তর্পণ-প্রয়োজনীয় জিনিষ
১। আসন-কুশাসন বা বজ্রাসন
২। কাঠ, তামা বা পিতলের শুদ্ধ থালা (উঁচু কানা, কাঁচ বা ষ্টিল নয়) – তর্পণের জল ফেলার জন্য
৩। পিতল বা তামার জল রাখার শুদ্ধ পাত্র এবং জল তোলার চামচ
৪। শুদ্ধ বা গঙ্গা জল বা, শুদ্ধ জলে তুলসি পত্র।
৫। কালো তিল
৬। কুশ এবং কুশের আংটি

পিতৃপুরুষের নাম এবং গোত্র (একমাত্র মৃত / মৃতা হলে তর্পণ হবে- অন্যথায় নয়)
পুরুষ- এই ছয়জনকে ষটপুরুষ বলে।

১. বাবা পিতা স্বগোত্র
২. বাবার বাবা পিতামহ স্বগোত্র
৩. বাবার বাবার বাবা প্রপিতামহ স্বগোত্র
৪. মায়ের বাবা মাতামহ সাধারণতঃ অন্য গোত্র
৫. মায়ের বাবার বাবা প্রমাতামহ সাধারণতঃ অন্য গোত্র
৬. মায়ের বাবার বাবার বাবা বৃদ্ধপ্রমাতামহ সাধারণতঃ অন্য গোত্র

নারী

১. মা মাতা স্বগোত্র
২. বাবার মা পিতামহী স্বগোত্র
৩. বাবার বাবার মা প্রপিতামহী স্বগোত্র
৪. মায়ের মা মাতামহী সাধারণতঃ অন্য গোত্র
৫. মায়ের বাবার মা প্রমাতামহী সাধারণতঃ অন্য গোত্র
৬. মায়ের বাবার বাবার মা বৃদ্ধপ্রমাতামহী সাধারণতঃ অন্য গোত্র

পিতৃব্য কাকা স্বগোত্রমা ব্যতীত মায়ের তরফে অন্যান্যদের (৪, ৫, ৬, ১০,১১,১২) গোত্র সাধারণতঃ আলাদা অন্যান্য আত্মীয় বা বা প্রিয়জনদের নাম এবং গোত্র যাঁদের তর্পন হবে। (একমাত্র মৃত / মৃতা হলে তর্পণ হবে। অন্যথা নয়)

১. পিতৃব্য কাকা স্বগোত্র
২. মাতুল মামা মায়ের বাবার গোত্র
৩. পিতৃম্বসা পিসি অবিবাহিত হলে স্বগোত্র নতুবা ?
৪. মাতৃম্বসা মাসি অবিবাহিত হলে মায়ের বাবার গোত্র নতুবা ?
৫. ভ্রাতা ভাই স্বগোত্র
৬. ভগিনী বোন অবিবাহিত হলে স্বগোত্র নতুবা ?
৭. শ্বশুর শ্বশুর ?
৮. শ্বশ্রুমাতা শাশুড়ী ?
৯. অন্যান্য আত্মীয় বা প্রিয়জন

তর্পণের জন্য অন্যান্য কয়েকটি জ্ঞাতব্যবিষয়

১। বিভিন্ন তীর্থ

ক। দৈব তীর্থ – ডান হাতের সমস্ত আঙ্গুলের অগ্রভাগ
খ। কায়তীর্থ বা প্রজাপতি তীর্থ – ডান হাতের কনিষ্ঠার মূল
গ। পিতৃতীর্থ – ডান হাতের তর্জনী ও অঙ্গুষ্ঠের (বুড়ো আঙ্গুল) মধ্যদেশ
ঘ। ব্রাহ্মতীর্থ – ডান হাতের অঙ্গুষ্ঠের (বুড়ো আঙ্গুল) মূল

