বৈদিক শাস্ত্রে তাঁরা ব্রাত্য। কিন্তু তাঁদের স্থান সাধারণ মানুষের হৃদমাঝারে। বাংলার সেই লৌকিক দেবদেবীর অন্যতম মা ষষ্ঠী। প্রচলিত বিশ্বাস, তাঁর কৃপায় সন্তান আসে বন্ধ্যা কোলে। দেবীর কোনও নির্দিষ্ট প্রতিমা সাধারণত দেখা যায় না। বদলে, তিনি পূজিতা হন ‘ষষ্ঠীর থানে’। স্থান শব্দেরই অপভ্রংশ এই ‘থান’। অন্য দিক দিয়ে দেখতে গেলে তিনি উর্বরতার দেবী। কিন্তু তাঁর পুজোর সঙ্গেই জড়িয়ে গেল জামাই-আদরের পরম্পরা। প্রসঙ্গত, সারা বছর আরও বেশ কিছু ষষ্ঠী তিথি পালিত হয়। কিন্তু সবথেকে জনপ্রিয় দুর্গা ষষ্ঠী এবং অরণ্য ষষ্ঠী বা জামাই ষষ্ঠী। জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লা পক্ষের ষষ্ঠী তিথিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে জামাই আপ্যায়নের জন্য। মধ্যযুগ মঙ্গলকাব্যের রচনাকাল। সে সময় থেকেই বাংলায় এই রীতির প্রচলন বলে মনে করা হয়। শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের দিনগুলো যাতে মসৃণ হয়, সেই ভাবনা থেকেই জামাইবরণ। তবে পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে জামাইয়ের সম্পর্ককেও সুদৃঢ় করার ইচ্ছে লুকিয়ে আছে লৌকিকতার পিছনে। জামাইকেও নিজের সন্তান বলে পরিচয় দেওয়ার মাধ্যম এই লোকাচার। সেইসঙ্গে কন্যা যাতে নিঃসন্তান না হয়, সেই প্রার্থনাও থাকে মা ষষ্ঠীর কাছে।

মিষ্টির হাঁড়ি হাতে ফিনফিনে সাদা মসলিনের পাঞ্জাবি আর মালকোচা মারা ধুতিতে শ্বশুরঘর আলো করা জামাই বাবাজি। পঞ্চব্যঞ্জনে সাজনো জামাইয়ের পাত। আম-কাঁঠাল, ইলিশের পেটি কিংবা কচি পাঠাঁর মাংস সহযোগে ভুরিভোজ ৷ আর তার আগে জামাইকে পাখার হাওয়া আর শান্তি জলের ছিটা দেওয়া! এমনকী মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদ বলে জামাইয়ের হাতে হলুদ মাখানো সুতো পরিয়ে দেওয়া! ‘জামাইষষ্ঠী’বললেই যে ছবিটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে ৷ এতো তাই-ই ৷ তবে, মা ষষ্ঠীর সঙ্গে জামাইয়ের সম্পর্কটা কী এ প্রশ্ন উঠতে পারে ৷ মনের মাঝে উঁকি দিতে পারে এ সম্পর্কে শাস্ত্র কী বলছে?

ভারতবর্ষ তথা দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে একসময় সংস্কার ছিল কন্যা যতদিন না পুত্রবতী হয় ততদিন কন্যার পিতা বা মাতা কন্যাগৃহে পদার্পণ করবেন না ৷ এই ব্যবস্থায় সমস্যা দেখা দিল —সন্তানধারণে সমস্যা বা সন্তান মৃত্যুর (শিশুমৃত্যু) ফলে কন্যার পিতামাতাকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হত কন্যার বাড়ি যাওয়ার জন্য ৷ সেক্ষেত্রে বিবাহিত কন্যার মুখদর্শন কীভাবে ঘটে? তাই সমাজের বিধানদাতা জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠীকে বেছে নিলেন জামাই ষষ্ঠী হিসাবে ৷ যেখানে মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ করে সমাদর করা হবে ও কন্যার মুখ দর্শন করা যাবে ৷ আর সেইসঙ্গে মা ষষ্ঠীর পুজো করে তাঁকে খুশি করা যাতে কন্যা শীঘ্র পুত্রমুখ দর্শন করতে পারে ৷ বর্তমানে অবশ্য এই সংস্কার পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে — কন্যার পিতামাতা অথবা যে ব্যক্তি কন্যা সম্প্রদান করবেন তিনি এক বৎসর কন্যার বাড়ি যাবেন না বা গেলেও কন্যার বাড়ির অন্নগ্রহণ করবেন না ৷

