পুরুষোত্তম মাসে পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রীতিবিধানার্থে নানাবিধ ব্রতনিয়ম গ্রহণ করা যেতে পারে। কীভাবে সময়ের সর্বোচ্চ উপযোগ করে ভগবানের সেবা করা যায় সেটাই সংকল্প হওয়া উচিত।

তবে সর্বাগ্রে এটা খেয়াল রাখা উচিত যে, নিয়মগুলো (ব্রতের সংকল্প) যেন শুধু লোকদেখানো বা নিয়মাগ্রহ না হয়ে থাকে। ব্রতের সময়সীমা পর্যন্ত যেন সেগুলো পালন করা যায় সেটাও বিবেচনা করতে হবে।

বিভিন্ন রকম নিয়ম গ্রহণ করা যেতে পারে। যথা-

প্রাতস্নান ও মঙ্গল আরতিঃ

এই মাসে প্রতিদিন ব্রাহ্মমুহূর্তের পূর্বে গাত্রোত্থান করে স্নান ও মঙ্গল আরতিতে অংশগ্রহণ করা উচিত। এ মাসে এমনকি একবার তীর্থস্নান করলে বারো হাজার বছর ধরে গঙ্গাতে স্নান করার সমান ফল বা বৃহস্পতি সিংহ রাশিতে প্রবেশ করলে গঙ্গা বা গোদাবরী মানে যে ফল লাভ হয়, তা প্রাপ্ত হওয়া যেতে পারে। এ স্নানের ফলে সকল দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়।

হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তনঃ

পুরুষোত্তম মাসে প্রতিদিন নির্ধারিত সংখ্যামালার অতিরিক্ত (২৪, ৩২, ৩৩, ৪৮, ৬৪ বা তদূর্ধ্ব) জপ করা উচিত এবং যতবেশি সম্ভব হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র সংকীর্তনে অংশগ্রহণ করা উচিত। স্তোত্র পাঠ, প্রতিদিন ‘চৌরাগ্রগণ্য পুরুষাষ্টকম্’, ‘জগন্নাথষ্টকম্, ‘নন্দনন্দনাষ্টকম্’, ‘রাধা-কৃষ্ণ কৃপাকটাক্ষস্তোত্রম’ প্রভৃতি নিজাভীষ্ট স্তোত্রাবলী পাঠ ও পূর্বতন আচার্যকৃত ভজন কীর্তন করা উচিত।

বিশেষ সংখ্যা: ৩৩ঃ

এ মাসে ৩৩ সংখ্যাটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাধাকৃষ্ণের উদ্দেশে ৩৩ বার দণ্ডবৎ প্রণাম, ৩৩ সংখ্যক প্রদীপ দান, ৩৩ সংখ্যক ফল ও পুষ্প প্রদান প্রভৃতি যেকোনো সেবায় ৩৩ সংখ্যার ব্যবহার। (পুরাণে বর্ণিত আছে, এ মাসে কৌশিক মুনি ও তাঁর পুত্র মৈত্রেয় মুনি ব্রাহ্মণ গণকে ৩৩ সংখ্যক আকূপ দান করেছিলেন। আপূপ- আতপ চাল, শর্করা ও ঘৃত দ্বারা তৈরি পিষ্টক বিশেষ)

দীপ দানঃ

পরম পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সন্তুষ্টির জন্য প্রতি সন্ধ্যায় ঘৃত প্রদীপ প্রদান করা কর্তব্য। সামর্থ্য থাকলে ঘৃত-প্রদীপ, নতুবা তিল তৈল-প্রদীপ দেওয়া উচিত।

যোগো জ্ঞানং তথা সাংখ্যং তন্ত্রাণি সকলনপি।
পুরুষোত্তমদীপস্য কলা নাহন্তি ষোড়শীম্ ॥

অনুবাদ : অষ্টাঙ্গযোগ, ব্রহ্মজ্ঞান ও সাংখ্যজ্ঞান এবং সমস্ত তান্ত্রিক ক্রিয়া পুরুষোত্তম মাসে দীপ দানের ষোড়শী কলারও তুল্য হয় না।

শ্রীমদ্ভাগবত শ্রবণঃ

এ মাসে প্রতিদিন শ্রীমদ্ভাগবত ও অন্য সদৃগ্রন্থাদি অধ্যয়ন করা উচিত। বিশেষ করে শ্রীমদ্ভাগবতের ১০ম স্কন্ধে বর্ণিত ব্রহ্মস্তুতি ও শ্রীমদ্ভগবদগীতার পঞ্চদশ অধ্যায়।

শ্রীমদ্ভাগবতং ভক্ত্যা শ্রোতব্যং পুরুষোত্তমে।
তৎপুণ্যং বচসা বক্তৃং বিধাতা হি ন শকুয়াৎ ॥

– পুরুষোত্তম মাসে ভক্তিপূর্বক শ্রীমদ্ভাগবত গ্রন্থ শ্রবণ করবে। ভাগবত শ্রবণের পুণ্য, বিধাতাও বলতে পারে না। ভক্তগণ। শ্রী শালগ্রাম শিলার অর্চন করবেন।

প্রকাশকঃ শ্রী চারুচন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী
হরেকৃষ্ণ পাবলিকেশন্স (ইসকন)