২। উপবীতী – পৈতা বাঁ কাঁধে অর্থৎ স্বাভাবিক ভাবে থাকবে (দেব কাৰ্য্য বা দেব তর্পণের জন্য)
৩। প্রাচীনাবীতী – পৈতা ডান কাঁধে থাকবে-পিতৃ কাৰ্য্য বা পিতৃতর্পণের জন্য
৪। নবীতী -পৈতে গলায় মালার মত থাকবে (মনুষ্য তর্পণের জন্য)
৫। অন্বার দক্ষিণ হস্ত – বাঁ হাতে ডানহাত ধরতে হয়।
৬। শুধুমাত্র পিতৃ তর্পণের জন্য জলে তিল মেশাবেন। অন্যান্য তর্পণ শুদ্ধ জলে হবে।
৭। প্রাদেশপ্রমাণ-বুড়ো আঙ্গুলের অগ্রভাগ থেকে তর্জনীর অগ্রভাগ – প্রায় ৬-৭ ইঞ্চি জলে তৰ্পণ করিলে বাঁ হাতের লোমশুন্য স্থানে অথবা বজ্রাচ্ছদিত বাঁ হাতের উপর তিল রেখে ডান হাতের বুড়ো ও অনামিকা দ্বারা তিল গ্রহণ করবেন।
৮। পরিধেয় বস্ত্রে তিল রাখবেন না।
৯। বৃষ্টিতে ছাতা ব্যবহার করবেন। বৃষ্টিজল মেশান জলে তর্পণ করবেন না।
১০। গঙ্গাজলে তৰ্পণ করিলে “সতিলোকং” এর পরিবর্তে “সতিলগঙ্গোদকং” বা গঙ্গোদকং(তিলের অভাবে) বলবেন।
১১। কোন তীর্থের জল হলে, সেই তীর্থের নামের সঙ্গে উদকং যোগ করে নেবেন। (যথা – মানসরোবরোদকং, ব্রহ্মপুত্রোদকং, যমুনোদকং ইত্যাদি)
১২। চন্দনযুক্ত জলে তৰ্পণ করিলে বিশেষ ফল পাওয়া যায়।
১৩। তিলের অভাবে কুশ ব্যবহার করা যায়।
১৪। তর্পণপদ্ধতি পদ্মপুরাণোক্ত অনুসারে বর্ণিত যেহেতু স্ববেদোক্ত তর্পণ আর কেউ করেন না। সেইজন্য পদ্ধতি সবার সমান। বৈদিক আবাহনের প্রয়োজন নেই। শুধু ঋগ্বেদী “তৃপ্যতু” বলেন। অন্যান্যরা “তৃপ্যতাম্ বলেন।
১৫। কাহারও নাম জানা না থাকলে, নিজ নামের পর সম্বন্ধ উল্লেখ করে তারপরে দেবশর্মণ বা দেবীং বলবেন। যথানাম’ বলবেন না।
১৬। শুক্লবস্ত্র (সাদা)পরে তর্পণ করা উচিৎ।
১৭। পিতৃপিতামহাদি ও মাতা প্রভৃতি সপিন্ডকরণের পর স্বর্গের দক্ষিণাংশে পিতৃলোকে গমন করে পিতৃ আখ্যা প্রাপ্ত হন। সেজন্য পিতৃ আবাহন, পিতৃ স্তুতি এবং পিতৃ প্রণাম সকলের পক্ষে প্রযোজ্য।

তর্পণ পদ্ধতি

১। স্নান করে জলে নদী অভাবে শুদ্ধ স্থানে দাঁড়িয়ে আদ্রবস্ত্রে তর্পণ করা যায়। জলে দাঁড়ালে তর্পণের জল প্রাদেশপ্রমাণ (প্রায় ৬-৭ ইঞ্চ) উঁচু হতে জলে ফেলবেন। প্রথমে পূর্ব বা উত্তর মুখে দাঁড়াবেন।
২। স্নান করে তীরে উঠে শুষ্ক বস্ত্রে উদ্ধৃত (তোলা) জলে তর্পণ করা যায়। তোলা জলে তর্পণ করিলে,
• পিতল বা তামার পাত্রে জল রেখে সেই পাত্র হতে বাম হস্তে জল নিয়ে অন্য পবিত্র তামার পাত্রে কিম্বা জলপূর্ণ গর্তে তর্পণের জল নিক্ষেপ করুন।
• জল নিক্ষেপ পাত্রে আগে কয়েকটি কুশ রাখবেন। কুশশুন্য স্থানে তর্পণের জল ফেলা উচিত নয়।
• হাত, মুখ ধুয়ে শান্ত মনে পূর্ব বা উত্তর মুখে ঈশ্বরকে প্রণাম করে আসনে বসুন।