যদিও আধুনিক শহুরে জীবনে এই সংস্কার বিশেষ গুরুত্ব পায় না ৷ সংস্কার যাই হোক না কেন, মেয়ে জামাইকে ডেকে এনে সমাদর করা ও সেইসঙ্গে কন্যা যাতে সন্তানবতী হয় সেই লক্ষ্যে ‘মা ষষ্ঠীকে’ জুড়ে দিয়ে উৎসবের নামকরণ হল ‘জামাইষষ্ঠী’৷ ষষ্ঠী-পালন সাধারণত করে থাকেন মেয়েরা ৷ তাঁদের কাছে এর তাৎপর্য অন্যরকম ৷ কথিত আছে — এক পরিবারে দুটি বউ ছিল ৷ ছোট বউ ছিল খুব লোভী ৷ বাড়ির মাছ বা অন্যান্য ভাল খাবার রান্না হলেই সে লুকিয়ে লুকিয়ে খেয়ে নিত আর শাশুড়ির কাছে অভিযোগ করত ‘সব কালো বেড়ালে খেয়ে নিয়েছে ’৷ বেড়াল মা ষষ্ঠীর বাহন ৷ তাই বেড়াল, মা ষষ্ঠীর কাছে অভিযোগ জানাল ৷ মা ষষ্ঠী রেগে গেলেন ৷ যার জেরে ছোট বউ-এর একটি করে সন্তান হয় আর মা ষষ্ঠী তার প্রাণ হরণ করেন ৷ এইভাবে ছোট বউয়ের সাত পুত্র ও এক কন্যাকে মা ষষ্ঠী ফিরিয়ে নেন ৷ ফলে স্বামী, শাশুড়ি ও অন্যান্যরা মিলে তাকে ‘অলক্ষণা’ বলে গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় ৷ অথচ বড় বউ পুত্রকন্যাদের নিয়ে সুখে ঘর করতে থাকে ৷

ছোট বউ মনের দুঃখে বনে চলে যান ও একাকী কাঁদতে থাকেন ৷ শেষে মা ষষ্ঠী বৃদ্ধার ছদ্মবেশে তার কাছে এসে কান্নার কারণ জানতে চান ৷ সে তার দুঃখের কথা বলে ৷ তখন মা ষষ্ঠী তার পূর্বের অন্যায় আচরণের কথা বললে সে মাফ চায় ৷ ষষ্ঠী তাকে ক্ষমা করেন | এরপর বলেন — ভক্তিভরে ষষ্ঠীর পুজো করলে সাতপুত্র ও এক কন্যার জীবন ফিরে পাবে ৷ তখন ছোট বউ সংসারে ফিরে এসে ঘটা করে মা ষষ্ঠীর পুজো করে ও ক্রমে ক্রমে তার পুত্র কন্যাদের ফিরে পায় ৷ এর থেকে দিকে দিকে ষষ্ঠী পুজোর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে ৷ এটাই জামাইষষ্ঠী বা অরণ্যষষ্ঠী ব্রতকথার মূল গল্প ৷

এদিকে যে সময় জামাই ষষ্ঠী পালন করা হয় অর্থাৎ জৈষ্ঠ্য মাসে, প্রকৃতিতে আম-জাম-কাঁঠাল ইত্যাদি নানা ফলের সমারোহ ৷ তাই খুব ঘটা করে এদিন শাশুড়িরা ষষ্ঠীর পূজা করেন ৷ তারপর নেমন্তন্ন করে নিয়ে আসা জামাইকে আসনে বসিয়ে প্রথমে কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে আশীর্বাদ করেন ও দীর্ঘজীবন কামনায় মা ষষ্ঠীর স্মারক তেল-হলুদে চোবানো সুতো হাতের কবজিতে বেঁধে দেন ৷ এরপর আশীর্বাদী বস্ত্রাদি জামাইয়ের হাতে তুলে দেন ৷ আর সামনে বিবিধ মিষ্টান্নসহ নানা ফল খেতে দেন ৷ অবশ্য জামাই বাবাজীও শ্বশুরবাড়ি ঢোকার সময় যেমন দই-মিষ্টি আনতে ভোলে না তেমনি আশীর্বাদের পর প্রণামী হিসেবে শাশুড়িকে বস্ত্রাদি দিয়ে থাকে ৷ এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য —শুধুই জামাই নয়, মেয়েও কিন্তু বস্ত্রাদি উপহার হিসাবে পেয়ে থাকে ৷

