযায়ী নির্দিষ্ট দিনটি তার নিজের জন্য শুভ কি না।
২। যে সময়ে হাতেখড়ি দেওয়া হবে, সেই সময়ে শুভ ক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে তো? উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা উচিত।
৩। প্রধানত শ্রীশ্রী মা সরস্বতীর পুজোর পর ঠাকুরমশাই অ, আ, ক, খ লিখিয়ে শিশুর হাতেখড়ি দিয়ে থাকেন। তবে এই নিয়মটি সঠিক নয়। কেননা পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীর প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ গুরু তার মা। সে পশু পাখিই হোক বা মানুষ। শিশুর হাতেখড়ি বা বিদ্যা আরম্ভ তার মায়ের হাতেই হওয়া বাঞ্ছনীয়। এতে শিশুর মেধা বৃদ্ধি ঘটে থকে এবং সর্বক্ষেত্রে সে সফল হয়ে থাকে। অবশ্য শিশুটির মা যদি না থাকেন, তা হলে তার বাবা এই কাজ করতে পারেন। যদি শিশুর মা কোনও ভাবে অসুস্থ বা দেহ অপবিত্র হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তা হলে শিশু তার মামার দ্বারাই হাতেখড়ি নেবে। অবশ্যই ঠাকুরমশাইয়ের উপস্থিতিতে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার পর এবং এই ক্রিয়া করার আগে মাঘী শুক্লা চতুর্থীতে সিদ্ধিদাতা শ্রীশ্রীগণেশের পূজা সম্পন্ন করে তার আশীর্বাদ-সহ অনুমতি নেওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়।
৪। যদি শিশুর মামা না থাকেন, তা হলে শিশুর মা কোনও ব্যক্তিকে ভ্রাতৃজ্ঞানে মাঘী অমাবস্যার পর শুক্লা দ্বিতীয়ার শুভক্ষণে ভাইফোঁটা দিয়ে তাঁকে ভাই ডেকে তাঁর দ্বারাও শিশুর হাতেখড়ি দেওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রেও সিদ্ধিদাতা শ্রীশ্রীগণেশের পূজা-সহ অনুমতি নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
৫। মা, বাবা বা মামা— যাঁর দ্বারাই হাতখড়ি হোক না কেন সকলেই নিয়ম নিষ্ঠা মেনে সিদ্ধিদাতা শ্রীশ্রীগণেশের পূজার পর শ্রীপঞ্চমীতে বিদ্যার দেবী শ্রীশ্রী মা সরস্বতী সহ জগৎপিতা শ্রীশ্রী ব্রহ্মার পুজো এবং পুষ্পাঞ্জলির পর ঠাকুরমশাইয়ের উপস্থিতিতেই সর্বপ্রথম অ, আ, ক, খ বা এ, বি, সি, ডি এবং ‘হ্রীং সরস্বতী দেব্যৈ নমঃ’ লিখিয়ে শিশুর হাতেখড়ি দেওয়া উচিত। এতে শিশুটি যেমন মেধাবী হয়, ঠিক তেমনই উচ্চশিক্ষিতও হয়ে থাকে।

আমরা সরস্বতী পূজার আগে কুল খাই না কেন?

সরস্বতী দেবীকে তুষ্ট করার জন্য মহামুনি ব্যাসদেব বদ্রিকাশ্রমে তপস্যা করেছিলেন। তপস্যা শুরুর আগে তাঁর তপস্যাস্থলের কাছে একটি কুল বীজ রেখে দেবী একটি শর্ত দেন। এই কুলবীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা, চারা থেকে বড় গাছ, বড় গাছে ফুল থেকে নতুন কুল হবে। দেবী বলেন, যে দিন সেই কুল পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পতিত হবে, সেই দিন তার তপস্যা পূর্ণ হবে বা সরস্বতী দেবী তুষ্ট হবেন। ব্যাসদেবও সেই শর্ত মেনে নিয়ে তপস্যা শুরু করলেন।