আচমন

বামহস্তে কুশি ধরে তাহার সাহায্যে কোশা থেকে একটু একটু জল গোকর্ণাকৃতি ডান হাতের (হাতের সব আঙ্গুল যোগ করে বুড়ো আঙ্গুল বাদে অন্য সব আঙ্গুল একটু তুলতে হবে যাতে একটু জল ধরে) ব্রাহ্মতীর্থে (অঙ্গুষ্ঠ মূলে) তিন বার পান করুন এবং প্রত্যেক বার পান করে “ঔঁ বিষ্ণুঃ” বলুন। তারপর হাত ধুয়ে নিন। বিষ্ণুস্মরণ (দেহ ও মন পবিত্রকরণ) বিষ্ণুর প্রসন্ন মুখ স্মরণ করে জোড় হাত করে পাঠ করুন

ঔঁ শঙ্খচক্র ধরং বিষ্ণুং দ্বিভুজং পীতবাসনং।
প্রারম্ভে কৰ্মণাং বিপ্রঃ পুণ্ডরীকং স্মরেদ্ধরি।।

(অর্থ – দুইহাতে শঙ্খচক্র, পীত বস্ত্র পরিহিত বিষ্ণুকে সমস্ত কাজের আগে জ্ঞানীরা স্মরণ করেন।)

ঔঁ তদৃবিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সুরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততং।

(অর্থ-ভগবান বিষ্ণু সবার পরম আশ্রয় এবং জ্ঞানীরা সেই বিষ্ণুকে সর্বদা সৰ্ব্বত্র দর্শন করেন।)

নিম্নলিখিতভাবে অঙ্গমার্জ্জন বা স্পর্শ করুন। অনুভব করুন স্পর্শমাত্র অঙ্গগুলি বিষ্ণুকৃপায় পবিত্র হয়ে যাচ্ছে।

১। দঃ হস্ত অঙ্গুষ্ঠ দ্বারা দুই বার মুখ মার্জন
২। তর্জনী মধ্যমা অনামিকাগ্র দ্বারা মুখ স্পর্শ
৩। অঙ্গুষ্ঠ তর্জনী দ্বারা নাসিকা দ্বয় স্পর্শ
৪। অঙ্গুষ্ঠ অনামিকাগ্র দ্বারা নেত্র ও কর্ণ দ্বয় স্পর্শ
৫। অঙ্গুষ্ঠ কনিষ্ঠ দ্বারা নাভি স্পর্শ তারপর হাত ধুয়ে নিন। তারপর আবার নিম্নলিখিতভাবে অঙ্গ মার্জন বা স্পর্শ করুন।
৬। করতল দ্বারা হৃদয় স্পর্শ ৭। অঙ্গুলীগুলি একত্র করিয়া মস্তক স্পর্শ
৮। অঙ্গুলী অগ্রভাগ দ্বারা বাহুমূল স্পর্শ (নিজেকে জড়িয়ে ধরুন।) তারপর হাত ধুয়ে নিন এবং বিষ্ণুর প্রসন্ন মুখ স্মরণ করে করজোড় করে পাঠ করুন।

ঔঁ অপবিত্রঃ পবিত্রো বা সর্বাবস্থাং গতোপিবা।
যঃ স্মরেৎ পুন্ডরীকাক্ষং সবাহ্যাভ্যন্তরঃ শুচিঃ।।

(অর্থ – অপবিত্র বা পবিত্র যে কোন অবস্থায় বিষ্ণুকে স্মরণ করলে বাহ্য ও অভ্যন্তর দুই পবিত্র হয়ে যায়।)।

গায়ত্রী জপ ও সমর্পণ অনন্তর অন্তত ১০ বার গায়ত্রী এবং / অথবা দীক্ষামন্ত্র জপ করুন। ডান হাতে একটু জল নিয়ে নিম্নলিখিত মন্ত্রে সেই জল ভূমিতে ফেলে দিন।