এখন দেখে নেওয়া যাক শ্বাশুড়িরা কী ভাবে মা ষষ্ঠীর আরাধনা করেন:
অন্যান্য ষষ্ঠীর মতো এই ব্রততেও উল্লেখযোগ্য হল পুজোর ডালি। থাকে কাঁঠালপাতার উপর সাজানো পাঁচ, সাত বা নয় রকমের ফল। তার মধ্যে একটি হতেই হবে করমচা। আর থাকে ১০৮ গাছা দূর্বা। ষষ্ঠীপুজো উপলক্ষ্যে শ্বাশুড়িরা ভোরবেলা স্নান করে ঘটে জল ভরে নেন এবং ঘটের ওপর স্থাপন করেন আম্রপল্লব। সঙ্গে রাখেন তালপাতার পাখা। ১০৮টি দূর্বা বাঁধা আঁটি দিয়ে পূজোর উপকরণ সাজানো হয়। করমচা ফল-সহ পাঁচ থেকে সাত বা নয় রকমের ফল কেটে কাঁঠাল পাতার ওপর সাজিয়ে রাখতে হয় শ্বাশুড়িকে। একটি সুতো হলুদে রাঙিয়ে তাতে ফুল, বেলপাতা দিয়ে গিট বেঁধে সাজানো হয়। এর পর মা ষষ্ঠীর পুজো করা হয়। তার আগে সকালে ওই ডালি নিয়ে পুজো দিয়ে আসতে হয় মা ষষ্ঠীর থানে। ব্রতকথা পাঠের পরে সবাইকে ‘বাতাস’ দিয়ে, হাতে ষষ্ঠীর সুতো বেঁধে তবেই উপবাস ভঙ্গ করেন বাড়ির গৃহিণী। জামাই এলে সেই গাছা ঘটের জলে ভিজিয়ে তালপাতার সঙ্গে ধরে বাতাস করা হয় সন্তানদের এবং অবশ্যই জামাইকেও। তাঁকে বসিয়ে সুতোটা হাতে বেঁধে দিয়ে শ্বাশুড়ি পাখার হাওয়া দিয়ে ‘ষাট-ষাট-ষাট’ বলে ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করেন। বর্তমানে শহরাঞ্চলে অনেকেই এ ধরনের নিয়ম পালন না করলেও জামাইষষ্ঠীর দিন অবশ্যই জামাইদের নিমন্ত্রণ করেন। কোথাও কোথাও আবার শ্যালিকারা বাঁশের কঞ্চি বেঁকিয়ে ‘হার্ট শেপ’ তৈরি করে তাতে লালসুতো দিয়ে ধান বেঁধে সুন্দর আকৃতি করে ভগ্নিপতিকে উপহার দেন। জামাইষষ্ঠীর আসল উদ্দেশ্য হল মাতৃত্ব, সন্তান ধারণ এবং বংশবৃদ্ধি। মেয়ে যাতে সুখে শান্তিতে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে, তার জন্য মঙ্গল কামনা। ষষ্ঠী পূজার উপকরণ: আম্রপল্লব, তালপাখার পাখা, ধান, দূর্বা, পাঁচ থেকে নয় রকমের ফল, ফুল এবং বেলপাতা, সাদা সুতো ও হলুদ।

পাখার বাতাস দেওয়ার সময় একটি ছড়া বলতে হয়। শীতাতপ নিয়ন্ত্রকের রমরমার দিনে অনুভূত না হলেও, ঠান্ডা জলের ছিটের সঙ্গে তালপাতার বাতাসের মনোরম মাহাত্ম্য ছিল সাবেক জ্যৈষ্ঠের ভ্যাপসা গরমে। ছড়াটি মূলত এ রকম,

‘জ্যৈষ্ঠ মাসে অরণ্য ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট
শ্রাবণ মাসে লোটন ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট
ভাদ্র মাসে মন্থন ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট
আশ্বিন মাসে দুর্গা ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট
অঘ্রাণ মাসে মূলা ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট
পৌষ মাসে পাটাই ষষ্ঠী, ষাট ষাট ষাট
মাঘ মাসে শীতল ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট
চৈত্র মাসে অশোক ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট
বারো মাসে তেরো ষষ্ঠী ষাট ষাট ষাট |’