ধীরে ধীরে বেশ কয়েক বছরে এই কুল বীজ অঙ্কুরিত হয়ে চারা, চারা থেকে বড় গাছ, বড় গাছে ফুল থেকে নতুন কুল হয় এবং একদিন তা পেকে ব্যাসদেবের মাথায় পতিত হয়। তখন ব্যাসদেব বুঝতে পারেন যে, সরস্বতী দেবী তাঁর প্রতি তুষ্ট হয়েছেন। সে দিনটি ছিল পঞ্চমী। সে দিন বেদমাতা সরস্বতীকে বদ্রী/কুল ফল নিবেদন করে অর্চনা করে তিনি ব্রহ্মসূত্র রচনা আরম্ভ করেন। শ্রীপঞ্চমীর দিন সরস্বতী দেবী তুষ্ট হয়েছিলেন। তাই সেই দিনের আগে আমরা কুল খাই না। শ্রীপঞ্চমীর দিন সরস্বতী দেবীকে কুল নিবেদন করার পরেই কুল খাওয়া হয়।

স্বাস্থ্যগত কারণেও সরস্বতী পূজার আগে কুল খাওয়া ঠিক নয়। কারণ মাঘ মাসের মাঝামাঝি সময়ের আগে কুল কাঁচা বা কশযুক্ত থাকে। কাঁচা বা কশযুক্ত কুল থেলে শরীরের ক্ষতি হতে পারে। শাস্ত্রে খাওয়ার বিষয়ে বহু বচনের মধ্যে একটি এই যে- ‘বার্তাকু কার্তিকে বর্জ্যং মূলং বা বদরং মাঘে। চৈত্রে শিম্বী পুনস্তুম্বী ভাদ্রে বর্জ্যং দ্বিজাতিভিঃ’। অর্থাৎ দ্বিজাতিগণ কার্তিকে বেগুন, মাঘে মুলো বা কুল, চৈত্রে শিম এবং ভাদ্রে গোলাকার লাউ খাবেন না। অতএব দ্বিজাতি ছাড়া কারও এ সব খেতে নিষেধ নেই। দ্বিজাতিরও মাঘে মুলো অথবা কুল নিষিদ্ধ, সরস্বতী পূজার আগে এ রকম কোনও কথা নেই। কারণ সরস্বতী পূজা ফাল্গুনেও হতে পারে। তবে লোকাচারে কেউ সরস্বতী পূজার আগে কুল খান না।

সরস্বতী পুজোর দিন কেন আমরা হলুদ পোশাক পরি, জানুন ভারতীয় বাস্তুর মত

সরস্বতী পূজার তিথিটির নাম ‘বসন্ত পঞ্চমী’। ধরা হয়, এই দিন থেকে বসন্তের সূচনা হল। ঋতুরাজ বসন্তকে প্রতীকায়িত করে একটি বিশেষ রং। বাসন্তী। এই রংয়ের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ভারতীয় পরম্পরায় বিপুল।

• বাসন্তী রং সূর্যালোকের প্রতীক। শীতের অপ্রভ রৌদ্র দূর হয়ে এবার শুরু হল উজ্জ্বল রোদের দিন। এই কারণে বসন্তের প্রথম দিনটিতে এই রংয়ের পোশাক পরেন ভারতীয়রা।
• কেবল হিন্দু ঐতিহ্যে নয়, সুফি পরম্পরাও স্বীকৃতি দেয় বাসন্তী-হলুদের মহিমাকে। আমির খসরুর অগণিত গানে বাসন্তী রংয়ের প্রসঙ্গ এসেছে। এমনকী, স্বাধীনতা সংগ্রামের সেই সব দামাল দিনগুলোয় খসরু আর বাসন্তীকে একাকার করে দিয়েছিলেন বিপ্লবী রামপ্রসাদ বিসমিল আর আপশাকউল্লাহ খান। পরে সেই গান উঠে এসেছিল ভগৎ সিংহের কণ্ঠেও। বাসন্তী তাই দুর্মর আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, বাঁধ ভাঙা আবেগের প্রতীক।
কিন্তু এর বাইরেও বাসন্তী-হলুদ রংটিকে নিয়ে কথা বলে ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র। বাস্তু মতে—
• বাসন্তী রং নতুন আরম্ভের কথা ব্যক্ত করে। যে কোনও শুভকাজে এই রংয়ের পোশাক পরা ইতিবাচক ফল দেয়।
• সূর্যের প্রতীক বাসন্তী-হলুদ পরিধানকারীকে শক্তি জোগায়।
• বাসন্তী রংয়ের পোশাক আশার সঞ্চার করে।
• বাসন্তী স্বাস্থ্যের উপরে প্রভাব ফেলে। অবশ্যই এই প্রভাব ইতিবাচক।