ঔঁ গুহ্যাতি গুহ্যগোপৃত্রী ত্বং গৃহাণাস্মকৃতং জপং।
সিদ্ধির্ভবতু মে দেবি ত্বৎপ্রসাদান্মহেশ্বরী।।

(অর্থ – হে দেবি, তোমার গুহ্যের গুহ্য মন্ত্রজপ গ্রহণ কর এবং তোমার দয়ায় আমার কার্যসিদ্ধি হোক।)

কুশধারণ মন্ত্রঃ নিম্ন মন্ত্রে বামহস্তে অনামিকাতে কুশাঙ্গুরীয় ধারণ করিবেন—

অস্য। বটুধারণ মন্ত্রস্য মহাবামদেব ঋযিৰ্বিরাড় গায়ত্রীচ্ছন্দো বটু দেবতা গ্রহণে বিনিয়োগ।
ওঁ ত্বং ব্রহ্মা, ত্বঞ্চ বিষ্ণুশ্চ, ত্বং রুদ্রং প্রজাপতিঃ।।
ত্বমেব ভগবন্দেব বটুদেব নমোহস্তুতে।।
ওঁ শ্রীং হ্রীং ক্লীং বিবস্রং বং বটুকায় নমঃ।।

দক্ষিণ হস্তের অনামিকাতে কুশাঙ্গুরীয় ধারণঃ

ওঁ বিরিঞ্চিনা সহোৎপন্নঃ পরমেষ্ঠিনিসর্গজঃ।
নুদঃ সৰ্বাণি পাপানি দর্ভ স্বস্তিকরো ভব।।

স্বাক্ষি আবাহনঃ জোড় হাত করে পাঠ করুন

ঔঁ সূর্যঃ সোমো যমঃ কালো মহাভূতানি পঞ্চ চ।
এতে শুভাশুভস্নেহ কর্মণো নবসাক্ষিণঃ।।

(অর্থ – সূর্য, চন্দ্র, যম, কাল, পঞ্চমহাভুত (ক্ষিতি,অপ,তেজ, মরুৎ, ব্যোম্) এই নয়জন সমস্ত শুভাশুভ কর্মের সাক্ষী থাকেন।)

তীর্থ আবাহনঃ জোড় হাত করে পাঠ করুন

ঔঁ কুরুক্ষেত্রং গয়া গঙ্গা প্রভাসপুষ্করাণি চ।
তির্থান্যেতানি পুণ্যানি তর্পণকালে ভবহি।।

(অর্থ – কুরুক্ষেত্র, গয়া, গঙ্গা, প্রভাস, পুষ্কর ইত্যাদি পুণ্য তির্থ এখানে তর্পণকালে উপস্থিত হোন।)

দেব তর্পণঃ

প্রয়োগ – উপবীতী (পৈতা স্বাভাবিক – বাঁ কাঁধে), পুর্বমুখ, দৈবতীর্থে শুদ্ধ জলে তর্পণ (তিল দিবেন না), অন্বার (বাঁ হাতে ডানহাত ধরে)
তর্পণ-নিম্নলিখিত মন্ত্রে প্রত্যেককে ১ বার করে তর্পণ করুন।
১। ঔঁ ব্রহ্মা তৃপ্যতু।। -(অর্থ-ব্রহ্মা তৃপ্ত হোন।)
২। ঔঁ বিষ্ণুস্তৃপ্যতু। -(অর্থ-বিষ্ণু তৃপ্ত হোন।)
৩। ঔঁ রুদ্ৰস্তৃপ্যতু। -(অর্থ-রুদ্র তৃপ্ত হোন।)
৪। ঔঁ প্রজাপতিস্তৃপ্যতু -(অর্থ-প্রজাপতি তৃপ্ত হোন।)
৫।

ঔঁ দেবা যক্ষাস্তথা নাগা গন্ধৰ্বাষ্পরসোহসুরাঃ।
রাঃ সর্পাঃ সুপর্ণাশ্চ তরবো জিহ্মগাঃ খগাঃ।
বিদ্যাধরা জলাধারাস্তথৈবাকাশগামিনঃ।
নিরাহারাশ্চ যে জীবাঃ পাপে ধর্মেরতাশ্চ যে।
তেষামাপ্যায়নায়ৈতদ্দীয়তে সলিলং ময়া।।