তবে ছড়াটির রূপভেদও আছে। এই ষাট হল সেই ‘বালাই ষাট’। অর্থাৎ সব বিপদ থেকে যেন রক্ষা পায় আমার সন্তান। তবে অন্যান্য রীতিনীতির মতো ষষ্ঠী পালন ঘিরেও বাঙাল-ঘটি ভেদাভেদ আছে। ঘটি পরিবারে ষষ্ঠী পালন অনেক বেশি হয় যে কোনও বাঙাল বাড়ির তুলনায়। বছরের অন্যান্য ষষ্ঠীও পালন করেন ঘটি পরিবারের গৃহিণীরা। ষষ্ঠী উপাসনার ডালি-র নাম বাঙাল বাড়িতে মুঠা, আবার ঘটিবাড়িতে বাটা। হলুদ ও সর্ষের তেলে চোবানো সুতোকে বাঙালরা ডাকেন ‘বানা’ বলে। তবে ঘটিবাড়িতে আবার এই বানা শব্দের তত চল নেই। ঘটিবাড়ির নিয়ম, ষষ্ঠীর উপাসকরা সেই তিথিতে উপোসভঙ্গের পরে নিরামিষ খাবেন। শুকনো আঁচে নাড়িয়ে নেওয়া চিঁড়ের উপর ঘন ক্ষীরের প্রলেপে গাছপাকা আম। চারদিক নিঃশব্দ না হলেও শোনা যায় হাপুস হুপুস শব্দ। চোখ থাকলে দেখাও যায়, লাল মেঝেতে পিঁপড়েদের কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যাওয়া।

নিয়মকানুন এবং আদর আপ্যায়নের শ্যাম-কুল দু’দিক রক্ষা করতে বেশির ভাগ ঘটিবাড়িতে জামাইষষ্ঠীর ভোজের আয়োজন হয় অন্য দিন। তা হলে, বাড়ির গিন্নিরা, যাঁরা এই ব্রত রাখেন, তাঁরাও খেতে পারবেন সব পদ। বাঙালিদের অন্য যে কোনও পার্বণের মতো জামাইষষ্ঠীও ভোজন ছাড়া অসম্পূর্ণ। এখন নিয়মে অনেক পরিবর্তন এলেও আগে অনেক পরিবারেই এই অনুষ্ঠানে মাংস ভক্ষণ ছিল নিষিদ্ধ। তবে তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে মাছের। হিন্দুধর্মে মাছ হল মঙ্গলচিহ্ন। ফলে অনেক ঘটিবাড়িতে এখনও শুভকাজে মাংসের বদলে মাছেরই অগ্রাধিকার।

কলকাতার মল্লিকবাড়িতেও জামাইষষ্ঠীর প্রীতিভোজে মাংস নেই। তার বদলে থাকে তপসে, পাকা পোনা, চিংড়ির অবাধ গতি। শেষ পাতে বা বৈকালিক আহারে সরের ক্ষীরের যোগ্য সঙ্গত দেয় আম, লিচু ও তালশাঁস। নিশ্ছিদ্র নজরদারি থাকে বাসনপত্রের খুঁটিনাটির দিকেও। ইটালিয়ান মার্বেলের বাসনে খাওয়ার পর পিতলের গাড়ুর জলে গামলায় মুখ ধুয়ে, রুপোর কৌটো থেকে লবঙ্গ বেঁধা পান মুখে দিয়ে তবেই জামাইয়ের ক্ষণিক রেহাই। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পরিবারে জামাইষষ্ঠীর ঘটা তো প্রায় কিংবদন্তির পর্যায়ে পৌঁছেছে। আদর-আপ্যায়নের পাশাপাশি জামাইদের বরণ করা হত মহার্ঘ্য উপঢৌকনে। আড়ম্বরে কম যেতেন না জামাইরাও।

এই পরিবারের এক কর্তা ক্ষিতীশচন্দ্রের মেয়ে অন্নপূর্ণার স্বামী হৃষিকেশ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বৈঁচির রাজা। নানা মশলা দিয়ে সাজা পান ঘন ঘন মুখে না পুরলে তাঁর চলত না। তাঁর জন্য সাজা পানের খিলি গাঁথা থাকত সোনার লবঙ্গ দিয়ে। প্রত্যেক বার খাওয়ার আগে সেই সোনার লবঙ্গ তিনি ছুড়ে ফেলতেন। এদিক ওদিকে পড়ে থাকা সেই সোনার লবঙ্গ কুড়িয়ে নিত রাজবাড়ি খুদে সদস্যরা। এ তো গেল কুটুম্বিতার আখ্যান।

কিন্তু কখনও কি বিগ্রহকে জামাইরূপে দেখা হয়েছে?