সরস্বতী পুজোর দিন এই ৬টি কাজ করলেই বিপদ!

মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিই বসন্ত পঞ্চমী৷ এই দিন বাগদেবী সরস্বতীর আরাধনা হয় প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে, স্কুলে, এমনকি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে৷ এই শুভ দিনকে বেছে নেওয়া হয়েছে বাচ্চাদের হাতেখড়ির জন্যও৷
এইদিন কামদেবেরও পুজো হয়ে থাকে৷ কিন্তু সরস্বতী পুজোর দিনে বেশ কিছু কাজ বা বিষয় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়৷ যদিও সেসব নিয়ে অনেক মতভেদ আছে৷ তাও চলুন, একবার চোখ রাখা যাক সেই ‘বারণে’…
১) এদিন কালো এবং লাল রং-এর পোশাক পরতে নিষেধ করা হয়৷ বসন্ত পঞ্চমীতে হলুদ বা সাদা পোশাকের ওপরই জোর দেওয়া হয়৷
২) এদিন ফসল কাটার কাজ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়৷ বাড়ির কোনও গাছও কাটতে বারণ করা হয়৷ প্রকৃতিও এসময় উৎসবের মেজাজে থাকে, তাই বসন্ত পঞ্চমীতে বৃক্ষরোপণ করলে শুভ হয়৷
৩) সরস্বতী পুজোর দিন ভুল করে কারও সম্পর্কে কোনও খারাপ বা কটু কথা মুখে আনবেন না৷ মনে করা হয় এদিন দেবী সরস্বতী আমাদের জিহ্বায় অধিষ্ঠিত থাকেন৷ পাশাপাশি রাগকেও নিয়ন্ত্রণে রাখুন৷ সকলের সঙ্গে ভালো ব্যবহার এদিন মাস্ট (যদিও সারা বছরই তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত)৷
৪) স্নান করে সরস্বতী বন্দনার পর, দেবীকে ভোগ দিয়ে তবেই খাবার খান৷
৫) বসন্ত পঞ্চমীতে মদ্যপান-মাংস খেতে নিষেধ করা হয়৷ অনেকে ক্ষীর তৈরি করেন এদিন৷
৬) অনেকে এইদিন পোখরাজ এবং মুক্তো ধারণ করেন৷
দেবী সরস্বতীর পুজো নিয়ে বহু কথা প্রচলিত রয়েছে৷ মনে করা হয়, দেবীর প্রথম পুজো করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ এবং ব্রহ্মা৷ দেবী নাকি শ্রীকৃষ্ঁকে দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে স্বামীরূপে পেতে চেয়েছিলেন৷ কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ জানান, রাধাই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান৷ তবে তিনি দেবীকে আশ্বস্ত করে জানান, যাঁরা বিদ্যার্থী বা বিদ্যাতে নিমগ্ন তাংরা বসন্ত পঞ্চমীতে দেবীর আরাধনা করলে তা তাদের পক্ষে শুভ হবে৷ এবং দেবীর প্রথম পুজো শ্রীকৃষ্ণই করেন৷

তবে জানেন কী বসন্ত পঞ্চমীর দিন এমন কয়েকটি কাজ রয়েছে, যা করলে আপনার জীবন ছারখার হয়ে যেতে পারে ৷ বংশ থেকে শিক্ষা-দীক্ষা দূর হয়ে যায় ৷

