আসলে নদিয়ার আঠারো শতকের ইতিহাসে কৃষ্ণচন্দ্র এমনই এক সর্বগ্রাসী চরিত্র যে, সেই সময় উল্লেখযোগ্য যাই ঘটেছে প্রায় সব কিছুর সঙ্গে নাম জড়িয়ে গিয়েছে তাঁর নাম। দুর্ভাগ্যক্রমে আমরা ভুলে গিয়েছি হিন্দু ব্রাহ্মণ্য সাকার আরাধনার আরও বড় পৃষ্ঠপোষক মহারাজা গিরীশকে। গিরীশচন্দ্রও কিন্তু শিল্পসংস্কৃতির কম বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন না। তাঁর আমলেই দিল্লির বিখ্যাত কালোয়াত কায়েম খাঁ আর তাঁর তিনপুত্র মিয়া খাঁ, হম্মু খাঁ ও দেলাওর খাঁ কৃষ্ণনগর রাজদরবারে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। এবং তাঁর সভাতেই রাজপরিকর হিসাবে প্রসিদ্ধি লাভ করেন রসরাজ কৃষ্ণকান্ত ভাদুড়ি।

১৭৭২ সালে রাজবাড়ির দেখাদেখি কৃষ্ণনগরের চাষাপাড়ায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রজারা জগদ্ধাত্রী পূজা শুরু করেন। বুড়িমার পূজা নামে পরিচিত এই পূজা শুরু হয়েছিল ঘটে ও পটে। প্রথম দিকে স্থানীয় গোয়ালারা দুধ বিক্রি করে এই পূজার আয়োজন করতেন। ১৭৯০ সাল নাগাদ গোবিন্দ ঘোষ ঘটপটের পরিবর্তে প্রতিমায় জগদ্ধাত্রী পূজার সূচনা করেন। এখানকার প্রতিমার বৈশিষ্ট্য হল প্রায় সাড়ে সাতশো ভরি সোনায় গয়নায় দেবীপ্রতিমার অলংকারসজ্জা। কৃষ্ণনগরের বাসিন্দাদের মতে এই দেবী অত্যন্ত জাগ্রতা; তার নিকট সকল মনোষ্কামনাই পূর্ণ হয়।

এছাড়া কৃষ্ণনগরের উল্লেখযোগ্য বারোয়ারি জগদ্ধাত্রী পূজাগুলি হল প্রীতি সম্মেলনী, বালকেশ্বরী, মালোপাড়া, হাতারপাড়া, উকিলপাড়া, ষষ্ঠীতলা, বউবাজার, নেদেরপাড়া, বাঘাডাঙা, পাত্রমার্কেট, কৃষ্ণনগর স্টেশন চত্বর, বেজিখালি, চকেরপাড়া, বাগদিপাড়া, মাঝেরপাড়া, ঘূর্ণি, হরিজনপল্লি, তাঁতিপাড়া, কালীনগর ইত্যাদি।

সোর্সঃ উইকিপিডিয়া ও ওয়ানইন্ডিয়া