শুনতে অবাক লাগলেও এই নিদর্শনও আছে নবদ্বীপে। জ্যৈষ্ঠমাসের শুক্লপক্ষে মহাপ্রভু মন্দিরে পালিত হয় জামাই ষষ্ঠী। সে দিন আর শ্রীকৃষ্ণের অবতার নন, বরং নিমাই তাঁদের জামাই। এই মন্দিরের সেবায়েতরা বংশপরম্পায় বিষ্ণুপ্রিয়ার ভাইদের উত্তরপুরুষ। প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে এই তিথিতে শ্রীচৈতন্যদেবের বিগ্রহকে তাঁরা জামাই হিসেবে আপ্যায়ন করে আসছেন। স্থানীয় প্রবীণারা মহাপ্রভুকে ষাটের বাতাস দেন। হাতে পরিয়ে দেন সুতো। বিগ্রহের পরনে নতুন পোশাকের সঙ্গে থাকে রাজসিক ভোগের আয়োজন। রুপোর রেকাবিতে মরসুমি ফল, রুপোর বাটিতে ক্ষীর, রুপোর গ্লাসে জল দিয়ে ঘুম ভাঙানো হয় মহাপ্রভুর। তার পর থাকে চিঁড়ে, মুড়কি, দই, আম, কাঁঠাল ও মিষ্টির ফলাহার। মধ্যাহ্নভোজে নানা তরকারি, ডাল, ভাজা, থোড়, বেগুন পাতুরি, ছানার ডালনা, ধোকার ডালনা, লাউ, চালকুমড়ো এবং পোস্ত দিয়ে রাঁধা যায় এমন সব রকমের নিরামিষ পদ। দিবানিদ্রার পরে বিকেলে নিমাইয়ের উত্থানভোগে থাকে ছানা আর মিষ্টি। রাতে শয়ানের আগে গাওয়া ঘিয়ের লুচির সঙ্গে মালপোয়া আর রাবড়ি। সবার শেষে সুগন্ধি দেওয়া খিলি পান। তবে এই মন্দিরের জামাইষষ্ঠী-ভোগের বিশেষত্ব হল আমক্ষীর। গাছপাকা আমের রস ক্ষীরের সঙ্গে পাক দিয়ে তৈরি হয় এই পদ। এরসঙ্গে সেবায়েত পরিবারের ঘরে তৈরি মিষ্টি ছাড়া জামাইরূপী নিমাইয়ের মিষ্টিমুখ অসম্পূর্ণ।

জামাইষষ্ঠী পালনের রীতির হেরফের হয় জেলাভেদেও। তবে বরিশালী পরিবার এই রীতি এবং রীতির ব্যতিক্রমের বাইরে। কারণ বরিশাল জেলায় জামাইষষ্ঠীর পালনের প্রচলন নেই। ফলে বরিশালের পরিবারের মেয়ের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়লে শাশুড়ির হাতের তালপাতার ষাট-বাতাস থেকে বঞ্চিতই থাকতে হয় জামাইদের। তবে সে দিনের ভোজনপর্বে বাধা নেই। তবে জামাইবাবুর সঙ্গে শ্যালক শ্যালিকার রঙ্গ রসিকতার দিনও কিন্তু এটাই। জামাইকে ঠকাতেই কোনও এক বনেদি গিন্নির ফরমায়েসে হুগলির সূর্য মোদক বানিয়েছিল জলভরা তালশাঁস। নতুন মিষ্টি দেখে আগ্রহ ভরে কামড় বসিয়েছেন জামাই। পরমুহূর্তেই তাঁর হাত, নতুন পাঞ্জাবি মাখামাখি গাঢ় রসে। হাল্লা আর শুন্ডির রাজার দুই জামাইয়ের মতো ভূতের বর না থাকলেও বাঙালি জামাতাদের কাছে জামাইষষ্ঠীর আপ্যায়ন পরম বিলাসের।

জামাইষষ্ঠীতে কেন তিন বার ‘ষাট-ষাট-ষাট’ বলা হয় জানেন?

জামাইষষ্ঠীর অনুষ্ঠানের আচরণগুলোর প্রত্যেকটিই অর্থবহ। যেমন:

• ফুল, বেলপাতা দিয়ে হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে দেওয়ার অর্থ, তোমার সঙ্গে আমাদের পরিবারের বন্ধন এবং আমার মেয়ের সঙ্গে তোমার বন্ধন অটুট থাকুক ও সুখপ্রদ হোক।
• পাখা দিয়ে হাওয়া করার অর্থ, তোমার সমস্ত আপদ-বিপদ দূরে যাক, শান্ত থাকুক পরিবেশ।
• তিন বার ‘ষাট-ষাট-ষাট’ বলার অর্থ দীর্ঘায়ু কামনা করা।
• ধান সমৃদ্ধি ও বহু সন্তানের প্রতীক। দূর্বা চিরসবুজ ও চির সতেজতার প্রতীক।

এ সব কিছুই জামাইয়ের মঙ্গলের জন্য যেমন শুভ কামনা, তেমনই মেয়ের সুখে-শান্তিতে থাকার জন্য মঙ্গল চিন্তা এবং সুন্দর সাংসারিক জীবন যাপনের জন্য মা ষষ্ঠীর কাছে প্রার্থনা।

