বৈষ্ণব শাস্ত্রে বলে, সৃষ্টির মধ্যে পুরাতন কিছু নেই। তাই ভক্ত কবি গেয়ে গেছেন- নব নবরে নিতুই নব। অর্থাৎ এ সংসার নিত্য নবীনতার আকর। এখানে যা পুরাতন, তা টিকতে পারে না, একেবারেই লোপ পায়। মানুষের দেহ নিত্য নতুন হচ্ছে। গাছ-লতা-গুল্ম নিত্য নবীনতা ধারণ করছে। সৃষ্টি শক্তি অনবরত নতুন নিয়েই খেলা করে। আর এই নতুনের মধ্যে নব নটবর নিতুই নব নব লীলার প্রকাশ করছেন। যদি সবই নতুন, তবে এর মধ্যে পুরাতন কি? পুরাতনের বোধটা যে আমাদের প্রত্যেকের হৃদয়ে রয়েছে। কেমন করে সে জ্ঞানটি হল? ঐ বৈষ্ণব শাস্ত্রই উত্তর দিচ্ছেন যে, এই নতুন সৃষ্টির নবীন লীলার মধ্যে আমিই পুরাতন। এই আমার আমিত্ব বোধটাই সনাতন। আমি আছি, আমি ছিলাম, আমি থাকব-এই জ্ঞান থেকেই কালের পরিমাণ, এই জ্ঞান থেকেই পুরাতনের বোধ। আমি যখন লীলাময় তখন ‘নব নবরে নিতুই নব’। তখন প্রতি পলে প্রতি ক্ষণে আমার থেকে নঈনতার প্রস্রবণ যেন ছুটে বের হতে থাকে। তখন পুরাতনের বোধও থাকে না, পুরাতনের ভাবনাও থাকে না। কিন্তু যখন আমি আছি, এই জ্ঞানটা ফুটে উঠে, আমার আমিত্বের সনাতন তত্ত্বটা যখন বুঝতে পারি, তখন পুরাতন ছাড়া, কেবল অতীত কালের বোধ ছাড়া অন্য অনুভূতি মনে লাগে না। এমন অনুভব হলে সৃষ্টি রক্ষা সম্ভপর হয় না। তখন মনে হয় আমি নিষ্ক্রিয়, নির্গুণ, নিরালম্ব সত্য-স্বরূপ। তখন মনে হয় জগতের এ লীলা মায়া, এটা যাদুকরের ইন্দ্রজাল মাত্র। তাই সমাজ রক্ষার জন্য মানুষকে কর্মি করার উদ্দেশ্যে পুরাতনে ও নতুনে পর্যায়ের সৃষ্টি হয়েছে। মালা জপ কর তো? একবার মালাটা ঘুরানোর পর, হিসাব রাখার উদ্দেশে মাটির উপর একটি যব রেখে দিতে হয়। এমনি করে কেউ শত যব মালা করে, কেউ বা সহস্র যব মালা ঘুরায়। মানুষ মাত্র অহরহ তেমনি স্মৃতির মালা ঘুরাচ্ছে। কাল কি ছিল, আজ কি হল, আমাগী কাল কি হবে, এই চিন্তার মালা মানুষের মনে অহরহ ঘুরছে। একবার সে মালা ঘুরানো শেষ হলে একটা বর্ষ শেষ হল মনে করতে হয়। ইংরেজের পুরাতন বর্ষ শেষ হয় ৩১শে ডিসেম্বর।

আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুসরনীয় বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী বর্ষান্তের চৈত্র মাসের শেষ দিন চৈত্র সংক্রান্তি । সাধারনভাবে শেষ দিনটি হয়ে থাকে ৩০শে চৈত্র। ঋতুরাজ বসন্তেরও শেষ আজ। বাংলা সন তার শেষ গান গেয়ে আজ বিদায় নেবে। বসন্তকে বিদায় জানিয়ে আসবে নতুন বছর। ঋতুচক্রের পরিক্রমায় শুরু হবে গ্রীষ্মকাল। কিন্তু চৈত্র সংক্রান্তি পালনের বিষয়টি বছর শেষ ঘোষণার জন্যে নয়, দিনটি পালন হবে মানুষের শরীর ও প্রকৃতির মধ্যে একটি যোগ সুত্র ঘটাবার জন্য। প্রকৃতি থেকে কুড়িয়ে এনে শাক এবং চৈতালি মৌসুমের সবজি, পাতা, মুড়া ইত্যাদি খেয়ে চৈত্র সংক্রান্তি পালন করতে হবে। এই রেওয়াজ ঢাকা শহরে খুব বেশী নেই, কিছু কিছু জায়গায় কথার কথা হিসাবে চৈত্র সংক্রান্তি পালিত হলেও আসল প্রস্তুতি চলছে বৈশাখ বরণের। নতুন বছর। তবু, নতুন বছর শুভ হোক।