১. এইদিন বাগদেবীর পুজোর পাশাপাশি হিন্দুরা পিতৃতর্পণও করেন ৷ এরই সঙ্গে কামদেবেরও পুজো করা হয় বসন্ত পঞ্চমীতে ৷
২. বসন্ত পঞ্চমী অর্থাৎ সরস্বতী পুজোর দিন কালো রঙের পোশাক না পরাই ভাল ৷ এ দিন হলুদ, সাদা কিংবা সবুজ রঙের পোশাক পরুন ৷
৩. এটা প্রাকৃতিক উৎসব ৷ বসন্তকালে প্রকৃতি সেজে ওঠে তার অনন্য সৌন্দর্যের ডালি নিয়ে ৷ তাই এ দিন ফসল কাটার কাজ করা থেকে বিরত থাকুন ৷ এর পাশাপাশি কোনও গাছ কাটবেন না ৷
৪. ভুলেও এইদিনটিতে কাউকে কটু কথা বলবেন না ৷ শাস্ত্র বলে, এদিন নাকি মা সরস্বতী জিহ্বাতে অধিষ্ঠান করেন ৷ সেই কারণে তাঁর বাণী স্মরণে রাখুন আর ক্রোধ থেকে দূরে থাকুন
৫. এই দিনটি যেহেতু পিতৃতর্পণ করা হয়, তাই ভুলেও এদিন কলহ-বিবাদে জড়াবেন না ৷ এতে পূর্ব পুরুষরা কূপিত হন ৷
৫ স্নান সেরে তবেই আহার গ্রহণ করুন ৷ প্রথমে সরস্বতী বন্দনা করুন এবং মা সরস্বতীকে ভোগ নিবেদন করুন ৷
৬. বসন্ত পঞ্চমীর দিন মাংসাহার এবং অ্যালকোহল গ্রহণ থেকে দূরে থাকুন ৷ এদিন নাকি ক্ষীর বানানো অত্যন্ত শুভ ৷

সরস্বতী পুজোর পরদিন কেন গোটা সেদ্ধ খাওয়া হয় জানেন?

সরস্বতী পুজোর পরদিন শীতল ষষ্ঠী৷ বসন্ত পঞ্চমী তিথি কেটে গেলেই শীতল ষষ্ঠী৷ এই দিন সন্তানের মঙ্গল কামনায় ব্রত করেন মায়েরা৷
১. এই দিন বাংলার ঘরে ঘরে অরন্ধন পালন করা হয়৷ তাই আগের দিন রান্না করে এদিন গোটা সেদ্ধ খাওয়ার নিয়ম৷
২. উনুনের পাশাপাশি এদিন বাঙালি বাড়িতে শিল নোড়াকেও বিশ্রাম দেওয়ার নিয়ম৷
৩. শীতল ষষ্ঠী, তাই গরম খাবার নয়, আগের দিন সেদ্ধ করে শীতল খাবার খাওয়ার নিয়ম এদিন৷
৪. আবার এর পিছনে রয়েছে বৈজ্ঞানিক কারণও৷ এই সময় যেহেতু পক্স হয় তাই গোটা সেদ্ধ খেয়ে শরীর ঠান্ডা রাখা হয়৷ ডাক্তাররাও তাই এই খাবারকে বলেন কমফর্ট ফুড৷
৫. যেহেতু ষষ্ঠী তাই এই সময়কার ৬ রকম মরশুমি সব্জি একসঙ্গে গোটা সেদ্ধ করে খাওয়া হয় বলে একে বলা হয় গোটা সেদ্ধ৷
৬.মূলত আলু, রাঙাআলু, কড়াইশুটি, সিম, কচি বেগুন ও কচি পালং শাক একসঙ্গে গোটা সেদ্ধ করা হয়৷ সঙ্গে থাকে কাঁচা মুগ ডাল৷

কাকে নিয়ে লক্ষ্মী-সরস্বতীর ঝগড়া হয়েছিল জানেন?