জামাই ষষ্ঠীর “স্পেশ্যাল” মেনুঃ
জামাই ষষ্ঠী মানে পাত পেড়ে খাওয়া। আর বাঙালি জামাই ষষ্ঠীর মেনু যেখানে খাদ্যরসিক, সেখানে শাশুড়ি মায়েরা পঞ্চব্যঞ্জনের আয়োজন করবেন না, তা কখনও হয়! এদিন মূলত দুপুরেই ভুরিভোজের আয়োজন করা হয়। শুরুতে গরম ভাতে ঘি। সঙ্গে দু’-চার রকম ভাজাভুজি। পরে আসে ডাল। তবে জামাইরা বুদ্ধিমান। এই সব খায় কম। কেন? আরে এর পরে যে আসবে বাঘা-বাঘা সব পদ। তাতে থাকতে পারে ইলিশের পাতুরি, গলদা চিংড়ির মালাইকারি। দই-রুই, ভেটকি মাছের ফ্রাই ইত্যাদি ইত্যাদি। আরে দাঁড়ান, চললেন কোথায়! এখনও শেষ হয়নি খাওয়া। এত সবের পরেও জামাই বাবাজির পেটের কোণে ছোট্ট একটা কম্পার্টমেন্ট থাকে মিষ্টির জন্য। তাই শেষ পাতে মিষ্টি থাকাটা মাস্ট! সঙ্গে দই। এর পরেও যদি পেটে জায়গা থাকে, তা হলে আম-কাঁঠাল-লিচু তো রয়েছেই। তবে মেনু প্ল্যান করার আগে জামাইয়ের পছন্দ-অপছন্দই শুধু নয়, মনে রাখবেন মেয়ের কথাও! দুজনের পছন্দ এমন পদই পরিবেশন করুন এদিন! আজকাল এত সব পদ একার হাতে রান্না করাটা বেশ কঠিন ব্যাপার। তাই তো অনেকেই জামাইকে বগলদাবা করে ভিড় জমান নানা রেস্তরাঁয়। সেখানে জামাই ষষ্ঠীর মেনু উপলক্ষে পরিবেশিত হয় খাস বাঙালি সব খাবারদাবার। তাতে শাশুড়ি মায়ের হাতের ছোঁওয়া থাকে না ঠিকই, কিন্তু খাওয়াটা মন্দ হয় না!

জামাই ষষ্ঠী উপলক্ষে কেনাকাটা ও কম হয় নাঃ
এই বাংলায় দুর্গাপুজো ছাড়া জামা-কাপড়ের বাজার খুব একটা জমে ওঠে না। সারা বছরই খরা। মাঝে চৈত্র সেলে কিছু বিক্রি-বাট্টা হয় ঠিকই। কিন্তু সেটাও ওই নামমাত্র। এমন মরা গাঙে বান আনে জামাই ষষ্ঠী। এমন একটা বিশেষ দিনে জামাইকে খালি হতে ফেরালে হয়! তাই চলে দেদার শপিং। মেয়ে আর নাতি-নাতনিরাই বা কী দোষ করল! এভাবেই শপিংয়ের লিস্ট বাড়তে থাকে। এই ক’দিন কেনাকাটাও কম হয় না। তাই তো মিষ্টির দোকান থেকে রেস্তরাঁ, ছোট কাপড়ের ব্যবসায়ী থেকে বড় দোকানি, সকলের ব্যবসাই তুঙ্গে ওঠে। আর এই ভাবেই একটা দিন বিশাল বাণিজ্যিক উৎসবে পরিণত হয়।

খাওয়ার সময় এই টিপসগুলো অবশ্যই মাথায় রাখুন:

জামাইদের স্নেহ-আদরে ভরিয়ে দেবেন শাশুড়িরা৷ একইভাবে জামাইদেরও এদিন জমিয়ে খাওয়ার দিন৷ পেটপুরে অবশ্যই খান৷ তবে সুস্থ থাকতে খাওয়ার সময় এই কয়েকটা বিষয় মাথায় রাখুন৷