আজ রাত পোহালেই বাংলা নববর্ষ। তার আগে আজকে যাকে কেন্দ্র করে গ্রাম বাংলা উদ্‌বেল হয়ে ওঠে তার নাম গাজন। এই উৎসব মূলত হাড়ি, বাগদি, বাউড়ি, ডোম, মুচি প্রভৃতি তথাকথিত নিম্নবর্ণের মানুষের উৎসব। তাঁদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, সদগোপ প্রভৃতি শ্রেণিও এই উৎসবে সক্রিয় ভাবে যোগ দেয়। তাঁদের সম্মিলিত যোগদানে উৎসবটি গ্রামীণ বাংলার প্রকৃত লোক উৎসবের চেহারা নেয়। তারাপদ সাঁতরা তাঁর ‘হাওড়া জেলার লোক উৎসব’ গ্রন্থে এই উৎসবকে ‘বাংলার প্রকৃত গণ উৎসব’ বলে অভিহিত করেছেন। পুরনো বছরের যাবতীয় ক্লান্তিকে দূর করে নতুন বছরের আগমন বার্তা ঘোষণা এবং সমৃদ্ধি প্রার্থনাই এই উৎসবের মূল সুর। আগামীকাল বিশ্বজুড়ে বাঙালিরা মেতে উঠবে বর্ষবরণ উত্সবে। বৈশাখ আসবে নতুন দিনের বারতা নিয়ে। চৈত্র সংক্রান্তি থেকে শুরু করে আষাঢ়ি পূর্ণিমা পর্যন্ত সংক্রান্তি কিংবা পূর্ণিমা তিথিতে এ উৎসব উদযাপিত হয়। এই উপলক্ষে এক গ্রামের শিবতলা থেকে শোভাযাত্রা শুরু করে অন্য শিবতলায় নিয়ে যাওয়া হয়, একজন শিব ও একজন গৌরী সেজে নৃত্য করে এবং অন্য ভক্তরা নন্দি, ভৃঙ্গী, ভূত-প্রেত, দৈত্যদানব প্রভৃতি সেজে শিব-গৌরীর সঙ্গে নেচে চলে- ।

মহাকাল এর আদি-অন্ত নেই। এক একটা দিন, মাস, বছর ক্রমশ মহাকালের গহ্বরে বিলীন হয়ে যায়। আজ যা বর্তমান, কাল তা অতীত। যা ঘটছে বা যা ঘটে গেছে ভাল হোক বা মন্দ, মহাকালের হেলদোল নেই। সে দর্শক, কেবলই দর্শক, সাক্ষীস্বরূপ। কিন্তু আমরা, তথাকথিত পাপ ও পুণ্যের হিসেব নিকেশ, পার্থিব আশা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে যাদের দিন কাটে—তাকিয়ে থাকি ভবিষ্যতের দিকে। আগামীকালের নতুন সূর্য কি নতুন বার্তা নিয়ে আসবে আমাদের জন্য? এই আশা-আকাঙ্ক্ষা, চাওয়াপাওয়ার দোলাচলে দুলতে দুলতেই কি আমরা আমাদের ঘটে যাওয়া অতীত কর্মের প্রায়শ্চিত্ত করি? নিজেদের যন্ত্রণা দিয়ে অনুভব করার চেষ্টা করি যে এই পৃথিবীটা সত্যিই তো কুসুমাস্তীর্ণ নয়। এখানে সুখ যেমন আছে, আছে দুঃখও। আর সুখের সঙ্গে দুঃখকে যে যত নির্লিপ্ত ভাবে গ্রহণ করতে পারবে সেই তো এই জীবন সংগ্রামে জয়ী হবে। এই দার্শনিক ভাবনার থেকেই কি চড়ক পুজোর উৎপত্তি?

ঠিক কবে থেকে এর সূত্রপাত তা বলা মুশকিল। এর পশ্চাতে একটি জোরালো কারণ আছে। বৌদ্ধধর্মের প্রভাব যখন ম্লান হয়ে এসেছে তখন বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েন। তেমনই কয়েক জন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলায় এবং পরে তাঁরা হিন্দুত্ব গ্রহণ করেন। ফলে হিন্দু ধর্মে মিশে যায় কিছু বৌদ্ধ তন্ত্র মন্ত্রের সাধন। এই তান্ত্রিক ক্রিয়া থেকেই পরবর্তী কালে উদ্ভব চড়ক পুজোর। চড়ক পুজোয় যোগদানকারী সন্ন্যাসীরা তান্ত্রিক সাধনা অভ্যাসের ফলে নিজেদের শারীরিক কষ্টবোধের ঊর্ধ্বে যান, তার ফলে চড়কের মেলায় নানা রকম শারীরিক কষ্ট স্বীকারে এঁরাই অগ্রণী হয়ে ওঠেন। যেমন—তিরিশ চল্লিশ ফুট উঁচু চড়ক গাছ থেকে পিঠে বঁড়শি গেঁথে দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া, জিভে বা শরীরের কোনও জায়গায় লোহার শিক গেঁথে দেওয়া বা ভাঙা কাচের টুকরোর ওপর দিয়ে হেঁটে যাওয়া, আগুনের খেলা দেখানো ইত্যাদি। তবে বর্তমানে এই সব বিপজ্জনক কসরৎ অনেক ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