সরস্বতী হলেন জ্ঞান, সংগীত, শিল্পকলা, বুদ্ধি ও বিদ্যার দেবী৷ দেবীভাগবত পুরাণ অনুসারে, তিনি কৃষ্ণের জিহ্বাগ্র থেকে উৎপন্ন হয়েছেন। ব্রহ্মা প্রথম তাঁকে পুজো করেন। পরে জগতে তাঁর পুজো প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু জানেন নারায়ণের অন্যতম এই পত্নীকেও অভিশপ্ত জীবন কাটাতে হয়েছে৷ দেবী পুরাণে বলা হয়েছে, একবার সত্য যুগের শুরুতে ভগবান বিষ্ণু ক্ষীরদ সাগরে যোগনিদ্রায় শায়িত ছিলেন। সেইসময় লক্ষ্মী তাঁর চরণ সেবা করছিলেন। সেইসময় হঠাৎ বৈকুন্ঠ লোকে সরস্বতীর আগমন ঘটে। বিষ্ণুর চরণ সেবায় নিয়োজিত লক্ষ্মীকে দেখে প্রচন্ড রেগে যান মা সরস্বতী৷ লক্ষ্মীকে তিনি বৈকুন্ঠ ছেড়ে চলে যেতে বললেন। কারণ, সরস্বতী তখন ভেবেছিলেন ভগবান বিষ্ণুই হয়ত ওনার স্বামী। লক্ষ্মী সরস্বতীকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করলেন কিন্তু সরস্বতী কিছুতেই বুঝতে চাননি যে বিষ্ণু লক্ষ্মীর স্বামী৷ দুজনের মধ্যে এনিয়ে তুমুল ঝগড়া চলতে থাকে।

লক্ষ্মী এবং মা সরস্বতীর তুমুল ঝগড়া করতে দেখে গঙ্গা দেবী উদ্যোগী হন তাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে। গঙ্গা দেবী যথারীতি লক্ষ্মীর পক্ষ নিয়ে সরস্বতীর বিরোধিতা করেন৷ এবং সরস্বতীকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে বিষ্ণুর একমাত্র স্ত্রী লক্ষ্মী। তখন সরস্বতী ক্রুদ্ধ হয়ে মা লক্ষ্মীকে অভিশাপ দেন যে তিনি মর্ত্য লোকে মানবী হয়ে জন্মাবেন, অসুরের স্ত্রী হয়ে দু:খ সহ্য করবেন এবং শেষে বৃক্ষতে রুপান্তরিত হবেন। লক্ষ্মী দেবীকে অভিশাপ দিতে দেখে মা গঙ্গাও ও ক্রুদ্ধ সরস্বতী কে অভিশাপ দেন৷ বলেন, সরস্বতী নদী রূপে পৃথিবীতে প্রবাহিত হবেন। সরস্বতীও গঙ্গাকে অভিশাপ দিলেন যে তিনিও পৃথিবীতে নদী রূপে প্রবাহিত হবেন।

সরস্বতী দেবীর অভিশাপে লক্ষ্মী যেমন তুলসী রূপে জন্ম নেন পৃথিবীতে। আবার তেমনই গঙ্গা দেবীর অভিশাপের ফলে সরস্বতীও নদী রূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হলেন এবং যথারীতি মা সরস্বতীর অভিশাপে গঙ্গা দেবীও পৃথিবীতে নদী রূপে প্রবাহিত হলেন। বলা হয়, সরস্বতী, গঙ্গা এবং লক্ষ্মীর মধ্যে যে বিবাদ হয়েছে তা যে নিছক লীলা ছাড়া আর কিছু নয় তার প্রমাণ ত্রিবেণী সঙ্গম। এখানে সরস্বতী, গঙ্গা এবং যমুনা নদী রুপে একত্রিত হয়েছেন। উল্লেখ্য, যে যমুনা কে মা লক্ষ্মীর অংশ বলা হয়, তিনিও কৃষ্ণ প্রেয়সী। এলাহাবাদে অবস্থিত এই ত্রিবেনী সঙ্গম আমাদের শিক্ষা দেয় সবাই মিলে মিশে যেন থাকি।