• অনেক শাশুড়ি সকালের জলখাবার থেকেই জামাইকে নেমন্তন্ন করেন৷ সুযোগ পেয়ে সকাল থেকেই কব্জি ডুবিয়ে খেতে শুরু করবেন না৷ সীমিত খাবার খান যাতে দুপুরেও খেতে পারেন৷ আবার অনেক জামাই দুপুরে কব্জি ডুবিয়ে থাবেন বলে সকাল থেকে পেট খালি রাখেন না৷ এতে কিন্তু অ্যাসিডিটির সম্ভাবনা প্রবল৷ সকালে পরিমিত খাবার খান৷
• দুপুরে খেতে বসে প্রথমেই মাথায় রাখুন ভাত বেশি খেলে চলবে না৷সব রকম পদের সঙ্গে ভাত নিলে বেশি খাওয়া হয়ে যাবে৷ শেষের দিকে পেট আইঢাই করবে৷ ভাত কম খেলে সব্জি, ভাজা বেশি খাওয়ার চেষ্টা করুন৷
• সব শাশুড়িই জামাইয়ের প্রিয় মাছ, মাংসের পদ রাঁধেন৷ যতই সুস্বাদু হোক না কেন গরমের কথা মাথায় রাখুন৷ যতটা দেবে সবটা না খেয়ে পাতে তুলে নিন পরিমাণ মতো৷ খুব ভাল লাগলে বা শাশুড়ি দুঃখ পেলে বলুন বাকিটা পরে খাবেন৷ একসঙ্গে বেশি খেলে কিন্তু গরমে শরীর খারাপ হবে৷
• খাবারের সঙ্গে যদি স্যালাদ দেয় তাহলে অবশ্যই স্যালাদ বেশি করে খান৷ এতে খাবার খেতেও পারবেন, পরে হজমের সমস্যাও হবে না৷ স্যালাদ না দিলে আপনি ভালবাসেন বা স্যালাদ খান বলে চেয়ে নিতে পারেন৷
• জামাইষষ্ঠী যখন অন্তত ৫ রকম মিষ্টি পাতে পড়বেই৷ শেষপাতে ভুলেও মিষ্টি খাবেন না৷ বলুন মিষ্টিটা পরে খাবেন৷ ঘণ্টা দুয়েক পর বা বিকেলের দিকে ১-২টো মিষ্টি খান৷ বাকিটা বাড়ি নিয়ে আসুন৷ একসঙ্গে সব মিষ্টি খেয়ে ফেলবেন না৷
• জামাই ষষ্ঠীর নেমন্তন্নের সব খাবারই গুরুপাক হয়৷ তাই খেতে খেতে একেবারেই জল খাবেন না৷ এতে মাঝপথে পট যেমন ভরে যাবে, তেমনই হজমেরও সমস্যা হয়৷ তবে খাওয়ার আগে পরে এবং সারাদিন অবশ্যই পর্যাপ্ত জল খেতে থাকুন৷ যদি শ্বশুরবাড়িতে ঘোল, ডাবের জল বা লেবুর শরবতের আয়োজন থাকে তাহলে তো কথাই নেই৷
• গরম এড়াতে অনেকেই দুপুরের বদলে রাতে নেমন্তন্ন করেন জামাইকে৷ এটা না করাই ভাল৷ রাতে গুরুপাক খাবার খাওয়ার থেকে দিনে খেয়ে নেওয়াই ভাল৷ রাতে যতটা সম্ভব হালকা খাওয়া উচিত৷ ছুটির দিনে যখন পড়েইছে জামাই ষষ্ঠী দুপুরেই খেয়ে নিন নেমন্তন্ন৷

এমন বিশেষ দিনে জামাইকে দিতে পারেন এসব উপহার :

১। মোবাইল ফোন: এটা একটু বাড়াবাড়ি রকমের গিফট। কিন্তু আপনার ইচ্ছে থাকলে আমরাই বা আটকাই কেন। তবে মোবাইল কেনার আগে একটু রিসার্চ করে নেবেন। জমাইয়ের কেমন ফোন পছন্দ। আপনার বাজেটই বা কত। এসব নিয়ে একটা প্ল্যান ছকে ফেলুন। ইচ্ছে হলেও মেয়ের সাহায্যও নিতে পারেন। তাতে ভুল মোবাইল কিনে ফেলার ঝুঁকি একটু কমবে আর কী!

২। ঘড়ি: জামাইকে যখন উপহার দিচ্ছেন, তখন ঘড়ির কোনও বিকল্প হয় না। এক্ষেত্রে জামাইয়ের পছন্দ মতো অ্যানালগ বা ডিজিটাল ঘড়ি কিনতে পারেন। আর যদি একটু বেশি টাকা খরচ করতে মন চায়, তা হলে স্মার্ট ওয়াচও উপহার হিসেবে মন্দ নয়! ঘড়ি কেনার আগে আর-একটি বিষয় জেনে নেবেন। আপনার জামাই লেদার স্ট্র্যাপ পছন্দ করেন, না ধাতব স্ট্র্যাপ। সেই মতো কিনতে ভুলবেন না যেন!