চড়ক পুজো মূলত ধর্মের গাজন বা ধর্মঠাকুরের পুজো, পরবর্তী কালে যা রূপান্তরিত হয় শিবের গাজনে। এই ধর্মঠাকুরের উদ্ভব বৌদ্ধ দেবতা ধর্মরাজ থেকে। বাউরি, বাগদি, হাড়ি, ডোম প্রভৃতি গ্রামীণ মানুষেরা এই ধর্মঠাকুরের পুজো করেন। যদিও ধর্মঠাকুরের সেই অর্থে মূর্তি দেখা যায় না, পাথরের খণ্ডকেই পুজো করা হয়, তবু বাঁকুড়ার কিছু গ্রামে বুদ্ধমূর্তিকেই পুজো করা হয়। কোনও কোন গ্রামে ধর্মঠাকুর আর শিব দুজনেই গাজনে পূজিত হন। শিবের পুজো হয় বলে চড়ক পুজোকে শিবের গাজনও বলা হয়ে থাকে। কেবল শিব নয় চড়কে অর্ধনারীশ্বরের পুজোও হয়ে থাকে।

‘গাজন’ কথার উৎপত্তি নিয়ে নানা মুনির নানা মত। একাধিক গবেষক মনে করেন ‘গা’ বা গ্রাম এবং ‘জন’ অর্থাৎ জনসাধারণ এই দু’টি শব্দের মেলবন্ধনে ‘গাজন’ শব্দের উৎপত্তি। তাঁদের মতে, ‘গাজন’ হল ‘গ্রামের জনসাধারণের উৎসব’। অনেকে আবার ভিন্ন মত পোষণ করেন। গাজন উৎসবের দেবতা শিব বা মহাদেব। তিনি নন্দী, ভৃঙ্গী, বীরভদ্রদের নিয়ে শ্মশানে ঘুরে বেড়ান। কখনও কখনও জটার বাঁধন খুলে শিঙা বাজিয়ে নৃত্য করেন। মহামৌন কৈলাসের নীরবতা ভঙ্গ করতে জয়ধ্বনি দেন তাঁর অনুচরেরা। কালের কলতানে সেই জয়ধ্বনি পৌঁছে যায় ভক্তদের শিবপুজোর আঙিনায়। ভক্তদের জয়নাদে মুখর হয় গ্রাম বাংলা। সঙ্গে থাকে ঢাক, ঢোল, কাঁসর, ঘণ্টার ধ্বনি। এ ভাবে নিস্তরঙ্গ গ্রামের বুকে গর্জন মুখর পরিবেশ তৈরি হয় বলেই এই উৎসবকে বলে ‘গাজন’। অর্থাৎ এই মতের সমর্থকদের কথা অনুসারে গাজন শব্দটির উদ্ভব গর্জন থেকে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই শিবের গাজন হয়। তবে সব জায়গায় একই দিনে হয় না। পূর্ব বর্ধমান-সহ বেশিরভাগ জেলায় বাংলা বছরের শেষ মাস চৈত্র ৩০ বা ৩১ দিনের হলে যথাক্রমে ২৭ বা ২৮ তারিখ থেকে গাজন শুরু হয়ে থাকে। প্রথম দিন হয় ‘কামা’ অর্থাৎ স্বেচ্ছায় বা মানত করে কয়েক জন পুরুষ বা নারী নাপিতের কাছে ক্ষৌরকার্য সেরে গঙ্গা বা যে কোনও নদীতে স্নান সারেন। যে শিবমন্দিরে তাঁদের মানত সেখানকার পুরোহিত তাদের গলায় উত্তরীয় বা একগোছা সুতো পরিয়ে দেন। এ ভাবে তাঁরা গাজনের ভক্ত বা সন্ন্যাসী হন। গাজন উপলক্ষে তাঁরা কয়েক দিনের জন্য দেব সেবার অধিকার লাভ করেন। এই সময় গাজনের সন্ন্যাসীরা নিজেদের কাছে একগাছা বেতের লাঠি রাখেন। এবং নানা আচার পালন করেন। গেরুয়া লাল কাপড় পরে সন্ধ্যায় হবিষ্যান্ন খান। কাজ অনুসারে এই ভক্ত বা সন্ন্যাসীদের ‘মূল সন্ন্যাসী’, ‘দেউলে পাত্র’, ‘ভোগডাকা’, ‘পাটভক্তা’, প্রভৃতি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে অবশ্য মূল সন্ন্যাসী ছাড়া অন্য ভাগগুলি বিশেষ দেখা যায় না। অভিজ্ঞ বা বয়স্ক ব্যক্তি মূল সন্ন্যাসীর দায়িত্ব পান। শাস্ত্রীয় পুজো এবং হোম, যজ্ঞ বাদে দেবতার সব কাজই তিনি করতে পারেন।