কুক-টুক: সরস্বতী পুজোর স্পেশাল ৩টি রেসিপি

বাংলায় মাঘী পঞ্চমীর সূত্র ধরেই তিনটি তিথি উদ্‌যাপনের চল রয়েছে। চতুর্থীতে শ্রীশ্রী গণেশ পুজো, পঞ্চমী মা সরস্বতীর আরাধনা আর তার পরের দিন শীতলষষ্ঠী। এই উপলক্ষে তিনটি বিশেষ রেসিপি শেয়ার করলাম আপনাদের সঙ্গে। এদিনের চলিত রান্না অর্থাৎ খিচুড়ি, লাবড়া তো খুবই কমন। তাই একটু অন্য রকম রেসিপি দিলাম এবার। সরস্বতী পুজোয় পূর্ববঙ্গের লোকেরা ইলিশ মাছের একটা বিশেষ ঝোল খেয়ে থাকে। শীতলষষ্ঠীর মেনু যেহেতু পশ্চিমবাংলার মানুষদের বিশেষত্ব তাই যাঁরা পূর্ববাংলার, তাঁদের জন্য ইলিশ মাছের ঝোলের একটি রেসিপি দিলাম। প্রচলিত আছে যে বিজয়া দশমীর দিন জোড়া ইলিশ খাওয়ার পরে আবার এই সরস্বতী পুজোর দিন থেকে ইলিশ মাছ খাওয়া শুরু হয়।

ইলিশের ঝোল

উপকরণ: ইলিশ মাছ– ৪ টুকরো, বেগুন– ৪ টুকরো, কুমড়ো– ৪ টুকরো, কাঁচালঙ্কা চেরা– ৪-৫টা, হলুদগুঁড়ো– ২ চা-চামচ, সর্ষেবাটা– ১ টেবিল-চামচ, নুন– স্বাদমতো, কালো জিরে– ১/২ চা-চামচ, সর্ষের তেল– ১/২ কাপ, কাঁচালঙ্কা– ২ চা-চামচ

প্রণালী: মাছ ধুয়ে তাতে নুন ও ১ চামচ হলুদ মাখিয়ে নিন। অল্প তেল রেখে দিয়ে বাকি তেল কড়াইতে ঢেলে দিন। তেল গরম হলে নুন ও হলুদ মাখানো মাছ হাল্কা করে ভেজে তুলে রাখুন। ওই তেলেই এবার কালো জিরে ফোড়ন দিন। ফোড়ন হয়ে গেলে বড় করে কাটা বেগুন ও কুমড়ো দিয়ে ভাল করে ভাজতে থাকুন। সবজি ভাজতে ভাজতেই তাতে নুন, বাকি হলুদগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো, রাঁধুনি বাটা ও কাঁচালঙ্কা বাটা দিয়ে ভাল করে কষতে থাকুন। মশলা ও সবজি বেশ ভাল কষানো হলে ১ থেকে দেড় কাপ মতো জল দিন ও ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। যখন দেখবেন যে সবজি সেদ্ধ হয়ে এসেছে তখন ঝোলের মধ্যে ভেজে রাখা মাছ কাঁচালঙ্কা ও সর্ষেবাটা দিয়ে দিন। আরও কিছুক্ষণ রান্না করুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে এবং মাছ ও সবজি সেদ্ধ হয়ে গেলে বাঁচিয়ে রাখা কাঁচা তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। গরম ভাতের সঙ্গে দারুণ লাগে রাঁধুনি বাটা দিয়ে এই ইলিশ মাছের ঝোল।