৩। পেন: ছেলেদের উপহার হিসেবে পেনের কোনও বিকল্প নেই। তাই জামাইকে গিফট হিসেবে দামি কোনও পেন দিতেই পারেন। পার্কার কোম্পনির পেন বেশ টেকসই। এছাড়াও রয়েছে আরও অনেক কোম্পানি। তাই বিকল্প অনেক। বাজেট আর পছন্দ অনুযায়ী শুধু বেছে নিতে হবে।

৪। পোশাক: এমন বিশেষ দিনে অনেকেই জামাইকে পায়জামা-পাঞ্জাবি দিয়ে থাকেন। ইচ্ছে হলে আপনিও সেই রাস্তা নিতে পারেন। কিন্তু আধুনিক জামাই বলে কথা! তাই এবছর পায়জামা-পাঞ্জাবি নয়, বরং ফর্মাল অথবা ক্যাজুয়াল শার্ট। সঙ্গে ম্যাচিং করে ডেনিম নয়তো ট্রাউজারও উপহার হিসেবে দিন। টাই পরতে ভালবাসলে তাও উপহার (Gift) হিসেবে দিতে পারেন। ফর্মাল শার্টের সঙ্গে মানানসই কাফলিংও গিফট হিসেবে মন্দ নয়। আরও বেশি কিছু দিতে মন চাইলে জামা-কাপড়ের সঙ্গে বেল্ট এবং মানিব্যাগের সেটও দিতে পারেন।

৫। অ্যামাজন কিন্ডল: আপনার জামাই যদি বই পড়তে ভালবাসেন, তা হলে উপহার হিসেবে কিন্ডল কিন্তু মন্দ নয়। আর এমন বিশেষ দিনে এমন একটা বিশেষ উপহার পেলে আপনার জামাইয়ের যে বেশ ভালই লাগবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে একটা জিনিস মাথায় রাখবেন, যে কিন্ডলটা কিনছেন, তার মেমরি স্পেস কত তা দেখে নেবেন। একটু বেশি মেমরি স্পেস রয়েছে, এমন কিন্ডল কিনলে আপনার জামাইয়েরই সুবিধে।

৬। সানগ্লাস: যা গরম পড়েছে, তাতে গিফ্ট হিসেবে সানগ্লাস কিন্তু বেশ হয়। আজকাল নানা ধরনের রোদ চশমা পাওয়া যায়। জামাইয়ের মুখের গড়ন অনুযায়ী তার কোনও একটা কিনে ফেলুন। বাজেট বেশি থাকলে রে-ব্যান, নয়তো টম ফোর্ডের মতো নামী-দামি কোম্পানির রোদচশমাও উপহার হিসেবে দিতে পারেন।

৭। গলার চেন বা আংটি: বাজেট একটু বেশি হলে এবছর জামাইকে সোনার চেন বা আংটি দিতে পারেন। দিতে পারেন ব্রেসলেটও। আজকাল অনেকে বালাও পরে থাকেন। তাই সোনার বালাও উপহার হিসেবে মন্দ নয়। সোনার পরিবর্তে ইচ্ছে হলে প্লাটিনাম জুয়েলারিও দিতে পারে।

৮। ফোটো ফ্রেম বা হোম ডেকর আইটেম: জামাই যদি ঘর সাজাতে ভালবাসেন, তা হলে তো আপনার মুশকিল আসান! সেক্ষেত্রে ঘর সাজানোর যে-কোনও জিনিস উপহার হিসেবে দেওয়া যেতে পারে। দিতে পারেন ফোটো ফ্রেমও। আর তাতে সেই ফোটো ফ্রেমে যদি মেয়ে-জামাইয়ের একটা ফোটো সেঁটে দিতে পারেন, তা হলে তো কথাই নেই। ইচ্ছে হলে পেন্টিংও উপহার দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনার কাছে বিকল্প অনেক। একটু প্ল্যানিং করে সেই মতো কিনে বা বাঁধিয়ে ফেলুন।

৯। পারফিউম: জামাই যদি একটু শৌখিন প্রকৃতির মানুষ হন, তা হলে উপহার হিসেবে পারফিউমও কিন্তু মন্দ নয়। এক্ষেত্রে আপনার খরচ হবে ১,৫০০-৬,০০০ টাকার মতো। ইচ্ছে হলেও আরও দামি পারফিউমও দিতে পারেন।

১০। পাসপোর্ট ওয়ালেট: আপনার জামাই কি কাজের সূত্রে প্রায়ই বিদেশে যান? তা হলে এবারের জামাই ষষ্ঠীতে তাঁকে উপহার হিসেবে পাসপোর্ট ওয়ালেট দিতে পারেন। এমন ওয়ালেট আয়তনে একটু বড় হয়। তাই তো এতে পাসপোর্ট থেকে জরুরি ডকুমেন্ট, সবই একসঙ্গে রাখা যায়।