বাংলা বছরের সমাপনী মাস চৈত্রের শেষ দিনকে ‘চৈত্র সংক্রান্তি’ বলা হয়। লৌকিক আচার অনুযায়ী, এ দিনে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বিশেষ করে বিদায় উত্সব পালন করে। দোকানপাট ধুয়ে-মুছে বিগত বছরের সব জঞ্জাল-অশুচি দূর করে পহেলা বৈশাখের দিন খোলা হবে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাষের নতুন খাতা। সে উত্সবের লোকায়ত নাম ‘হালখাতা’। ওই উত্সবে ধূপ-ধুনোর সুগন্ধি ভারী করে রাখে দোকানঘর ও বিপণিবিতানের পরিবেশ। তদুপরি অভ্যাগত এলেই গোলাপ-পানি ছিটিয়ে করা হয় অভ্যর্থনা। সারা বছরের খরিদ্দারদের কাছে বকেয়া টাকা তুলতে বছরের এই দিনকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়ার রেওয়াজ কতশত বছরের তা রীতিমতো গবেষণার বিষয়।এছাড়াও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসেছে মেলা। বাংলাপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, অতীতে চৈত্রসংক্রান্তি মেলা উপলক্ষে গ্রামাঞ্চলের গৃহস্থরা নাতি-নাতনিসহ মেয়েজামাইকে সমাদর করে বাড়ি নিয়ে আসত। গৃহস্থরা সবাইকে নতুন জামাকাপড় দিত এবং উন্নতমানের খাওয়া-দাওয়ারও আয়োজন করত। মেলার কয়েকদিন এভাবে তারা সবাই মিলে আনন্দ উপভোগ করত। বর্তমানে শহুরে সভ্যতার ছোঁয়া লাগায় আবহমান গ্রামবাংলার সেই আনন্দমুখর পরিবেশ আর আগের মতো নেই। তবে এখন শহরাঞ্চলের নগর সংস্কৃতির আমেজে চৈত্রসংক্রান্তি উত্সব বা মেলা বসে, যা এক সর্বজনীন মিলনমেলায় পরিণত হয়।

চৈত্র সংক্রান্তির রাত পোহালেই নতুন বছরের শুরু—পয়লা বৈশাখ। সূর্যসিদ্ধান্ত মতে বাংলা দিনপঞ্জির সূত্রপাত। নববর্ষে প্রথম দিন মিথিলা, আসাম, কেরালা, মণিপুর, উড়িষ্যা, তামিলনাড়ু, মায়ানমার, কম্বোডিয়া, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং তাইল্যান্ডের নববর্ষের সঙ্গে সমাপতিত হয়। বাংলার গৌড়ের শাসনকর্তা রাজা শশাঙ্কের রাজত্বকালের সঙ্গে বাংলা দিনপঞ্জিকে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করা হয়। আবার এ-ও মনে করা হয় যে সম্রাট আকবরের আমলেই এই বাংলা দিনপঞ্জি অনুসারে কৃষি খাজনা আদায় শুরু করা হয় কারণ চান্দ্র মতে তৈরি হিজরি দিনপঞ্জির সঙ্গে বাংলার কৃষির সময়কালের দ্বন্দ্ব রয়ে যাচ্ছিল। এই দ্বন্দ্ব অপসারণের জন্য আকবর বাংলা দিনপঞ্জি অনুসারে খাজনা গ্রহণ যথোপযুক্ত মনে করেন। সম্রাট বকেয়া খাজনা চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সংগ্রহের আদেশ দেন এবং চৈত্র সংক্রান্তির পর দিন পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হত নতুন খাতা বা হালখাতা। ব্যবসায়ী ও অন্যদের মধ্যে বিতরণ করা হত মিষ্টি। পয়লা বৈশাখ উৎসব অনুষ্ঠানে পালিত হত। সেই ট্রাডিশন চলছেই। পয়লা বৈশাখ মানে এখনও ব্যবসায়ীদের মধ্যে হালখাতা খোলার উৎসব। খদ্দেরদের মিষ্টিমুখ করানো। পাড়ায় পাড়ায় ম্যারাপ বেঁধে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, নতুন জামাজুতোয় নিজেকে সাজানো। কলকাতার কালীমন্দিরগুলোতে সে দিন তিলধারণের জায়গা নেই। এই হল গিয়ে বাঙালিদের পয়লা বৈশাখ। ছেলেমেয়ে ইংরেজি স্কুলে পড়বে আবার পয়লা বৈশাখ পালন করবে। এটাই তো সংস্কৃতির ককটেল।