(অর্থ- দেব, যক্ষ, নাগ, গন্ধৰ্ব্ব, অপ্সরা, অসুর, ক্রুর প্রাণী, সাপ, সুপর্ণ (দৈবশক্তি বিশিষ্ট পাখী বিশেষ – গরুড় জাতীয়), গাছ, সরীসৃপ, সাধারণ পাখী, বিদ্যাধর, জলচর, খেচর, নিরাহার (ভূতাদি), ধার্মিক, অধার্মিক সব জীবের তৃপ্তির জন্য আমি এই জল দেই।)

মনুষ্য তর্পণ (ব্রহ্মার প্রথম সাত মনুষ্য পুত্রকে)

প্রয়োগ – নীবীতী (পৈতে গলায় মালার মত), পশ্চিমমুখ, অন্বারব্ধ (বাঁ হাতে ডানহাত ধরে), কায়তীর্থে (ডান হাতের কনিষ্ঠার মূল) শুদ্ধ জলে (তিল দিবেন না) অঞ্জলি

তর্পণ-নিম্নলিখিত মন্ত্রে ২ বার করে তর্পণ করুন

ঔঁ সনকশ্চ সনশ্চ তৃতীয়শ্চ সনাতনঃ।
কপিলশ্চাসুরিশ্চৈব বোঢ়ঃ পঞ্চশিখস্থথা।।
সৰ্ব্বেতে তৃপ্তিমায়ান্তু মদ্দত্তেনাম্বুনা সদা।।

(অর্থ- সনক, সনন্দ, সনাতন, কপিল, আসুরি,বোঢ়,পঞ্চশিখ আমার দেওয়া জল তৃপ্ত হোন।)

ঋষি তর্পণ (মরীচি আদি প্রয়োগ – উপবীতী (পৈতা স্বাভাবিক – বাঁ কাঁধে), পুর্বমুখ, দৈবতীর্থদ্বারা শুদ্ধ জলে (তিল দিবেন না) তর্পণ, অম্বারব্ধ (বাঁ হাতে ডানহাত ধরে)।
তর্পণ-নিম্নলিখিত মন্ত্রে ১ বার করে তর্পণ করুন।

১। ঔঁ মরীচিস্তৃপ্যতু -(অর্থ-মরীচি তৃপ্ত হোন।)
২। ঔঁ অত্রিস্তৃপ্যতু -(অর্থ-অত্রি তৃপ্ত হোন।)
৩। ঔঁ অঙ্গিরাস্তৃপ্যতু -(অর্থ-অঙ্গিরা তৃপ্ত হোন।)
৪। ঔঁ পুলস্ত্যস্তৃপ্যতু -(অর্থ- পুলস্ত্য তৃপ্ত হোন।)
৫। ঔঁ পুলহস্তৃপ্যতু -(অর্থ- পুলহ তৃপ্ত হোন।)
৬। ঔঁ ক্রতুস্তৃপ্যতু -(অর্থ-ক্রতু তৃপ্ত হোন।)
৭। ঔঁ প্রচেতাস্তৃপ্যতু -(অর্থ-প্রচেতা তৃপ্ত হোন।)
৮। ঔঁ বশিষ্ঠস্তৃপ্যতু -(অর্থ-বশিষ্ঠ তৃপ্ত হোন।)
৯। ঔঁ ভৃগুস্তৃপ্যতু – (অর্থ-ভৃগু তৃপ্ত হোন।)
১০। ঔঁ নারদস্তৃপ্যতু – (অর্থ-নারদ তৃপ্ত হোন।)

যম তর্পণ প্রয়োগ – প্রাচিনাবীতী, দক্ষিণমুখ, সতিল জল পিতৃতীর্থে প্রদান
তর্পণ-নিম্নলিখিত মন্ত্রে ৩ বার করে তর্পণ করুন।

