হবিষ্যান্ন গ্রহণঃ

পুরুষোত্তম ব্রতী হবিষ্যান্ন ভোজন করবেন। গম, আতপ চাল, মুগ ডাল, যব, তিল, মটর, কাঙ্গলী তণ্ডুল, উড়ি তল, বেতােশাক, হেলেঞ্চা শাক, আদা, কালশাক, মূলক, কন্দমূল, কাঁকুড়, কলা, সৈন্ধব ও সামুদ্রিক লবণ, দধি, ঘৃত, অনুষ্কৃত দুগ্ধসার, কাঁঠাল, আম, হরীতকী, পিপ্পল, জিরা, শুঁঠ, তেঁতুল, ক্রমুক, আতা, আমলকী, ইক্ষুজাত চিনি, মিশ্র অতৈলপক্ব ব্যঞ্জনাদি দ্রব্য- এ সমস্তই হবিষ্যান্ন।।

অন্য নিয়মাবলিঃ

সর্বপ্রকার আমিষ, মৎস্য, মাংস, মধু, কুলকর্কটী ফল, সরিষা এবং সমস্ত মাদকদ্রব্য পরিত্যাগ করবে। ছোলা ডাল, তিল, তৈল, কাকরযুক্ত অন্ন, ভাবদুষ্ট-ক্রিয়াদুষ্ট-শব্দদুষ্ট দ্রবসকল পরিত্যাগ করবে।

পরান্ন ভোজন, পরদ্রোহ, পরদার গমন পরিত্যাগ করবে। পুরুষোত্তম মাসে দেবতা, বেদ, গুরু, গো, ব্রতী, স্ত্রীলোক, রাজা ও মহাজনের নিন্দা পরিত্যাগ করবে। জন্তুর অঙ্গোদ্ভূত চূর্ণ, আমিষ ও ফলের মধ্যে জম্বীর অর্থাৎ গোঁড়ালেবু আমিষ।

ধান্যের মধ্যে মসুরিকা এবং পর্যসিত অন্ন আমিষ। ছাগী, গাভী ও মহিষ ব্যতীত অন্য দুগ্ধই আমিষ। ব্রাহ্মণের বিক্রিত সর্বপ্রকার লবণ ও ভূমিজাত লবণ, তাম্রপাত্রস্থিত গব্য, চর্মস্থিত জল ও নিজের জন্য পাচিত অন্ন আমিষ।

ব্রহ্মচর্য অর্থাৎ অমৈথুন, অধঃশয্যা, পত্রাবলীতে ভোজন, বিকালে ভোজন পুরুষোত্তম মাসে প্রশস্ত। রজস্বলা, ম্লেচ্ছ, পতিত, ব্রাত্য-ব্যক্তি, দ্বিজদ্বেষী, বেদবাহ্য- এ সকল ব্যক্তির সাথে আলাপ করবে না।

এ সকল ব্যক্তির দৃষ্টি এবং কাকদৃষ্ট অন্ন, সূতকান্ন, দ্বিপাচিত অন্ন ও দগ্ধান্ন গ্রহণ করবে না। পেঁয়াজ, রসুন, মুস্তা, ছত্রাক, গাজর, নালিতা, কেমুক- নামক মুলা, শাজনা- এ সকল পরিত্যাগ করবে। কার্তিক এবং মাঘেও এসকল নিয়মে ব্রত করবে।

প্রাতঃকালে উঠে পৌবাহ্নিকী ক্রিয়া সমাপনপূর্বক শ্রীকৃষ্ণকে ভক্তিপূর্বক হৃদয়ে স্মরণ করে পূর্বোক্ত নিয়মগুলো গ্রহণ করবে। ব্ৰত তিন প্রকার- উপবাস, নক্তহবিষা্যন্ন গ্রহণ এবং এক ভোজন।

ব্রতীর পক্ষে যেটি কর্তব্য বলে বোধ হয়, তা নিশ্চয় করে এই ব্রত আচরণ করবে। এ মাসে ব্রত শতক্রতু অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। কেননা ক্রতু (এক প্রকার যজ্ঞ) করে স্বর্গ লাভ হয়। কিন্তু যিনি পুরুষোত্তম ব্রত করেন, তাঁর দেহে সকল তীর্থক্ষেত্র ও দেবতাগণ অবস্থান করেন।

প্রকাশকঃ শ্রী চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী
হরেকৃষ্ণ পাবলিকেশন্স (ইসকন)