সনাতন ধর্ম মতে, বাংলা মাসের শেষ দিনে শাস্ত্র ও লোকাচার অনুসারে স্নান, দান, ব্রত, উপবাস প্রভৃতি ক্রিয়াকর্মকে পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয়। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে উদ্বিগ্ন কৃষককুল নিজেদের বাঁচার তাগিদে বর্ষার আগমন দ্রুত হোক— এই প্রণতি জানাতেই চৈত্র মাসজুড়ে উত্সবের মধ্যে সূর্যের কৃপা প্রার্থনা করে। এখন সূর্য তার রুদ্ররূপে প্রতিভাত। তাই চৈত্রসংক্রান্তিতে নানা উপাচারের নৈবেদ্য দিয়ে তাকে তুষ্ট করে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। নানা আয়োজনে আজ যখন চৈত্রসংক্রান্তির পার্বণ, তখন একই সঙ্গে দুয়ারে কড়া নাড়ছে বাঙালির সবচেয়ে বড় অসাম্প্রদায়িক উত্সব পহেলা বৈশাখ। আজ রবিবার রাত পোহালেই কাল নতুন দিন। শুধু নতুন দিনই নয়, একই সঙ্গে নতুন বছরও। নতুন বছর কে স্বাগত জানাতে পুরো বাংলাদেশ এখন উন্মুখ। পুরো দেশ যেন এখন পরিণত হয়েছে এক উত্সবমুখর দেশে। বৈশাখকে বরণ করার জন্য সর্বখানেই এখন চলছে সাজগোজ আর ধোয়ামোছা। নববর্ষের নানা আয়োজনে ব্যস্ত এখন উত্সবপ্রেমীরা। আর সব প্রস্তুতিই এখন শেষ পর্যায়ে।

চৈত্র সংক্রান্তি পালন করার মধ্য দিয়ে গ্রামের মানুষের জ্ঞানের পরিচয় পাওয়া যায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠির কাছে চৈত্র সংক্রান্তির সাংস্কৃতিক ও ভাবগত তাৎপর্য অনেক গভীর। একটি বছর যখন পার হয়ে যায়, আবার বছর ঘুরে আরেকটি বছর ফিরে আসে তখন সবকিছুই একই রকম থেকে যাবার কথা না। হবার কথাও নয়। যেহেতু আমাদের গ্রামীণ পরিবেশ মূলত কৃষির সাথে যুক্ত, তাহলে কৃষির পরিবর্তনের সাথে আমাদের চাষাবাদে ও খাদ্যব্যবস্থায় কিছু না কিছু পরিবর্তন হবার কথা। প্রকৃতির সঙ্গে সারা বছর কী আচরণ করলাম তার বিচারের দিন চৈত্র সংক্রান্তি। প্রতিবছর কৃষির অবস্থা এক থাকছে না। আমাদের দেশের সরকারের কৃষি নীতিতে পরিবর্তন হচ্ছে, আসছে প্রযুক্তি নির্ভর কৃষি। তাহলে চৈত্র সংক্রান্তিতে কৃষক যখন তার আলানে পালানের মাঠে ময়দানে কি আছে আর কি নাই তার হিসাব নিতে বেরোয় তখন আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় খাদ্য উৎপাদন করার কথা বলে কিভাবে প্রকৃতিকে আমরা ধ্বংস করছি। আমাদের খাদ্য ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের আঘাত আসতে পারে কিনা। হ্যাঁ সেটাই হচ্ছে।