ঔঁ যমায় ধর্মরাজায় মৃত্যবে চান্তকায় চ।
বৈবস্বতায় কালায় সৰ্ব্বভূতক্ষয়ায় চ।
ঔঁড়ম্বরায় দধূণায় নীলায় পরমেষ্ঠিনে।
বৃকোদরায় চিত্রায় চিত্রগুপ্তায় বৈ নমঃ।

(অর্থ – যম, ধর্মরাজ, মৃত্যু, অন্তক, বৈবস্বত, কাল, সৰ্ব্বভূতক্ষয়, ঔঁড়ম্বর, দধূণ, নীল, পরমেষ্ঠি, বৃকোদর, চিত্র এবং চিত্রগুপ্ত – এই বিভিন্ন নামে যমকে আমি তর্পণ করছি।)

আবাহন – জোড় হাত করে ভক্তিভরে সমস্ত মনপ্রাণ দিয়ে পিতৃমাতৃপুরুষ বা মাতাদের আবাহন করুন –

ঔঁ আগচ্ছন্তু মে পিতর ইমং গৃহ্নপোহঞ্জলিম।

(অর্থ- হে পিতৃপুরুষ, আমার অঞ্জলি পরিমিত জল গ্রহণ করার জন্য আসুন)

চিন্তা করুন আপনার পিতৃপুরুষ এবং অন্যান্যরা এসেছেন এবং তাদের উপস্থিতি অনুভব করুন। প্রয়োগ-প্রাচিনাবীতী, দক্ষিণ মুখ, সতিল জল পিতৃতীর্থে প্রদান তর্পণ-অনন্তর নিম্নোক্ত মন্ত্রে তর্পণ করুন। প্রত্যেক বার মন্ত্র বলতে হবে।

পিতামহ ৩ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম **গোত্রং পিতামহং ****দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
প্রপিতামহ ৩ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ***গোত্রং প্রপিতামহং *#দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
মাতামহ ৩ বার – ওঁ বিষ্ণুরোম ***গোত্রং মাতামহং ***দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
প্রমাতামহ ৩ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ***গোত্রং প্রমাতামহং **দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
বৃদ্ধ প্রমাতামহ ৩ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম **গোত্রং বৃদ্ধপ্রমাতামহং **দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
মাতা ৩ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রাং মাতরং ****দেবীং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।
পিতামহী ৩ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্ৰাং পিতামহীংদেবীং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।
প্রপিতামহী ৩ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্ৰাং প্রপিতামহীংদেবীং তর্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।

নিম্নলিখিতদের ১ বার করিয়া তৰ্পণ করুন। একাধিক পিতৃব্য, মাতুল ইত্যাদি থাকিলে প্রত্যেককে আলাদা ভাবে একবার তর্পণ করুন।

মাতামহী ১ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রাং মাতামহীং ****দেবীং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।
প্রমাতামহী ১ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্ৰাং প্রমাতামহীং ****দেবীং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।
বৃদ্ধপ্রমাতামহী ১ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রাং বৃদ্ধপ্রমাতামহীং ****দেবীং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।
ভ্রাতুস্পুত্র ১ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ***গোত্রং ভ্রাতুস্পুত্রং *** দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।

পিতৃব্য ১ বার –

ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রং ****দেবশর্মণঃ প্রথমপিতৃব্যং দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।।
ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রং পিতৃব্যং *** দেবশর্মাণং তর্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।

মাতুল ১ বার –

ঔঁ বিষ্ণুরোম ***গোত্রং মাতুলং ****দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রং মাতুলং ****দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রং মাতুলং ****দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।

পিতৃম্বসা ১ বার –

ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্ৰাং পিতৃম্বসাং ****দেবীং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।
ঔঁ বিষ্ণুরোম যথাগোত্ৰাং পিতৃম্বসাং ****দেবীং তর্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।
ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্ৰাং পিতৃম্বসাং ****দেবীং তর্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।

ভগিনী ১ বার – ঔঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রাং ভগিনীং ** **দেবীং তর্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।

স্ত্রীর পিতামহ ও পিতামহী ১ বার – করে

ঔঁ বিষ্ণুরোম অমুকগোত্রং পত্নাঃ পিতামহং দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
ঔঁ বিষ্ণুরোম **গোত্রাং পত্নাঃ পিতামহীং **দেবীং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।

