সন্তোষী রত্ন সিংহাসনে নানা অলংকার ধারন করে থাকেন। তিনি চতুর্ভুজা, তাঁর ত্রিনয়ন, তিনি সর্ব মনস্কামনা পূর্ণ করেন, মোক্ষ প্রদান করেন। তিনি শঙ্খ পদ্ম করে ধারন করেন, তিনি রক্ত বস্ত্র পরিধান করেন। তিনি সিদ্ধ, গন্ধর্ব, দেবতাদের দ্বারা পূজিতা। সত্যনিষ্ঠভাবে সন্তোষী মায়েয় পুজা করলে,

 

শুক্র গ্রহের সুপ্রভাব পরে:

শুক্রবার উপোস করে দেবীর পুজো করলে শুক্র গ্রহের সুপ্রভাবে পরতে শুরু করে এমনটা ধারনা করা হয়। জন্মকুষ্টিতে শুক্রের খারাপ প্রভাব থাকলে তা কাটতে শুরু করে। ফলে রোগ-ব্যাধির প্রকোপ থেকে যেমন মুক্ত হয়, তেমনি পরিবারে সুখ এবং সমৃদ্ধির ছোঁয়া লাগতেও শুরু করে। শুধু তাই নয়, শুক্রের প্রভাবে বৈবাহিক জীবনও অনন্দে ভরে ওঠে। সেই সঙ্গে পরিবারের কারও সঙ্গে কোনও খারাপ কোনও ঘটনা ঘটার আশঙ্কাও যায় কমে।সুখে-শান্তিতে থাকতে প্রতি শুক্রবার উপোস করে মায়ের ব্রত করতে ভুলবেন না যেন!

 

ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ইচ্ছা পূর হয়:

শাস্ত্রে এমনটা বলা হয়েছে যে প্রতি শুক্রবার সন্তোষী মায়ের অরাধনা করলে দেবী এতটাই প্রসন্ন হন যে স্বয়ং ভাগ্যদেবী আপনার সঙ্গী হয়ে ওঠে। ফলে মনের ভিতরে জমতে থাকা ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর ইচ্ছা পূরণ হতে শুরু করে। আর এমনটা যখন হয় তখন জীবনের সামগ্রিক চিত্র যে বদলে যায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে!

 

সন্তোষী রূপে দূর্গা নামে মেলে  বিপদ থেকে মুক্তিঃ

 

বীজ মন্ত্রঃ

ওঁ সাং মাতা সন্তোষী

 

জীবন দারিদ্র্যে জর্জরিত বা পারিবারিক কলহ রাতের ঘুম কেড়ে নিয়ে থাকলে,চলার পথে যদি  বাধা আসতে থাকে তা হলে এই দুর্গা মন্ত্রীগুলি জপ করতে থাকলে সমস্ত বিপত্তি দূর হয়।পরিবারে সুখের আবির্ভাব ঘটে।

 

১.দারিদ্রতা এবং দুঃখ ইত্যাদি দূর করতেঃ

 

দুর্গে স্মৃতা হরসি ভীতিমশেষজন্তোঃ স্বস্থৈঃ স্মৃতা মতিমতীব শুভাং দদাসি।

দারিদ্র্যদুঃখভয়হারিণি কা ত্বদন্যা সর্বোপকারকরণায় সদার্দ্রচিত্তা।।

 

২.কলহ, অশান্তি দূর করে ভালোবাসা বৃদ্ধির জন্যঃ

 

ঘাং ঘীং ঘূং ঘূর্জটে। পত্নী বাং বীং বূং বাগধীশ্বরী।।

ক্রাং ক্রীং ক্রূং কালিকা দেবী। শাং শীং শূং মেং শুভং কুরু।।

 

৩.সুশীল এবং বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন স্ত্রীর প্রাপ্তির জন্যঃ

 

পত্নীং মনোরমাং দেহি মনোবৃত্তানুসাপিণীম্। তারিণীং দুর্গসংসারসাগরস্। কুলোদ্ধবাম্।।

 

৪.কোনও বিপত্তির হাত থেকে বাঁচতেঃ

 

শূলেন পাহি নো দেবী পাহি খড়গেন চাম্বিকো। ঘণ্টাস্বনেন নঃ পাহি চাপজ্যানিঃস্বনেন চ।।

 

৫.প্রসন্নতা প্রাপ্তির জন্যঃ

 

প্রণতানাং প্রসীদ ত্বং দেবী বিশ্ববার্তিহারিণি। ত্রৈলোক্যবাসিনামীড্যে লোকানাং বরদা ভবা।

 

৬.বাধা বিপত্তি দূর করতেঃ

 

‘শরণাগত দীনার্ত পরিত্রাণ-পরায়ণে।

সর্বস্যার্তিহরে দেবী নারায়ণী নমোহস্তুত’

 

৭.আইনের সমস্যা বা সম্পত্তি নিয়ে সমস্যা হলেঃ

 

সর্ব বাধা প্রশমনং ত্রৈলোক্যস্যাখিলেশ্বরী।

এবমেব ত্বয়া কার্যমন্মদ বৈরী বিনাশনম’।

 

৮)সৌভাগ্য লাভ ও সুস্থ থাকার জন্যঃ

 

‘দেহি সৌভাগ্যমারোগ্যং দেহি দেবী পরং সুখম।

রুপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি’।

 

৯.বিদ্যালাভ ও কর্ম লাভের জন্যঃ

 

‘বিদ্যাবন্তং যশস্বন্তং লক্ষীবন্তঞ্চ মাং কুরু।

রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি’।

 

১০.বিবাহের জন্যঃ

 

‘ভার্যাং মনোরমাং দেহি মনোবৃত্ত্যনুসারিণীম্।

রূপং দেহি জয়ং দেহি যশো দেহি দ্বিষো জহি’।

 

১১.জীবনে স্থিতিশীলতা আনার জন্যঃ

 

‘সৈব কালে মহামারী সৈব সৃষ্টির্ভবত্যজা।

স্থিতিং করোতি ভূতানাং সৈব কালে সনাতনী’।

 

১২.কর্মে উন্নতি ও কর্ম পাওয়ার জন্যঃ

 

জয়ন্তী মঙ্গলা কালী ভদ্রকালী কপালিনী |

দুর্গা শিবা ক্ষমা ধাত্রী স্বাহা স্বধা নমোস্তু তে ||

বীজ মন্ত্র : ঔঁ দূং দূর্গে দূর্গে রক্ষীনী স্বাহা হ্রীং দূর্গায় নমঃ

 

১৩.সব কাজে সাফল্য ও বিপদ থেকে মুক্তির জন্যঃ

 

‘ওঁ হ্রীং দুর্গে দুর্গেঃরক্ষণী রক্ষণী স্বাহা’।

 

সারাদিনে যতক্ষণ পারবেন জপ করুন। এর কোনও নির্দিষ্ট সংখ্যা নেই। অধিক জপে অধিক ফল।তবে স্নান করে ১০৮ বার করবেন।