চৈত্র সংক্রন্তির সৌন্দর্য হচ্ছে গ্রামের কৃষকের স্মৃতি ও জ্ঞানচর্চার দিবস হিশেবে সবারই প্রায় অলক্ষ্যে দিনটি পালিত হয়ে যায়। গ্রামের মানুষ তাই তার জ্ঞানের মধ্যে যা যা পাবার কথা ছিল তা খুঁজে না পেলে আফসোস করেন, আমাদের বাপ-দাদার সময়ের, বা মায়েরা যে সব শাক সব্জি দিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি করতেন, — তা এখন নেই। রাস্তাঘাট হয়েছে, বড় বড় দালান কোঠা হয়েছে, তাই অনাবাদী শাক সব্জি আর খুঁজে পাওয়া যায় না। এসব আছে কি নেই সেটা জেনে আমাদের কেমন সতর্ক হতে হবে সেটা নির্ধারণের জন্যে হলেও চৈত্র সংক্রান্তি পালন খুব গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা নতুন বছরের প্রথম দিনকে উৎসব হিসাবে পালনের যে রেওয়াজ এখন গড়ে উঠেছে, তা হোক। এখন তো পয়লা বৈশাখ পালন বাণিজ্যিকভাবে বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। পয়লা বৈশাখ যে বৈশাখ মাসের ১ তারিখ তা ভুলে গিয়ে বলা হয় এপ্রিলে চৌদ্দ তারিখ। অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ নামের দিনটি উৎসব হবে সেটা কি বাংলা মাস নাকি ইংরেজী মাস তা জানার দরকার মনে করেন না। কেলেন্ডারে তারিখ দিয়ে দেখাচ্ছে ১৪ এপ্রিল। ছুটির দিন, সাদা লাল মিলে ডিজাইন করা শাড়ী, জামা, পাঞ্জাবী পড়ে ইংরেজীর মতো করে বাংলা বলে ইলিশ ধ্বংস করে দিবসটি পালিত হয়। পরের দিন থেকে বৈশাখ মাস ভুলে গিয়ে আবার এপ্রিলের নিয়ম মেনে যার যার কাজে জড়িয়ে পড়া। আসলে পয়লা বৈশাখের শুরু মধ্যেই এই গলদ রয়ে গেছে। ঔপনিবেশিক আমলে জমিদার মহাজনরা বছর শেষে পাওনা আদায় ও নতুন হিসাবের খাতা বা লালসালুতে মোড়ানো হালখাতা খুলবার প্রয়োজনে ইংরেজি নববর্ষের অনুকরণে যে রঙ্গরসের আয়োজন করত সেই ধারণার ধারাবাহিকতায় শহরের মধ্যবিত্তের মধ্যে বাংলা নববর্ষের ধারণা পুষ্টি লাভ করেছে।

এসব হোক। তাতে ক্ষতি আছে কি নেই মন্তব্য করতে চাই না। আমরা এখনো বিদেশীদের পাওনা আদায়ের নিষ্ঠুর উৎসব পালন করণেই আনন্দ পাচ্ছি, এটাই আমাদের দুর্ভাগ্য। কিন্তু চৈত্রের মহাবিষুব সংক্রান্তি পালনের পেছনে যে জ্ঞানকলা, বিজ্ঞানবুদ্ধি, প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টি – বিশেষত কৃষিকাজের মধ্য দিয়ে প্রাণ ও প্রকৃতির পুনরুৎপাদন ও বিকাশের অতি আবশ্যিক কর্তব্য পালনের রীতি – কোন অবস্থাতেই আমরা যেন তা ভুলে না যাই।

ঋতুর ধারণা আমাদের সংস্কৃতিতে প্রবল; ঋতুর যে ভাব বা ধারণা কৃষি সংস্কৃতিতে প্রবল সেখানে সময় কখনই শেষ হয়ে যায় না, কিম্বা আবার নতুন শুরুও হয় না, একই ঋতু বারবার ফিরে আসে। চিত্রা নক্ষত্রের রাশি চক্র অতিক্রম করে যাবার সময়টা চৈত্রের সংক্রান্তি, কিন্তু সেই একই চিত্রা নভোমণ্ডলে নিজের কক্ষ পরিভ্রমণ শেষে ফিরে আসবে আবার আগামি চৈত্রে। নতুন নক্ষত্র নয়, পুরানা নক্ষত্রই ফিরবে। চক্রাবর্তে প্রত্যাবর্তনের এই ধারণা সংক্রান্তিতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এর সম্পর্ক গ্রহ নক্ষত্রের সঙ্গে। বিপরীতে নতুন বছরের ধারণা ঘড়ি ও ক্যালেন্ডার থেকে উৎপন্ন। আমরা ঘড়ির দিকে তাকাতে তাকাতে গ্রহ নক্ষত্রের কথা ভুলে গিয়েছি। চাঁদ-সুর্য দেখে দিন-রাত বোঝার চর্চাও হারিয়ে যাচ্ছে।

চৈত্র সংক্রান্তিতে বিশেষ খাবার ছাতু, চিড়া, দই, মুড়ি, খই, তিল ও নারিকেলের নাড়ু ইত্যাদি খেতে হবে। তার সাথে দুপুর বেলার খাবারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ‘চৌদ্দ’ রকমের শাক খাওয়া। এর মধ্যে অন্তত একটি তিতা স্বাদের হতে হবে। যেমন গিমা শাক। চৈত্র মাসে গিমা শাক খেতেই হবে। গিমা শাক পাওয়া না গেলে বুঝতে হবে এখানে প্রকৃতি থেকে জরুরী কিছু হারিয়ে গেছে। একটু টক কিছু থাকাও দরকার। কাঁচা আম তো আছে। অসুবিধা নেই। মাছ মাংস খাওয়া চলবে না।