স্ত্রীর মাতামহ ও মাতামহী-১বার করে
ঔঁ বিষ্ণুরোম ***গোত্রং পত্নাঃমাতামহং **দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।
ঔঁ বিষ্ণুরোম গোত্রাং পত্নাঃমাতামহীং ****দেবীং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্যৈ স্বধা নমঃ।

স্ত্রীর মাতুল -১ বার

ওঁ বিষ্ণুরোম ****গোত্রং পত্নাঃমাতুলং দেবশর্মাণং তৰ্পয়ামি, এতৎ সতিলোকং তস্মৈ স্বধা নমঃ।

ভীষ্ম তর্পণ

প্রয়োগ-প্রাচিনাবীতী, দক্ষিণমুখ, পিতৃতীর্থ তর্পণ – সতিল জলে নিম্নোক্ত মন্ত্রে ৩ বার তর্পণ করুন।

ঔঁ বৈয়াম্রপদ্যগোত্রায় সাকৃতি প্রবরায় চ।

অপুত্রায় দদামেতৎ সলিলং ভীষ্মবর্মণে।।

(অর্থ-বৈয়াঘ্রপদ্য যার গোত্র, সাস্কৃত্য যার প্রবর, সেই অপুত্রক ভীষ্মবর্মাকে এই জল দিচ্ছি।)

ভীষ্ম প্রণামমন্ত্র।

জোড় হাত করে পাঠ করুন

ঔঁ ভীষ্মঃ শান্তনবো বীরঃ সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয়ঃ।।
আভিরট্টিরবাপ্নোতু পুত্রপৌত্রৌচিতাং ক্রিয়াং।।

(অর্থ- শান্তনুপুত্র বীর সত্যবাদী জিতেন্দ্রিয় ভীষ্ম এই জল দ্বারা পুত্রপৌত্রোচিত তর্পণাদি ক্রিয়ার জন্য তৃপ্তিলাভ করুন।)

অগ্নিদগ্ধে মৃতদের জন্য

প্রয়োগ – প্রাচিনাবীতী, দক্ষিণমুখ, পিতৃতীর্থ তর্পণ -সতিল জলে নিম্নোক্ত মন্ত্রে ১ বার তর্পণ করুন।

ঔঁ অগ্নিদগ্ধাশ্চ যে জীবা যেহপ্যদগ্ধাঃ কুলে মম।
ভূমৌ দত্তেন তৃপ্যন্তু তৃপ্তা যান্তু পরাং গতিম্।।

(অর্থ – যারা আমার কুলে জন্মে বা যে কোন প্রাণী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত হয়েছেন, তারা আমার ভূমিতে দেওয়া জলে তৃপ্ত হোন এবং মুক্ত হয়ে পরম গতি প্রাপ্ত হোন.।)।

বন্ধুবান্ধবদের জন্য

প্রয়োগ – প্রাচিনাবীতী, দক্ষিণমুখ, পিতৃতীর্থ। তর্পণ – সতিল জলে নিম্নোক্ত মন্ত্রে ১ বার তর্পণ করুন।

ঔঁ যেহবান্ধবা বান্ধবা বা যেহন্যজন্মনি বান্ধবাঃ।
তে তৃপ্তিমখিলাং যান্তু যে চাম্মত্তোয়কাক্ষিণঃ।।

(অর্থ – যারা বন্ধ নয় বা যারা বন্ধু অথবা যারা জন্মান্তরে বন্ধু ছিল এবং যারা আমার কাছে জলের প্রত্যাশা করে, তারা সম্পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করুন।)

আব্রহ্মলোক (সমস্ত লোক)- রাম তর্পণ

প্রয়োগ-প্রাচিনাবীতী, দক্ষিণমুখ, পিতৃতীর্থ তর্পণ -সতিল জলে নিম্নোক্ত মন্ত্রে ৩ বার তর্পণ করুন।