ফুলকপি ও সজনে ফুলের তরকারি

উপকরণ: আলু– ২টি (ডুমো করে কাটা),ফুলকপি– ১টি (মাঝারি, ছোট ছোট টুকরো করা),কড়াইশুটি– ১/২ কাপ (ছাড়ানো), সজনে ফুল– ২০০ গ্রাম, কাঁচালঙ্কা– ৪টি (চেরা), সর্ষের তেল– ৩ টেবিল-চামচ, গোটা জিরে– ১ চা-চামচ, হলুদগুঁড়ো– ১/২ চা-চামচ, লঙ্কাগুঁড়ো– ১ চা-চামচ, নুন– স্বাদমতো, চিনি– ১/২ চা-চামচ, আদাবাটা– ১ চা-চামচ,

প্রণালী: সবজি ধুয়ে জল ঝরিয়ে রাখুন। সজনে ফুল ভাল করে বেছে ধুয়ে রাখুন। কড়াইতে তেল গরম করুন। তেল গরম হলে গোটা জিরে ফোড়ন দিন। ফোড়ন হয়ে গেলে ধুয়ে রাখা আলু ও ফুলকপি দিয়ে মাঝারি আঁচে ঢাকা দিয়ে ভাজুন। সবজি ভাজতে ভাজতে তাতে হলুদগুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো, আদাবাটা ও নুন-চিনি দিয়ে ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। যখন দেখবেন সবজি হাল্কা ভাজা হয়েছে তখন মটরশুটি ও বেছে রাখা সজনে ফুল দিন। জলের ছিটে দিয়ে সবজি বেশ ভাজা ভাজা করুন। যখন দেখবেন সবজি সেদ্ধ হয়ে গিয়েছে তখন কাঁচালঙ্কা ও ১ টেবিল-চামচ কাঁচা তেল ছড়িয়ে নামিয়ে নিন। এই সবজিটিও শীতল ষষ্ঠীতে খায় আর তাই এই সবজি প্রায় জল ছাড়াই রান্না হয় কারণ জল দিলে সবজি তাড়াতাড়ি খারাপ হয়ে যায় আর শীতলষষ্ঠীতে সবাইকে বাসি খেতে হয়। সজনে ফুলকে অ্যান্টিপক্স বলা হয় তাই এই সময়ে অর্থাৎ বসন্তকালে সকলেরই একটু-আধটু সজনে ফুল খাওয়া উচিত।

রাঙালু, বড়ি, বেগুন দিয়ে কুলের টক

উপকরণ: টোপা কুল– ২০০ গ্রাম, রাঙালু– ১টা (ডুমো করে কাটা), বেগুন– ১টা (ডুমো করে কাটা), বড়ি– ৮-১০টা, শুকনো লঙ্কা– ১টা, পাঁচফোড়ন– ১ চা-চামচ, নুন– স্বাদমতো, চিনি– ১০০ গ্রাম, হলুদগুঁড়ো– ১/২ চা-চামচ, লঙ্কাগুঁড়ো– ১/২ চা-চামচ, সর্ষের তেল– ৪ টেবিল-চামচ

প্রণালী: কেটে রাখা সবজি ধুয়ে রাখুন। কুল ফাটিয়ে নিন। এইবার কড়াইতে তেল দিন। তেল গরম হলে তাতে পাঁচফোড়ন ও শুকনো লঙ্কা দিন। ফোড়ন হয়ে গেলে রাঙালু ও বেগুন দিয়ে হাল্কা আঁচে ভাজতে থাকুন। বড়ি আগে থেকে ভেজে সরিয়ে রাখুন। সবজি ভাজা হলে তাতে লঙ্কাগুঁড়ো, হলুদগুঁড়ো ও নুন দিন ও আরও কিছুক্ষণ ভাজুন। এইবার জল দিন। জল ফুটে উঠলে কুল ও বড়িভাজা দিয়ে দিন। যখন দেখবেন সবজি সেদ্ধ হয়ে গিয়েছে ও জলটাও শুকিয়ে এসেছে তখন চিনি দিয়ে দিন। চিনির পাক ধরলে ও বেশ গাঢ় হয়ে এলে কুলের টক আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। এই টক খেতে খুবই ভাল লাগে এবং সরস্বতী পুজো ও শীতল ষষ্ঠীতে এই টক খাবার বেশ প্রচলন আছে।