বাংলার কৃষক নারী চৈত্র সংক্রান্তিতে ঘরের পাশে আলান পালান মাঠের আনাচে কানাচে শাক কুড়াতে বেরোয়। নিয়ম আছে তাকে চৌদ্দ রকম শাক কুড়াতে হবে। আবাদী নয় কিন্তু অনাবাদী, অর্থাৎ রাস্তার ধারে, ক্ষেতের আইলে, চকে আপনজালা শাক তুলতে হবে। অর্থাৎ যে শাক লতাপাতা কেউ আবাদ করেনি, আপনা থেকেই গজিয়েছে — নিজে থেকে হয়ে ওঠা শাক। এই মৌসুমে যা টিকে থাকে। এই শাক তোলার অধিকার কৃষক নারীর থাকে। তার দেখার বিষয় হচ্ছে যেই শাক তাঁরা খুঁজছেন সে শাক আছে কিনা। ধনি পরিবারের নারীরা নিজে শাক তুলতে বের না হলেও তার আশে পাশে যারা গরিব নারী আছে্ন তাঁদের মাধ্যমে শাক তুলিয়ে আনেন। মনে রাখতে হবে বলা হয় ‘শাক তোলা’ শাক কাটা নয়। কখনোই তারা পুরো গাছটি উপড়ে ফেলে শাক আনবেন না। অতি যত্ন করে পাতাটি তুলে আনবেন। গাছ যেমন আছে তেমনই থাকবে।

কৃষক নারী খবর নিতে চায় প্রকৃতির যে অংশ অনাবাদী – যে অংশ কৃষি সংস্কৃতির সংরক্ষণ করে রাখার কথা, নইলে প্রাণের সংরক্ষণ ও বিকাশ অসম্ভব – সেই অনাবাদী প্রকৃতি ঠিক আছে কিনা। যেসব গাছপালা, প্রাণ ও প্রাণী আবাদ করতে গিয়ে আবাদী জায়গায় কৃষক তাদের দমন করেছে, উঠতে দেয় নি, থাকতে দেয় নি, কিষাণি মেয়ে এই দিনে খবর নেয় তারা সব কি ঠিকঠাক আছে তো? চৈত্র সংক্রান্তিতে চৌদ্দ রকম শাক খাওয়া তো আসলে সব রকম গাছপালা প্রাণ ও প্রাণীর হালহকিকতের খোঁজ নেওয়া। এটা নারীর সুক্ষ জ্ঞান। যা নারীদের মধ্যে মা থেকে মেয়ে, পাড়া প্রতিবেশীরা ভাগাভাগি করে শেখে। ‘চৌদ্দ’ সংখ্যাটা প্রতীকী। আসলে বেশী পাওয়া গেলে আরও ভাল। তবে চৌদ্দ রকম শাক পাওয়াই এখন কঠিন হয়ে গেছে। কৃষক মেয়েকে খবর নিতে হবে পুরুষ সারাবছর যে ‘চাষ’ করল তাতে অনাবাদি জাতি বা প্রজাতির হাল হকিকতের কি অবস্থা দাঁড়াল। ‘চাষ’ করার অর্থ আবা্দি ফসলের দিকে মনোযোগ দেওয়া, কিন্তু অনাবাদি ফসলের বিশাল ক্ষেত্র যেন তাতে নষ্ট বা কৃষি ব্যবস্থায় গৌণ না হয়ে পড়ে তার জন্যই চৌদ্দ রকম শাক তোলা ও খাওয়ার রীতি চালু হয়েছে। যদি প্রকৃতি ঠিক থাকে তবে এই শাক অবশ্যই পাওয়া যাবে। চৌদ্দ রকম শাক কুড়িয়ে পেলে তার কৃষি আবাদের সাথে প্রকৃতির ভারসাম্যের পরীক্ষা পাশ করা হবে।