ঔঁ আব্রহ্ম ভুবনাল্লোকা দেবর্ষিপিতৃমানবাঃ।
তৃপ্যন্তু পিতরঃ সৰ্ব্বে মাতৃমাতামহাদয়ঃ।।
অতীতকুলকোটীনাং সপ্তদ্বীপনিবাসিনা
ময়া দত্তেন তোয়েন তৃপ্যন্তু ভুবনয়।

(অর্থ – ভুলোক থেকে ব্রহ্মলোক অবধি যাবতীয় লোকে অবস্থিত দেবগণ, ঋষিগণ, পিতৃগণ, মনুষ্যগণ, পিতৃকুল ও মাতৃকুল প্রভৃতি সকলে তৃপ্ত হোন। আমার পূর্ব পুৰ্ব্ব বহু কোটি জন্মের কুলের সবাই ও সপ্তদ্বীপনিবাসী সকল প্রাণী, ত্রিভুবন আমার দেওয়া জলে তৃপ্ত হোক )

তর্পণদোষ ক্ষালণ
জোড় হাত করে পাঠ করুন

ঔঁ অদ্য কৃত্যৈতৎ তর্পণকৰ্ম অচ্ছিদ্রম্ অন্তু।
ঔঁ অদ্য ইত্যাদি কৃতঃ অস্মিন্ তর্পণকৰ্ম্মাণ
যদ যদ বৈগুণ্যং জাতং তৎ দোষ প্রশমনায় ঔঁ বিষ্ণুস্মরণং করিষ্যে।।

(অর্থ – আজকের এই তর্পণকৰ্ম দোষমুক্ত হোক। আজকের এই তর্পণকৰ্ম্মে যে যে দোষ বা রুটি হয়েছে, তাহার নিবারণের জন্য আমি শ্রীবিষ্ণু স্মরণ করব)

ঔঁ তদৃবিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সুরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততং।

(অর্থ- সেই বিষ্ণু পরম আশ্রয় এবং জ্ঞানীরা ওনাকে সৰ্ব্বদা দর্শন করেন।)

ঔঁ বিষ্ণুঃ – এই মন্ত্র দশবার পাঠ করুন।

জোড় হাত করে পাঠ করুন

ঔঁ অজ্ঞানা যদি বা মোহাৎ প্রচ্যবেতাধ্বরেষু
যৎ স্মরণাদেব তদ্বিষ্ণোঃ সম্পূর্ণং স্যাদিতি শ্রুতিঃ।।

(অর্থ – অজ্ঞানে বা ভুলে রুটি হয়ে থাকলে, বিষ্ণুস্মরণদ্বারা দোষমুক্ত হয়ে তাহা সম্পূর্ণ হয় – ইহা শ্রুতি)।

বিষ্ণু সমর্পণ
হাতে এক গণ্ডুষ জল নিয়ে পাঠ করুন –

ঔঁ প্রিয়তাং পুন্ডরীকাক্ষঃ সৰ্ব্বযজ্ঞেশ্বরো হরিঃ।
তস্মিংস্তুষ্টে জগতুষ্টং প্রীণিতে প্রীণিতং জগৎ।।

(অর্থ – সমস্ত যজ্ঞের ঈশ্বর পুন্ডরীকাক্ষঃ শ্রীহরি বা বিষ্ণুর তৃপ্তি হোক। ওনার সন্তুষ্টিতে জগৎ সন্তুষ্ট হয়। ওনার প্রীতিতে জগৎ প্রীত হয়।) ময়া যদিদং তর্পণকৰ্মকৃতং তৎ সৰ্ব্বং ভগবদৃবিষ্ণুচরণে সমর্পিতম্।। (অর্থ-আমার এই সমস্ত তর্পণকৰ্ম্ম ভগবান শ্রীবিষ্ণু চরণে সমর্পণ করিলাম) বিষ্ণুর হাতের উদ্দেশ্যে হাতের জল ত্যাগ করুন। চিন্তা করুন বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে সমস্ত ফলত্যাগ করলেন ও তিনি সানন্দে সমস্ত কৰ্ম্মফল গ্রহণ করলেন।

ঔঁ বিষ্ণুঃ। ওঁ বিষ্ণুঃ। ওঁ বিষ্ণুঃ।