জানা যায়, চৈত্র মাসে স্বামী, সংসার, কৃষি, ব্যবসার মঙ্গল কামনায় লোকাচারে বিশ্বাসী নারীরা ব্রত পালন করতেন। এ সময় আমিষ নিষিদ্ধ থাকত। জিয়ল মাছ (পানিতে জিইয়ে রাখা যায় এমন মাছ) যেমন কৈ শিং মাগুরের ঝোল করে খেতেন তারা। থাকত নিরামিষ, শাকসবজি আর সাত রকমের তিতো খাবারের ব্যবস্থা। বাড়ির আশপাশ বিল খাল থেকে শাক তুলে রান্না করতেন গৃহিণীরা। এই চাষ না করা, কুড়িয়ে পাওয়া শাক খেতে বাগানে বেশি বেশি পাওয়া গেলে বিশ্বাস করা হতো- সারা বছরের কৃষি কর্ম ঠিক ছিল। ফলে নতুন বছর নিয়ে দারুণ আশাবাদী হয়ে উঠতেন তারা। গ্রামের নারীরা এ সময় সাজগোছ করেন ঘরদোর। মাটির ঘর লেপন করে ঝকঝকে করেন। গোয়ালঘর পরিষ্কার করে রাখাল। সকালে গরুর গা ধুয়ে দেওয়া হয়। ঘরে ঘরে চলে বিশেষ রান্না। উন্নতমানের খাবার ছাড়াও তৈরি করা হয় নকশি পিঠা, পায়েস, নারকেলের নাড়ু। দিনভর চলে আপ্যায়ন। গ্রামের গৃহস্থরা এ দিন নতুন জামা কাপড় পরে একে অন্যের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। জানি, এসবের অনেক কিছুই হবেনা এবার।

সারা বছর সুস্থ থাকতে চৈত্র সংক্রান্তিতে কী খেতে হয়

শ্রাস্ত্র অনুযায়ী বিভিন্ন তিথি অনুযায়ী বিভিন্ন খাদ্য গ্রহণে নিষেধ আছে। যেমন- অষ্টমী, চতুর্দশী, পূর্ণিমা, অমাবস্যা ও সংক্রান্তিতে মাছ, মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ। ভাদ্র মাসে লাউ, মাঘ মাসে মুলো ও চৈত্র মাসে শিম খাওয়া নিষিদ্ধ। এ ছাড়াও বিভিন্ন তিথিতে বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে নিষেধ আছে। আসলে ভিন্ন ভিন্ন তিথিতে চন্দ্রের আকর্ষণে আমাদের শরীরে বিভিন্ন রসের তারতম্য ঘটে। সেই রসের সঙ্গে যে যে খাবারের রস মিশলে শরীরের অনিষ্ট হতে পারে, সেই সকল খাবারই এই সকল তিথিতে নিষিদ্ধ। বিভিন্ন তিথিতে শরীরের এই তারতম্য বুঝতে না পারলেও অমাবস্যা ও পূর্ণিমা তিথিতে তা বেশ বুঝতে পারা যায়। শরীরে কাটাছেড়া, ব্যথা বা অন্য যে কোনও অসুখ থাকলে তা বেশ বুঝতে পারা যায়। এর মধ্যেও আমাদের সুস্থ থাকতে হবে।

এখন জেনে নেওয়া সারা বছর সুস্থ থাকতে চৈত্র সংক্রান্তিতে কী কী খাদ্যদ্রব্য সুফলদায়ী হতে পারে: চৈত্র সংক্রান্তিতে তেতো খেতে হয়। তা হলে সারা বছর সুস্থ থাকবেন। এমনই বিশ্বাস অনেকের। অনেক হিন্দু নারী এ দিন ব্রত পালন করেন। এ সময় আমিষ নিষিদ্ধ থাকে। খাবারের তালিকায় থাকে শাকসবজি-সহ সাত রকমের তেতো খাবার।
চৈত্র সংক্রান্তির কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবার:
১। নিম পাতা– নিমপাতা ও চাল ভেজে এক সঙ্গে খাওয়া চৈত্র সংক্রান্তির পুরনো ধারা। অনেকের ধারণা, এই খাবার খেলে সারা বছর সুস্থ থাকা সম্ভব।
২। সজনে চচ্চড়ি– চৈত্র সংক্রান্তিতে অনেক বাড়িতে সজনে চচ্চড়ি রান্না হয়। তা দিয়ে অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।
৩। নিরামিষ তরকারি– ব্রত পালন করা নারীরা বিভিন্ন নিরামিষ তরকারি রান্না করেন। বিভিন্ন শাক দিয়ে এই রান্না করা হয়।
৪। কাঁঠালের তরকারি- চৈত্র সংক্রান্তির আরেকটি উল্লেখোগ্য খাবার কাঁঠালের তরকারি। কাঁচা কাঁঠালের নানা অংশ দিয়ে এই তরকারি রান্না করা হয়।
৫। গিমা শাক- গ্রামের গৃহিণীরা এ দিন গিমা শাক ও বেগুন দিয়ে তরকারি রান্না করেন। এ সব তরকারি খেতে দেওয়া হয় ব্রত পালনকারি নারীদের।
৬। তেতো ডাল- চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম খাবার তেতো ডাল। এটিই এই উৎসবের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত খাবার।
৭। নারকেল নাডু- এ দিন অনেক বাড়িতে নারকেলের নাডু বানানো হয়। অতিথি আপ্যায়নে চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম অনুসঙ্গ এই খাবার। চৈত্র সংক্রান্তিতে নকশী পিঠাও বানানো হয়।